সময়: শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘পাগল তত্ত্ব’ দিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারে ট্রাম্পের কৌশল

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১১:৩৯:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ জুলাই ২০২৫
  • / ১৩১ Time View

image 202639 1751830977

image 202639 1751830977

বিশ্ব রাজনীতির এক অদ্ভুত ও ভয়াবহ বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্রের  প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক নতুন মাত্রা এনে দিয়েছেন, যেটিকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা ব্যাখ্যা করছেন “Madman Theory” বা ‘পাগল তত্ত্ব’ হিসেবে। তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, বক্তব্য, আচরণ এবং পররাষ্ট্রনীতিতে এক অপ্রত্যাশিত ধারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যার ফলে কেবল মার্কিন প্রশাসন নয়, পুরো বিশ্ব রাজনীতি অস্থিরতা ও সংশয়ের মধ্যে রয়েছে।

ট্রাম্পের অননুমেয় আচরণ—তিনি কখন কী করবেন, কী বলবেন, কার প্রশংসা করবেন বা কাকে হুমকি দেবেন—তা আগাম বোঝা কঠিন। এই অনির্দেশ্য আচরণ কখনো কৌশলগত সুবিধা এনে দেয়, আবার কখনো বিশ্বব্যবস্থার স্থিতিশীলতা নষ্ট করে দেয়। তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে এই বৈশিষ্ট্য যেমন আলোচিত, তেমনি আশঙ্কারও জন্ম দিয়েছে।

ইরান ইস্যু ট্রাম্পের দ্বিমুখী বার্তা: কৌশল না ছলনা?

গত মাসে সাংবাদিকরা যখন ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করলেন, তিনি কি ইরানে হামলার পরিকল্পনায় ইসরায়েলের পাশে থাকবেন, ট্রাম্প উত্তর দেন,

“আমি এটা করতে পারি। আবার আমি নাও করতে পারি। আমি কী করব, তা কেউই জানে না।”

এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি কেবল তার প্রতিপক্ষ ইরানকে নয়, বরং গোটা বিশ্বকে বার্তা দিলেন—তিনি সব ধরনের আচরণের জন্য প্রস্তুত, এবং তাঁর সিদ্ধান্ত রাতারাতি বদলাতে পারে। ট্রাম্প এরপর ইঙ্গিত দেন, দুই সপ্তাহ হামলা স্থগিত থাকবে আলোচনা শুরুর সুযোগ দিতে। কিন্তু সেই সময়সীমার মধ্যেই হামলা চালানো হয়, যা যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।

পাগল তত্ত্বকি আদতেই একটি কৌশল?

এই আচরণকে অনেকেই মানসিক অস্থিরতার বহিঃপ্রকাশ মনে করলেও, রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা বলছেন এটি পূর্বনির্ধারিত রাজনৈতিক কৌশল। ‘Madman Theory’ বা ‘খ্যাপাটে তত্ত্ব’ প্রথম আলোচনায় আসে রিচার্ড নিক্সনের আমলে। তখন ধারণা ছিল, সোভিয়েত ইউনিয়ন ও ভিয়েতনাম যেন বিশ্বাস করে নিক্সন এতটাই অনিশ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ, যে তাকে উস্কানি দিলে সব শেষ হয়ে যাবে। ট্রাম্প সেই তত্ত্বকেই আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেছেন—এবং রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন।

মিত্রদের ওপর চাপ, শত্রুদের সঙ্গে নরম ব্যবহার

বিবিসির বিশ্লেষক অ্যালেন লিটল তার লেখায় তুলে ধরেছেন, কীভাবে ট্রাম্প কথার আক্রমণ, অপমান এবং হঠাৎ প্রশংসার কৌশল ব্যবহার করে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করছেন। উদাহরণস্বরূপ, ট্রাম্প কানাডাকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম রাজ্য’ হিসেবে অপমান করেন, অথচ রাশিয়ার পুতিনকে কূটনৈতিক সৌজন্যের বাইরে গিয়েও ঘনিষ্ঠ করেন। তাঁর এই স্ববিরোধী ব্যবহার অনেক সময় মিত্রদেরকে বিভ্রান্ত এবং নিরুৎসাহিত করে তোলে।

