সময়: রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আওয়ামী সিন্ডিকেটের ছত্রছায়ায় এনবিআরের শাটডাউন: অর্থনীতির ধ্বংসযজ্ঞের অশনি সংকেত

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৩:১৭:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ জুন ২০২৫
  • / ৩৩৫ Time View

13 20250628234236

13 20250628234236

গত দেড় দশকে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে দুর্বল করে দেওয়ার পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে দুর্নীতি, লাগামহীন অর্থপাচার এবং রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা একটি প্রভাবশালী মাফিয়া চক্র। অর্থনীতিবিদদের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, এই অবক্ষয়ের কেন্দ্রবিন্দু ছিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। দীর্ঘ সময় ধরে এটি ক্ষমতাসীনদের ঘনিষ্ঠ কিছু সুবিধাভোগী কর্মকর্তাদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ছিল। ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বাধীন শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনার শাসনামলে প্রতি বছর গড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলার করে প্রায় ২৪০ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে, যার সমপরিমাণ টাকা বর্তমানে প্রায় ২৮ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকার বেশি। এই পাচারের বড় অংশে এনবিআরের কিছু দুর্নীতিপরায়ণ কর্মকর্তা এবং দেশের শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠীগুলোর প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা ছিল।

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এসে এনবিআরের এই দুর্নীতিবান্ধব কাঠামো ভাঙার উদ্যোগ নেয়। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রস্তাবিত শর্ত অনুযায়ী রাজস্বনীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনাকে দুটি পৃথক বিভাগে বিভাজন করার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে সরকার। এতে করে বহু বছর ধরে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় টিকে থাকা দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা ও তাদের মদদপুষ্ট ব্যবসায়ীদের স্বার্থে বড় ধাক্কা লাগে। তাদের আশঙ্কা, এই সংস্কার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জবাবদিহিতা শুরু হলে একে একে সবাই বিচারের মুখোমুখি হবেন। এই ভীত থেকেই তাঁরা এনবিআরকে অচল করে দেওয়ার মাধ্যমে গোটা অর্থনীতিকে জিম্মি করে তোলার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন।

বর্তমানে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ও ‘মার্চ টু এনবিআর’ কর্মসূচির নামে এনবিআরের অফিস কার্যক্রম একপ্রকার সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এর ফলে প্রতিদিন প্রায় ২,৫০০ কোটি টাকার আমদানি-রফতানি কার্যক্রমে মারাত্মক বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। শিল্পকারখানায় কাঁচামাল সময়মতো না পৌঁছানোয় উৎপাদন থেমে যাচ্ছে, বিশেষ করে পোশাক ও চামড়া খাতে দেখা দিচ্ছে বিলম্ব। বিদেশি ক্রেতারা অর্ডার বাতিল করছেন, আর বন্দরে পড়ে থাকা কনটেইনারগুলোতে থাকা পণ্য বৃষ্টিতে বা তাপদাহে নষ্ট হচ্ছে। ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, জুন মাস বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সময়। এই সময়ে এনবিআরের অচলাবস্থা সৃষ্টি করা মানে সরাসরি অর্থনীতিকে ধ্বংসের চক্রান্ত।

চমকপ্রদভাবে দেখা যাচ্ছে, যারা এই আন্দোলনের নেতৃত্বে রয়েছেন, তাদের অধিকাংশই পূর্ববর্তী সরকারের ঘনিষ্ঠ, যারা এনবিআরের ভেতরে পদোন্নতি, বদলি ও আর্থিক সুবিধা হাতিয়ে নিয়ে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। বহুদিন ধরেই তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও তারা বহালতবিয়তে ছিলেন এবং এখন আন্দোলনের নামে রাষ্ট্রীয় অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যকে জিম্মি করে রেখেছেন।

অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, এই আন্দোলনের পেছনে কিছু সুবিধাভোগী রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীর প্রত্যক্ষ মদদ রয়েছে, যারা নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় এনবিআর সংস্কারে বাধা দিচ্ছে। অথচ ব্যবসায়ী মহল, গবেষক এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই এনবিআরের কাঠামোগত সংস্কারের পক্ষে। কিন্তু যখনই এনবিআরের সংস্কার কিছু অসাধু কর্মকর্তার ব্যক্তি-স্বার্থে আঘাত হানে, তখনই তারা আন্দোলনের নামে সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়।

ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, এটি কোনো সাধারণ আন্দোলন নয়—এটি অর্থনৈতিক নাশকতা। এনবিআরের সংস্কার এখন সময়ের দাবি, এবং এর বিলম্ব জাতিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নেতিবাচক বার্তা দেবে। তাদের দাবি, এনবিআরের সিন্ডিকেট ভেঙে ফেলতে হবে, জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে, এবং যারা এই আন্দোলনের নামে রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি করছে, তাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী বলেছেন, এনবিআরের বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মবিরতির ফলে দেশের আমদানি-রফতানি কার্যক্রম ভয়াবহ ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। সময়মতো কাঁচামাল খালাস করতে না পারায় উৎপাদনে বিলম্ব হচ্ছে, রফতানিতে লিড টাইম বেড়ে যাচ্ছে, আর পোর্টে পড়ে থাকা পণ্য নষ্ট হচ্ছে। কিছু বিদেশি ক্রেতা ইতোমধ্যে অর্ডার বাতিলের হুমকি দিয়েছেন। এতে করে ব্যবসায়িক ব্যয় বহুগুণে বেড়ে গেছে।

লেদার অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বলেছেন, কোনো দেশে যুদ্ধ ছাড়া কাস্টমস বন্ধ থাকে—এমনটা শোনা যায় না। আন্তর্জাতিক বাজার বাংলাদেশের জন্য অপেক্ষা করবে না। তিনি বলেন, আমরা এনবিআরের সংস্কার চাই, তবে এমন অচলাবস্থা আমাদের ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

অন্যদিকে, এনবিআর ইতোমধ্যে অফিসে অনুপস্থিত বা দেরিতে উপস্থিত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সতর্কতা জারি করেছে। তবে অধিকাংশ কর্মকর্তা সেই আদেশ অমান্য করে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।

এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান বলেছেন, চলমান আন্দোলনের ফলে রাজস্ব আদায়ে কিছুটা বিঘ্ন ঘটছে। তবে তিনি আশাবাদী, সংস্কার, আইন কিংবা আন্দোলন যাই হোক, তা যেন দেশের স্বার্থে হয়, কেবল ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য নয়।

প্রসঙ্গত, গত ১২ মে সরকার এনবিআর বিলুপ্ত করে রাজস্বনীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নামে দুটি বিভাগ গঠনের অধ্যাদেশ জারি করে। যদিও তা সাময়িকভাবে স্থগিত রয়েছে, এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ ২৮ জুন থেকে ট্যাক্স, কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের দফতরে লাগাতার ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ এবং ‘শান্তিপূর্ণ মার্চ টু এনবিআর’ কর্মসূচি পালন করছে। এর ফলে বন্দরে পণ্য খালাস কার্যক্রম এবং অফিসিয়াল কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, কর্মসূচি আজ রোববারও চলবে। ব্যবসায়ী মহল দ্রুত এই সংকটের স্থায়ী সমাধান চাচ্ছে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আওয়ামী সিন্ডিকেটের ছত্রছায়ায় এনবিআরের শাটডাউন: অর্থনীতির ধ্বংসযজ্ঞের অশনি সংকেত

Update Time : ০৩:১৭:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ জুন ২০২৫

13 20250628234236

গত দেড় দশকে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে দুর্বল করে দেওয়ার পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে দুর্নীতি, লাগামহীন অর্থপাচার এবং রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা একটি প্রভাবশালী মাফিয়া চক্র। অর্থনীতিবিদদের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, এই অবক্ষয়ের কেন্দ্রবিন্দু ছিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। দীর্ঘ সময় ধরে এটি ক্ষমতাসীনদের ঘনিষ্ঠ কিছু সুবিধাভোগী কর্মকর্তাদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ছিল। ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বাধীন শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনার শাসনামলে প্রতি বছর গড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলার করে প্রায় ২৪০ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে, যার সমপরিমাণ টাকা বর্তমানে প্রায় ২৮ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকার বেশি। এই পাচারের বড় অংশে এনবিআরের কিছু দুর্নীতিপরায়ণ কর্মকর্তা এবং দেশের শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠীগুলোর প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা ছিল।

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এসে এনবিআরের এই দুর্নীতিবান্ধব কাঠামো ভাঙার উদ্যোগ নেয়। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রস্তাবিত শর্ত অনুযায়ী রাজস্বনীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনাকে দুটি পৃথক বিভাগে বিভাজন করার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে সরকার। এতে করে বহু বছর ধরে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় টিকে থাকা দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা ও তাদের মদদপুষ্ট ব্যবসায়ীদের স্বার্থে বড় ধাক্কা লাগে। তাদের আশঙ্কা, এই সংস্কার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জবাবদিহিতা শুরু হলে একে একে সবাই বিচারের মুখোমুখি হবেন। এই ভীত থেকেই তাঁরা এনবিআরকে অচল করে দেওয়ার মাধ্যমে গোটা অর্থনীতিকে জিম্মি করে তোলার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন।

