নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের হুঁশিয়ারি কেন দিলেন ইলন মাস্ক?
- Update Time : ১০:৩০:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ জুলাই ২০২৫
- / ১৫৩ Time View

নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের হুঁশিয়ারি কেন দিলেন ইলন মাস্ক?
ট্রাম্পের বিল নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে মাস্ক বললেন—‘এটাই যদি আমার শেষ কাজ হয়, তাও তাদের হারিয়ে দেব’
যুক্তরাষ্ট্রের বিতর্কিত কর ও ব্যয় সংকোচন বিল ঘিরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রিপাবলিকানদের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তি ইলন মাস্ক। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, এই বিল পাস হলে তিনি “আমেরিকা পার্টি” নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করবেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (পূর্বতন টুইটার) একাধিক পোস্টে তিনি নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং রিপাবলিকানদের বিরুদ্ধে সরাসরি রাজনৈতিক প্রতিরোধ গড়ার ঘোষণা দেন।
কেন এত ক্ষুব্ধ মাস্ক?
মূলত, ট্রাম্পের সমর্থনে প্রস্তাবিত “বিগ, বিউটিফুল বিল”—যেটি যুক্তরাষ্ট্রের করছাড় ও ব্যয় সংকোচনের নামে পেশ করা হলেও, বাস্তবে এটি দেশটির জাতীয় ঋণকে আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে দাবি করেছেন মাস্ক। তার মতে, এই বিল অনুমোদিত হলে যুক্তরাষ্ট্রে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেট ঘাটতি তৈরি হবে, যার দায়ে সাধারণ জনগণকে ভুগতে হবে।
তিনি এক পোস্টে লেখেন,
“যেসব কংগ্রেস সদস্য সরকারের ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছেন, অথচ এখন ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ঋণ বৃদ্ধির প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিচ্ছেন—তাদের উচিত লজ্জায় মাথা নিচু করে থাকা।”
মাস্ক আরও বলেন,
“আমি যদি এই পৃথিবীতে আমার শেষ কাজ হিসেবেও কিছু করি, তাও নিশ্চিত করব যে তারা যেন আগামী বছর প্রাথমিক নির্বাচনে হেরে যান।”
‘আমেরিকা পার্টি’ গঠনের হুঁশিয়ারি
এক্সে দেওয়া পরবর্তী পোস্টে মাস্ক বলেন,
“এই অযৌক্তিক বিল পাস হলে পরদিনই ‘আমেরিকা পার্টি’ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করব।”
মাস্কের মতে, যুক্তরাষ্ট্র এখন কার্যত একটি একদলীয় শাসনের আওতায় চলে গেছে, যেখানে রিপাবলিকান এবং ডেমোক্র্যাট উভয়েই মূলত একই শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব করছে। সাধারণ মানুষের চাওয়া-পাওয়া বা প্রকৃত সমস্যা কেউই গুরুত্ব দিচ্ছে না।
তিনি বলেন,
“এখন সময় এসেছে এমন একটি নতুন রাজনৈতিক দলের, যারা মানুষের প্রকৃত কণ্ঠস্বর হবে—একটি দল যারা নাগরিকদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, সীমান্ত নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেবে।”
ট্রাম্পের সঙ্গে প্রকাশ্য বিরোধ
গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই এই বিল নিয়ে ট্রাম্প ও মাস্কের মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসে। মাস্কের মতে, প্রস্তাবিত বিলটি দেশকে আরও গভীর ঋণের মধ্যে ঠেলে দেবে এবং ‘পাগলাটে খরচের’ কারণে ঋণের পরিমাণ রেকর্ড ৫ লাখ কোটি ডলারে পৌঁছাবে। তিনি তীব্র ব্যঙ্গ করে বলেন,
“আমরা এখন ‘পর্কি পিগ পার্টি’র শাসনে বসবাস করছি।”
এ বক্তব্যের মাধ্যমে স্পষ্ট যে মাস্ক শুধু রিপাবলিকানদের নয়, গোটা রাজনৈতিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে একপ্রকার বিদ্রোহ ঘোষণা করছেন।
মাস্কের রাজনৈতিক ভূমিকা ও ব্যয়
২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্প ও রিপাবলিকানদের সমর্থনে ইলন মাস্ক ইতিমধ্যেই ২৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার ব্যয় করেছেন। অথচ সম্প্রতি তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক খাতে খরচ কমিয়ে দেবেন। তার ভাষায়,
“আমি যথেষ্ট করেছি।”
তবে এখন তার কণ্ঠে স্পষ্ট হতাশা ও প্রতিশোধস্পৃহা—যা ইঙ্গিত দেয়, প্রয়োজন হলে তিনি আবারও রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় হয়ে উঠতে প্রস্তুত।
সীমান্তনীতি ও অভিবাসন ইস্যু
ইলন মাস্ক দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত কঠোরকরণ, অবৈধ অভিবাসীদের ফেরত পাঠানো এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন—যা ছিল ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নীতি। তবে সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক ও ঘরোয়া খরচসংক্রান্ত প্রস্তাবগুলিকে কেন্দ্র করে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে তার সম্পর্ক দৃশ্যত খারাপের দিকে যাচ্ছে।
ইলন মাস্কের হুঁশিয়ারি কেবল একজন শিল্পপতির রাগান্বিত প্রতিক্রিয়া নয়—এটি একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা। তিনি শুধু প্রতিবাদ জানাচ্ছেন না, বরং যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান রাজনৈতিক কাঠামোর বিরুদ্ধে বিকল্প শক্তি গড়ার প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিচ্ছেন। যদি সত্যিই “আমেরিকা পার্টি” গঠিত হয়, তবে সেটি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি করতে পারে—যার প্রভাব শুধু অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও প্রযুক্তিনীতিতেও পড়তে পারে।
সূত্র: আল-জাজিরা, এক্স (Twitter), যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেস ডেটা










