সজীব ওয়াজেদ জয়ের বক্তব্যে জুলকারনাইনের তীব্র প্রতিক্রিয়া
- Update Time : ০৬:১৬:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ জুলাই ২০২৫
- / ১৮৮ Time View

সজীব ওয়াজেদ জয়ের বক্তব্যে জুলকারনাইনের তীব্র প্রতিক্রিয়া: “জুলাই আমাদের গর্ব, জয়ের কথায় প্রতারণা ও ইতিহাস বিকৃতি”
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে ঘিরে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন খ্যাতিমান অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের। ১ জুলাই বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি সজীব ওয়াজেদের বক্তব্যকে ‘রাজনৈতিক প্রতারণা’, ‘ইতিহাস বিকৃতি’ এবং ‘জাতিগত স্মৃতিবিকৃতি’র এক জঘন্য চেষ্টা হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
“জুলাই দাঙ্গা নয়, তা ছিল সাহসিকতার প্রহর”
সজীব ওয়াজেদ জয় ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানকে “জুলাই দাঙ্গা” হিসেবে অভিহিত করায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন জুলকারনাইন। তিনি লেখেন,
“এটি শুধু ইতিহাস বিকৃতি নয়, বরং জাতির সংগ্রামী আত্মপরিচয়কে মুছে ফেলার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা। তিনি যেটিকে ‘সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায়’ বলছেন, সেটিই ছিল স্বৈরাচারবিরোধী লড়াইয়ের দীপ্ততম অধ্যায়—বাংলাদেশের সাহস, মর্যাদা ও গণতন্ত্রের শপথ।”
জুলকারনাইনের ভাষায়, সেই সময় ছাত্র, শ্রমিক, পেশাজীবী এবং সাধারণ মানুষ সকলেই ঐক্যবদ্ধ হয়ে রুখে দাঁড়িয়েছিল ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন,
“যে অভ্যুত্থানে ১৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, শত শত তরুণ চিরদিনের জন্য অঙ্গহানির শিকার হয়েছে, সেই আন্দোলনকে দাঙ্গা বলাটা শহীদদের রক্তের অপমান।”
“জয় বাস করেন প্যারালাল রিয়ালিটিতে”
জয়ের বক্তব্যে ব্যবহৃত সহানুভূতি ও ক্ষমার বার্তাকে ‘কৃত্রিম’ ও ‘রাজনৈতিক প্রতারণা’ আখ্যা দিয়ে জুলকারনাইন প্রশ্ন তোলেন,
“এই মানুষটি কোন প্যারালাল পৃথিবীতে বাস করেন? যখন মা তাদের সন্তান হারিয়েছেন, তরুণরা দৃষ্টিশক্তি ও অঙ্গ হারিয়ে চিরজীবনের যন্ত্রণা বয়ে বেড়াচ্ছেন—তখন তিনি সহানুভূতির কথা বলছেন?”
জয়ের বক্তব্যের মাধ্যমে প্রতিবাদীদের ‘বিভ্রান্ত’ ও ‘ভুলপথে পরিচালিত’ হিসেবে চিত্রিত করার প্রচেষ্টাকে ‘স্বৈরাচারীদের চেনা ভাষা’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
“আওয়ামী
আওয়ামী লীগের গত ১৬ বছরের শাসনামলকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন জুলকারনাইন। তিনি বলেন,
“এই দল তিনটি কারচুপির নির্বাচন করেছে। একসময় পাকিস্তানি সেনাশাসকরাও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন দিয়েছিল। অথচ এখনকার আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে ভোট ডাকাতি করেছে, গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে, বিরোধী কণ্ঠস্বর গুম করেছে এবং ‘আয়নাঘর’ নামে ভয়াবহ নির্যাতনকেন্দ্র চালিয়েছে, যা এক প্রকার গোপন গুয়ানতানামো বে।”
তিনি আরও বলেন, “তারা এখন প্রবাসে বসে গণতন্ত্র শেখায়। এটা এক ধরণের ইচ্ছাকৃত অস্বীকার—কারণ জুলাই ২০২৪ তাদের শাসনের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিল।”
“জুলাই প্রতিরোধের মাস, নয় অনুতাপের”
জুলকারনাইন তার প্রতিক্রিয়ার শেষাংশে স্পষ্ট ভাষায় বলেন,
“জয় একে দাঙ্গা বলতেই পারেন। কিন্তু আমরা একে বলি প্রতিরোধ—একটি জাতির বীরত্বগাথা। একটি সময়, যখন সত্য মিথ্যার চেয়েও উচ্চকণ্ঠে উঠেছিল।”
তিনি সজীব ওয়াজেদ জয়ের উদ্দেশ্যে বলেন,
“বাংলাদেশের মানুষের আর নতুন উপলব্ধির দরকার নেই। জুলাই আমাদের শ্রেষ্ঠ উপলব্ধির প্রতীক। এখন আমাদের প্রয়োজন বিচারের—তাদের বিচার, যারা হত্যা করেছে, ভোট চুরি করেছে, এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন করে জাতিকে নিঃস্ব করেছে। যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ এমন স্টিম রোলার চালাতে সাহস না করে।”
জুলকারনাইন সায়েরের এই মন্তব্য স্পষ্টতই একটি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার, ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা এবং শহীদদের আত্মত্যাগকে ছোট করে দেখানোর প্রতিবাদ। তার ভাষায়,
“জুলাই আমাদের অনুতাপের নয়, গর্বের প্রতীক। এটি বিদ্রোহের স্মারক—যেখানে মানুষের আত্মত্যাগই জাতিকে জাগিয়ে তুলেছে।”
এই প্রতিক্রিয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন করে বিতর্ক ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রশ্নকে সামনে এনেছে।










