সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘অন্তর্বর্তী সরকারকে ব্যর্থ হতে দেবো না’: রিজভী

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৫:৫৪:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • / ১৮১ Time View

jkfwwawa

 

বিএনপির সিনিয়র নেতা রুহুল কবির রিজভী সরকারের সমালোচনা রাজনৈতিক সংকট নিয়ে মন্তব্য করেছেন

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে সরকারের সমালোচনার সাহসিকতা ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি ঘোষণা দেন, “এখন সরকারের সমালোচনা করলে গুম হতে হবে, এমন ভয় থেকে মুক্তি মিলেছে। আমরা সমালোচনা করবো সফলতার জন্য, কিন্তু ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারকে ব্যর্থ হতে দেবো না।” শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে দ্রোহের গ্রাফিতির প্রকাশনা উৎসবে এ বক্তব্য দেন রিজভী।

রিজভী তার বক্তব্যে বর্তমান সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন এবং দাবি করেন যে, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দেশের গণতন্ত্রের বিকাশে ব্যর্থ হবে। বিএনপি এই সরকারকে ক্ষমতায় আসার পর তাদের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দৃঢ় প্রতিরোধ গড়ে তুলবে, বলেও তিনি জানান।

গণতন্ত্রের বিকাশ এবং ভারত প্রসঙ্গ

রিজভী আরও বলেন, “দেশে গণতন্ত্রের বিকাশের পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তবে এটি ভারত মেনে নিতে পারছে না।” তিনি অভিযোগ করেন, ভারতীয় মিডিয়া এবং রাজনৈতিক নেতারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনৈতিকভাবে হস্তক্ষেপ করছেন এবং শেখ হাসিনার সরকারকে সমর্থন করে গণতন্ত্রের প্রতি আঘাত হানছে। রিজভীর মতে, ভারতের মিডিয়া যেভাবে শেখ হাসিনার পক্ষ নিয়ে কথা বলছে, সেটা গণতান্ত্রিক ভাষা হতে পারে না, বরং এটি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সার্বভৌমত্ব গণতন্ত্রের উপর হস্তক্ষেপ

তিনি বলেন, “গণতন্ত্রের বিকাশের জন্য স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে, কিন্তু আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারত এতে বাধা সৃষ্টি করছে। তাদের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনার সমর্থন করার অবস্থান দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির প্রতি অবিচার।”

বিপ্লবের আগমন: বিএনপির দৃঢ় অবস্থান

রিজভী তার বক্তব্যে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং জনগণের মধ্যে থাকা আন্দোলনের শক্তি নিয়ে গভীর মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, “প্রতিবিপ্লব সব সময় উঁকিঝুঁকি মারছে, তবে সেটা হতে দেওয়া হবে না।” এর মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, দেশের জনগণ ও বিএনপি একত্রিত হয়ে সরকার বিরোধী আন্দোলন চালিয়ে যাবে।

তিনি আরও জানান, বিপ্লবের প্রত্যাশা এবং গণতন্ত্রের পক্ষে বিএনপি আগ্রাসী কৌশল গ্রহণ করবে। “অন্তর্বর্তী সরকার কিংবা সরকারের বাহিনী কোনভাবেই তাদের অবস্থান শক্ত করে রাখতে পারবে না। জনগণের শক্তি ও একতা তাদের সকল প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করবে।”

রিজভী এসময় দাবি করেন, দেশের গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য বিএনপি বিপ্লবের সংগ্রাম চালিয়ে যাবে এবং সর্বদা জনগণের অধিকার রক্ষা করবে

দেশের গণতন্ত্র সরকারের প্রতি অভিযোগ

রিজভী দেশের গণতন্ত্রের জন্য আশাবাদী, তবে তিনি সতর্ক করে দেন যে, এই গণতন্ত্র দেশের স্বৈরাচারী শাসকদের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তিনি সরকারের সমালোচনা করে বলেন, “সরকার জনগণের স্বার্থ ভুলে গিয়ে নিজেদের স্বার্থে দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করতে পারে।