বর্তমানে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ও ‘মার্চ টু এনবিআর’ কর্মসূচির নামে এনবিআরের অফিস কার্যক্রম একপ্রকার সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এর ফলে প্রতিদিন প্রায় ২,৫০০ কোটি টাকার আমদানি-রফতানি কার্যক্রমে মারাত্মক বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। শিল্পকারখানায় কাঁচামাল সময়মতো না পৌঁছানোয় উৎপাদন থেমে যাচ্ছে, বিশেষ করে পোশাক ও চামড়া খাতে দেখা দিচ্ছে বিলম্ব। বিদেশি ক্রেতারা অর্ডার বাতিল করছেন, আর বন্দরে পড়ে থাকা কনটেইনারগুলোতে থাকা পণ্য বৃষ্টিতে বা তাপদাহে নষ্ট হচ্ছে। ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, জুন মাস বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সময়। এই সময়ে এনবিআরের অচলাবস্থা সৃষ্টি করা মানে সরাসরি অর্থনীতিকে ধ্বংসের চক্রান্ত।

চমকপ্রদভাবে দেখা যাচ্ছে, যারা এই আন্দোলনের নেতৃত্বে রয়েছেন, তাদের অধিকাংশই পূর্ববর্তী সরকারের ঘনিষ্ঠ, যারা এনবিআরের ভেতরে পদোন্নতি, বদলি ও আর্থিক সুবিধা হাতিয়ে নিয়ে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। বহুদিন ধরেই তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও তারা বহালতবিয়তে ছিলেন এবং এখন আন্দোলনের নামে রাষ্ট্রীয় অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যকে জিম্মি করে রেখেছেন।

অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, এই আন্দোলনের পেছনে কিছু সুবিধাভোগী রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীর প্রত্যক্ষ মদদ রয়েছে, যারা নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় এনবিআর সংস্কারে বাধা দিচ্ছে। অথচ ব্যবসায়ী মহল, গবেষক এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই এনবিআরের কাঠামোগত সংস্কারের পক্ষে। কিন্তু যখনই এনবিআরের সংস্কার কিছু অসাধু কর্মকর্তার ব্যক্তি-স্বার্থে আঘাত হানে, তখনই তারা আন্দোলনের নামে সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়।

ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, এটি কোনো সাধারণ আন্দোলন নয়—এটি অর্থনৈতিক নাশকতা। এনবিআরের সংস্কার এখন সময়ের দাবি, এবং এর বিলম্ব জাতিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নেতিবাচক বার্তা দেবে। তাদের দাবি, এনবিআরের সিন্ডিকেট ভেঙে ফেলতে হবে, জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে, এবং যারা এই আন্দোলনের নামে রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি করছে, তাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী বলেছেন, এনবিআরের বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মবিরতির ফলে দেশের আমদানি-রফতানি কার্যক্রম ভয়াবহ ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। সময়মতো কাঁচামাল খালাস করতে না পারায় উৎপাদনে বিলম্ব হচ্ছে, রফতানিতে লিড টাইম বেড়ে যাচ্ছে, আর পোর্টে পড়ে থাকা পণ্য নষ্ট হচ্ছে। কিছু বিদেশি ক্রেতা ইতোমধ্যে অর্ডার বাতিলের হুমকি দিয়েছেন। এতে করে ব্যবসায়িক ব্যয় বহুগুণে বেড়ে গেছে।

লেদার অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বলেছেন, কোনো দেশে যুদ্ধ ছাড়া কাস্টমস বন্ধ থাকে—এমনটা শোনা যায় না। আন্তর্জাতিক বাজার বাংলাদেশের জন্য অপেক্ষা করবে না। তিনি বলেন, আমরা এনবিআরের সংস্কার চাই, তবে এমন অচলাবস্থা আমাদের ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

অন্যদিকে, এনবিআর ইতোমধ্যে অফিসে অনুপস্থিত বা দেরিতে উপস্থিত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সতর্কতা জারি করেছে। তবে অধিকাংশ কর্মকর্তা সেই আদেশ অমান্য করে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।

এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান বলেছেন, চলমান আন্দোলনের ফলে রাজস্ব আদায়ে কিছুটা বিঘ্ন ঘটছে। তবে তিনি আশাবাদী, সংস্কার, আইন কিংবা আন্দোলন যাই হোক, তা যেন দেশের স্বার্থে হয়, কেবল ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য নয়।

প্রসঙ্গত, গত ১২ মে সরকার এনবিআর বিলুপ্ত করে রাজস্বনীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নামে দুটি বিভাগ গঠনের অধ্যাদেশ জারি করে। যদিও তা সাময়িকভাবে স্থগিত রয়েছে, এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ ২৮ জুন থেকে ট্যাক্স, কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের দফতরে লাগাতার ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ এবং ‘শান্তিপূর্ণ মার্চ টু এনবিআর’ কর্মসূচি পালন করছে। এর ফলে বন্দরে পণ্য খালাস কার্যক্রম এবং অফিসিয়াল কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, কর্মসূচি আজ রোববারও চলবে। ব্যবসায়ী মহল দ্রুত এই সংকটের স্থায়ী সমাধান চাচ্ছে।