ন্যাটো সনদের ৫ম অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, যেকোনো সদস্য আক্রান্ত হলে অন্য সদস্যরা তার পাশে দাঁড়াবে—এটি ন্যাটোর মূল ভিত্তি। কিন্তু ট্রাম্প বারবার এই প্রতিশ্রুতি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেন ওয়ালেস এই বিষয়ে বলেন,

“(ন্যাটো সনদের) ৫ অনুচ্ছেদ এখন লাইফ সাপোর্টে আছে।”

ট্রাম্পের তোষামোদ কৌশল ইউরোপের আত্মসমর্পণ

ট্রাম্পকে খুশি রাখতে ইউরোপীয় নেতারা তোষামোদে লিপ্ত হয়েছেন, এমন উদাহরণও কম নেই। নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুত্তে তাঁকে পাঠানো এক খুদে বার্তায় লিখেছিলেন,

“ইরানের বিরুদ্ধে আপনার দৃঢ় পদক্ষেপের জন্য অভিনন্দন ও ধন্যবাদ।”

ট্রাম্প এই বার্তা প্রকাশ্যে আনেন, যা আবার প্রমাণ করে—তাঁর অনির্দেশ্য আচরণ কেবল প্রতিপক্ষ নয়, মিত্রদেরও রাজনৈতিক সুবিধা হাসিলের জন্য ব্যবহার করা হয়। এরপর যুক্তরাজ্য তাদের জিডিপির ২.৫% প্রতিরক্ষা বাজেট থেকে ৫% পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা দেয়, যা ট্রাম্পের চাপ প্রয়োগেরই ফল।

ইউক্রেন পুতিন প্রসঙ্গে ট্রাম্পের দ্বিচারিতা

একদিকে তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিকে তিরস্কার করেন ও প্রতিরক্ষা চুক্তির বদলে খনিজ সম্পদের সুবিধা দাবি করেন, অন্যদিকে রাশিয়ার পুতিনকে নিয়ে মুগ্ধতা প্রকাশ করেন। পুতিন অবশ্য ট্রাম্পের হুমকি বা স্নেহ—দুটোকেই কৌশলগতভাবে পাত্তা দেন না। একটি ফোনালাপের পর ট্রাম্প বলেন,

“পুতিন এখনো যুদ্ধ থামাতে প্রস্তুত নন, আমি হতাশ।”

এতে বোঝা যায়, এই কৌশল সবসময় কাজ করে না।

বিশ্বাসযোগ্যতার সংকট: কৌশলের বিরুদ্ধে কৌশল?

ট্রাম্পের এই অনিশ্চয়তা ও স্ববিরোধের কৌশল তার বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। দিনশেষে বিশ্ব নেতারা এমন কারো সঙ্গে চুক্তি করতে চান না, যার সিদ্ধান্ত বদলানো যায় খুব সহজে। এমন একজন নেতার সঙ্গে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্থায়ী হয় না—এতে ভেস্তে যায় আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাও।

ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক জুলি নরম্যান বলেন,

“যদি মিত্ররা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি বিশ্বাস না করে, তারা বিকল্প খুঁজে নেবে। ট্রাম্পের ‘একা চলার’ নীতি যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বমঞ্চে একা করে দিতে পারে।”

বিশ্ববিন্যাসে এক খেয়ালি মোড়

ডোনাল্ড ট্রাম্প হয়তো নিজেকে একজন সফল কৌশলবিদ হিসেবে দেখাতে চান, যিনি নিজের অনিশ্চয়তাকে শক্তিতে পরিণত করেছেন। কিন্তু এই তত্ত্ব—যা অনেকটা ‘পাগলের মতো আচরণ করে প্রতিপক্ষকে ভয় দেখানোর’ কৌশল—আন্তর্জাতিক কূটনীতির ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ এবং প্রায়শই উল্টো ফল বয়ে আনে। পরিণামে বিশ্ব রাজনীতি এক অদ্ভুত, অবিশ্বাসভাজন ও অনির্দেশ্য পরিবেশে দাঁড়িয়ে যায়।

এখন প্রশ্ন একটাই—ট্রাম্পের এই তত্ত্বে যদি যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের আস্থা হারিয়ে যায়, তবে আদৌ কি এটি আমেরিকাকে ‘গ্রেট’ করে তুলবে, নাকি একা করে ফেলবে?

তথ্যসূত্র: বিবিসি, নিউ ইয়র্ক টাইমস, রয়টার্স, দ্য ইকোনমিস্ট, UCL Political Science Faculty.