রিজভী আরও বলেন, “বর্তমানে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার এবং তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, জনগণের অধিকার ও দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য একটি বড় হুমকি।” তার মতে, এই ধরনের সরকার দেশের গণতন্ত্র এবং জনগণের স্বাধীনতার জন্য একেবারেই ক্ষতিকর।

বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন

রিজভী জানিয়েছেন, বিএনপি সরকারের অপশাসনের বিরুদ্ধে জনগণের স্বার্থে এবং দেশের গণতন্ত্র রক্ষায় আন্দোলন চালিয়ে যাবে। তিনি আরো বলেন, “প্রতিবিপ্লব কোনোভাবেই সফল হতে দেওয়া হবে না, ঐক্যবদ্ধভাবে বিপ্লব ও গণতন্ত্রের প্রত্যাশা বাস্তবায়ন করতে হবে।”

তিনি তার দল ও জনগণের উদ্দেশে বলেন, “দেশের গণতন্ত্রের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা রেখে জনগণের অধিকারের জন্য আমাদের সকলকে এক হয়ে কাজ করতে হবে। আমরা নিশ্চিত যে, জনগণের একতার মাধ্যমে স্বৈরাচারী শাসকদের পরাজিত করা সম্ভব হবে।”

রাজনৈতিক সংকটের গভীরতা

রিজভী তার বক্তব্যে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংকটের গভীরতার দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, “বাংলাদেশে গণতন্ত্রের একদফা সংকট চলছে। বর্তমান শাসকগোষ্ঠী জনগণের অধিকার ও স্বাধীনতার প্রতি বারবার আঘাত হেনেছে।’’ তিনি এই সরকারের স্বৈরাচারী প্রবণতার প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, “এ ধরনের সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি।”

উপসংহার

রিজভী তার বক্তব্যে দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং গণতন্ত্রের জন্য বিএনপির কঠোর অবস্থান তুলে ধরেছেন। তিনি জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন করার আহ্বান জানান এবং দাবি করেন যে, বিএনপি জনগণের একত্রিত আন্দোলনই গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনবে। রিজভীর এই মন্তব্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা ও উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে এবং ভবিষ্যতে রাজনৈতিক পরিস্থিতি কেমন হবে, তা নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

‘অন্তর্বর্তী সরকারকে ব্যর্থ হতে দেবো না’: রিজভী

Update Time : ০৫:৫৪:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

 

বিএনপির সিনিয়র নেতা রুহুল কবির রিজভী সরকারের সমালোচনা রাজনৈতিক সংকট নিয়ে মন্তব্য করেছেন

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে সরকারের সমালোচনার সাহসিকতা ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি ঘোষণা দেন, “এখন সরকারের সমালোচনা করলে গুম হতে হবে, এমন ভয় থেকে মুক্তি মিলেছে। আমরা সমালোচনা করবো সফলতার জন্য, কিন্তু ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারকে ব্যর্থ হতে দেবো না।” শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে দ্রোহের গ্রাফিতির প্রকাশনা উৎসবে এ বক্তব্য দেন রিজভী।

রিজভী তার বক্তব্যে বর্তমান সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন এবং দাবি করেন যে, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দেশের গণতন্ত্রের বিকাশে ব্যর্থ হবে। বিএনপি এই সরকারকে ক্ষমতায় আসার পর তাদের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দৃঢ় প্রতিরোধ গড়ে তুলবে, বলেও তিনি জানান।

গণতন্ত্রের বিকাশ এবং ভারত প্রসঙ্গ

রিজভী আরও বলেন, “দেশে গণতন্ত্রের বিকাশের পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তবে এটি ভারত মেনে নিতে পারছে না।” তিনি অভিযোগ করেন, ভারতীয় মিডিয়া এবং রাজনৈতিক নেতারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনৈতিকভাবে হস্তক্ষেপ করছেন এবং শেখ হাসিনার সরকারকে সমর্থন করে গণতন্ত্রের প্রতি আঘাত হানছে। রিজভীর মতে, ভারতের মিডিয়া যেভাবে শেখ হাসিনার পক্ষ নিয়ে কথা বলছে, সেটা গণতান্ত্রিক ভাষা হতে পারে না, বরং এটি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সার্বভৌমত্ব গণতন্ত্রের উপর হস্তক্ষেপ

তিনি বলেন, “গণতন্ত্রের বিকাশের জন্য স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে, কিন্তু আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারত এতে বাধা সৃষ্টি করছে। তাদের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনার সমর্থন করার অবস্থান দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির প্রতি অবিচার।”

বিপ্লবের আগমন: বিএনপির দৃঢ় অবস্থান

রিজভী তার বক্তব্যে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং জনগণের মধ্যে থাকা আন্দোলনের শক্তি নিয়ে গভীর মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, “প্রতিবিপ্লব সব সময় উঁকিঝুঁকি মারছে, তবে সেটা হতে দেওয়া হবে না।” এর মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, দেশের জনগণ ও বিএনপি একত্রিত হয়ে সরকার বিরোধী আন্দোলন চালিয়ে যাবে।

তিনি আরও জানান, বিপ্লবের প্রত্যাশা এবং গণতন্ত্রের পক্ষে বিএনপি আগ্রাসী কৌশল গ্রহণ করবে। “অন্তর্বর্তী সরকার কিংবা সরকারের বাহিনী কোনভাবেই তাদের অবস্থান শক্ত করে রাখতে পারবে না। জনগণের শক্তি ও একতা তাদের সকল প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করবে।”

রিজভী এসময় দাবি করেন, দেশের গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য বিএনপি বিপ্লবের সংগ্রাম চালিয়ে যাবে এবং সর্বদা জনগণের অধিকার রক্ষা করবে

দেশের গণতন্ত্র সরকারের প্রতি অভিযোগ

রিজভী দেশের গণতন্ত্রের জন্য আশাবাদী, তবে তিনি সতর্ক করে দেন যে, এই গণতন্ত্র দেশের স্বৈরাচারী শাসকদের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তিনি সরকারের সমালোচনা করে বলেন, “সরকার জনগণের স্বার্থ ভুলে গিয়ে নিজেদের স্বার্থে দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করতে পারে।

রিজভী আরও বলেন, “বর্তমানে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার এবং তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, জনগণের অধিকার ও দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য একটি বড় হুমকি।” তার মতে, এই ধরনের সরকার দেশের গণতন্ত্র এবং জনগণের স্বাধীনতার জন্য একেবারেই ক্ষতিকর।

বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন

রিজভী জানিয়েছেন, বিএনপি সরকারের অপশাসনের বিরুদ্ধে জনগণের স্বার্থে এবং দেশের গণতন্ত্র রক্ষায় আন্দোলন চালিয়ে যাবে। তিনি আরো বলেন, “প্রতিবিপ্লব কোনোভাবেই সফল হতে দেওয়া হবে না, ঐক্যবদ্ধভাবে বিপ্লব ও গণতন্ত্রের প্রত্যাশা বাস্তবায়ন করতে হবে।”

তিনি তার দল ও জনগণের উদ্দেশে বলেন, “দেশের গণতন্ত্রের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা রেখে জনগণের অধিকারের জন্য আমাদের সকলকে এক হয়ে কাজ করতে হবে। আমরা নিশ্চিত যে, জনগণের একতার মাধ্যমে স্বৈরাচারী শাসকদের পরাজিত করা সম্ভব হবে।”

রাজনৈতিক সংকটের গভীরতা

রিজভী তার বক্তব্যে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংকটের গভীরতার দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, “বাংলাদেশে গণতন্ত্রের একদফা সংকট চলছে। বর্তমান শাসকগোষ্ঠী জনগণের অধিকার ও স্বাধীনতার প্রতি বারবার আঘাত হেনেছে।’’ তিনি এই সরকারের স্বৈরাচারী প্রবণতার প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, “এ ধরনের সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি।”

উপসংহার

রিজভী তার বক্তব্যে দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং গণতন্ত্রের জন্য বিএনপির কঠোর অবস্থান তুলে ধরেছেন। তিনি জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন করার আহ্বান জানান এবং দাবি করেন যে, বিএনপি জনগণের একত্রিত আন্দোলনই গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনবে। রিজভীর এই মন্তব্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা ও উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে এবং ভবিষ্যতে রাজনৈতিক পরিস্থিতি কেমন হবে, তা নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।