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

‘পাগল তত্ত্ব’ দিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারে ট্রাম্পের কৌশল

Update Time : ১১:৩৯:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ জুলাই ২০২৫

image 202639 1751830977

বিশ্ব রাজনীতির এক অদ্ভুত ও ভয়াবহ বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্রের  প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক নতুন মাত্রা এনে দিয়েছেন, যেটিকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা ব্যাখ্যা করছেন “Madman Theory” বা ‘পাগল তত্ত্ব’ হিসেবে। তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, বক্তব্য, আচরণ এবং পররাষ্ট্রনীতিতে এক অপ্রত্যাশিত ধারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যার ফলে কেবল মার্কিন প্রশাসন নয়, পুরো বিশ্ব রাজনীতি অস্থিরতা ও সংশয়ের মধ্যে রয়েছে।

ট্রাম্পের অননুমেয় আচরণ—তিনি কখন কী করবেন, কী বলবেন, কার প্রশংসা করবেন বা কাকে হুমকি দেবেন—তা আগাম বোঝা কঠিন। এই অনির্দেশ্য আচরণ কখনো কৌশলগত সুবিধা এনে দেয়, আবার কখনো বিশ্বব্যবস্থার স্থিতিশীলতা নষ্ট করে দেয়। তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে এই বৈশিষ্ট্য যেমন আলোচিত, তেমনি আশঙ্কারও জন্ম দিয়েছে।

ইরান ইস্যু ট্রাম্পের দ্বিমুখী বার্তা: কৌশল না ছলনা?

গত মাসে সাংবাদিকরা যখন ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করলেন, তিনি কি ইরানে হামলার পরিকল্পনায় ইসরায়েলের পাশে থাকবেন, ট্রাম্প উত্তর দেন,

“আমি এটা করতে পারি। আবার আমি নাও করতে পারি। আমি কী করব, তা কেউই জানে না।”

এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি কেবল তার প্রতিপক্ষ ইরানকে নয়, বরং গোটা বিশ্বকে বার্তা দিলেন—তিনি সব ধরনের আচরণের জন্য প্রস্তুত, এবং তাঁর সিদ্ধান্ত রাতারাতি বদলাতে পারে। ট্রাম্প এরপর ইঙ্গিত দেন, দুই সপ্তাহ হামলা স্থগিত থাকবে আলোচনা শুরুর সুযোগ দিতে। কিন্তু সেই সময়সীমার মধ্যেই হামলা চালানো হয়, যা যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।

পাগল তত্ত্বকি আদতেই একটি কৌশল?

এই আচরণকে অনেকেই মানসিক অস্থিরতার বহিঃপ্রকাশ মনে করলেও, রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা বলছেন এটি পূর্বনির্ধারিত রাজনৈতিক কৌশল। ‘Madman Theory’ বা ‘খ্যাপাটে তত্ত্ব’ প্রথম আলোচনায় আসে রিচার্ড নিক্সনের আমলে। তখন ধারণা ছিল, সোভিয়েত ইউনিয়ন ও ভিয়েতনাম যেন বিশ্বাস করে নিক্সন এতটাই অনিশ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ, যে তাকে উস্কানি দিলে সব শেষ হয়ে যাবে। ট্রাম্প সেই তত্ত্বকেই আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেছেন—এবং রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন।

মিত্রদের ওপর চাপ, শত্রুদের সঙ্গে নরম ব্যবহার

বিবিসির বিশ্লেষক অ্যালেন লিটল তার লেখায় তুলে ধরেছেন, কীভাবে ট্রাম্প কথার আক্রমণ, অপমান এবং হঠাৎ প্রশংসার কৌশল ব্যবহার করে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করছেন। উদাহরণস্বরূপ, ট্রাম্প কানাডাকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম রাজ্য’ হিসেবে অপমান করেন, অথচ রাশিয়ার পুতিনকে কূটনৈতিক সৌজন্যের বাইরে গিয়েও ঘনিষ্ঠ করেন। তাঁর এই স্ববিরোধী ব্যবহার অনেক সময় মিত্রদেরকে বিভ্রান্ত এবং নিরুৎসাহিত করে তোলে।

ন্যাটো সনদের ৫ম অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, যেকোনো সদস্য আক্রান্ত হলে অন্য সদস্যরা তার পাশে দাঁড়াবে—এটি ন্যাটোর মূল ভিত্তি। কিন্তু ট্রাম্প বারবার এই প্রতিশ্রুতি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেন ওয়ালেস এই বিষয়ে বলেন,

“(ন্যাটো সনদের) ৫ অনুচ্ছেদ এখন লাইফ সাপোর্টে আছে।”

ট্রাম্পের তোষামোদ কৌশল ইউরোপের আত্মসমর্পণ

ট্রাম্পকে খুশি রাখতে ইউরোপীয় নেতারা তোষামোদে লিপ্ত হয়েছেন, এমন উদাহরণও কম নেই। নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুত্তে তাঁকে পাঠানো এক খুদে বার্তায় লিখেছিলেন,

“ইরানের বিরুদ্ধে আপনার দৃঢ় পদক্ষেপের জন্য অভিনন্দন ও ধন্যবাদ।”

ট্রাম্প এই বার্তা প্রকাশ্যে আনেন, যা আবার প্রমাণ করে—তাঁর অনির্দেশ্য আচরণ কেবল প্রতিপক্ষ নয়, মিত্রদেরও রাজনৈতিক সুবিধা হাসিলের জন্য ব্যবহার করা হয়। এরপর যুক্তরাজ্য তাদের জিডিপির ২.৫% প্রতিরক্ষা বাজেট থেকে ৫% পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা দেয়, যা ট্রাম্পের চাপ প্রয়োগেরই ফল।

ইউক্রেন পুতিন প্রসঙ্গে ট্রাম্পের দ্বিচারিতা

একদিকে তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিকে তিরস্কার করেন ও প্রতিরক্ষা চুক্তির বদলে খনিজ সম্পদের সুবিধা দাবি করেন, অন্যদিকে রাশিয়ার পুতিনকে নিয়ে মুগ্ধতা প্রকাশ করেন। পুতিন অবশ্য ট্রাম্পের হুমকি বা স্নেহ—দুটোকেই কৌশলগতভাবে পাত্তা দেন না। একটি ফোনালাপের পর ট্রাম্প বলেন,

“পুতিন এখনো যুদ্ধ থামাতে প্রস্তুত নন, আমি হতাশ।”

এতে বোঝা যায়, এই কৌশল সবসময় কাজ করে না।

বিশ্বাসযোগ্যতার সংকট: কৌশলের বিরুদ্ধে কৌশল?

ট্রাম্পের এই অনিশ্চয়তা ও স্ববিরোধের কৌশল তার বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। দিনশেষে বিশ্ব নেতারা এমন কারো সঙ্গে চুক্তি করতে চান না, যার সিদ্ধান্ত বদলানো যায় খুব সহজে। এমন একজন নেতার সঙ্গে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্থায়ী হয় না—এতে ভেস্তে যায় আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাও।

ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক জুলি নরম্যান বলেন,

“যদি মিত্ররা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি বিশ্বাস না করে, তারা বিকল্প খুঁজে নেবে। ট্রাম্পের ‘একা চলার’ নীতি যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বমঞ্চে একা করে দিতে পারে।”

বিশ্ববিন্যাসে এক খেয়ালি মোড়

ডোনাল্ড ট্রাম্প হয়তো নিজেকে একজন সফল কৌশলবিদ হিসেবে দেখাতে চান, যিনি নিজের অনিশ্চয়তাকে শক্তিতে পরিণত করেছেন। কিন্তু এই তত্ত্ব—যা অনেকটা ‘পাগলের মতো আচরণ করে প্রতিপক্ষকে ভয় দেখানোর’ কৌশল—আন্তর্জাতিক কূটনীতির ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ এবং প্রায়শই উল্টো ফল বয়ে আনে। পরিণামে বিশ্ব রাজনীতি এক অদ্ভুত, অবিশ্বাসভাজন ও অনির্দেশ্য পরিবেশে দাঁড়িয়ে যায়।

এখন প্রশ্ন একটাই—ট্রাম্পের এই তত্ত্বে যদি যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের আস্থা হারিয়ে যায়, তবে আদৌ কি এটি আমেরিকাকে ‘গ্রেট’ করে তুলবে, নাকি একা করে ফেলবে?

তথ্যসূত্র: বিবিসি, নিউ ইয়র্ক টাইমস, রয়টার্স, দ্য ইকোনমিস্ট, UCL Political Science Faculty.