জামায়াত আমিরের প্রতিশ্রুতি: নারীদের সম্মান ও নিরাপত্তার অঙ্গীকার
- Update Time : ০৫:১৩:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৫
- / ১৬৮ Time View

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান দিনাজপুরে একটি কর্মী সম্মেলনে বক্তব্য রাখার সময় নারীর সম্মান, নিরাপত্তা এবং দুর্নীতিমুক্ত ও শোষণমুক্ত বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, “জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারীরা সম্মান ও নিরাপত্তা নিয়ে স্বাধীনভাবে চলাফেরা ও কাজ করতে পারবে, যা বর্তমান সরকার নিশ্চিত করতে পারেনি।” তার বক্তব্যে বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারের সমালোচনা এবং জামায়াতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার দিকগুলো তুলে ধরা হয়।
৫৩ বছরের খুন ও লুটপাটের বিচার
সম্মেলনে ডা. শফিকুর রহমান দেশের দীর্ঘদিনের বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে আক্রমণ করে বলেন, “৫৩ বছরের সব খুন, লুটপাট, ঘুষ, এবং দুর্নীতির বিচার করতে হবে। বিচার না হলে এসব অপরাধের সংস্কৃতি বন্ধ হবে না।” তিনি একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যেখানে প্রতিটি নাগরিক সমান অধিকার ও সুরক্ষা পাবে।
তরুণদের প্রতি আহ্বান
তরুণ সমাজের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “তোমরা বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে চেয়েছ। আমরা তোমাদের এই উদ্যোগে গর্বিত। বৈষম্যমুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তোমরাই আমাদের ভরসা। আগামীর বাংলাদেশ তোমাদের হাতেই তুলে দিতে চাই।”
তরুণদের প্রতি এই বার্তা জামায়াতের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সংগঠিত ও আকৃষ্ট করার কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা
ডা. শফিকুর রহমান বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “গণতন্ত্রের কথা বলে দেশটাকে কারাগারে পরিণত করেছে। উন্নয়নের নামে রডের জায়গায় বাঁশ এবং সিমেন্টের জায়গায় ছাই ব্যবহার করে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। দেশ থেকে ২৬ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “তারা শাপলা চত্বরে আলেমদের ওপর নির্যাতনের ঘটনাকে আড়াল করার চেষ্টা করেছে। কতটা নির্লজ্জ হলে একজন প্রধানমন্ত্রী বলতে পারেন যে সেখানে কোনো আলেম হত্যা হয়নি!”
নারীর নিরাপত্তা
নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরির বিষয়ে জামায়াত আমিরের বক্তব্য ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি বলেন, “আজকের এই সমাবেশে পুরুষদের পাশাপাশি হাজার হাজার নারী অংশ নিয়েছেন। এটি প্রমাণ করে যে, জামায়াত নারীদের সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। আমরা বলতে চাই, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারীরা আরও বেশি স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করতে পারবে।”
তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নারীদের নিরাপত্তার অভাবের অভিযোগ তুলে ধরেন এবং বলেন, “বর্তমান সরকার নারীদের প্রকৃত উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। আমরা এ অবস্থার পরিবর্তন আনতে চাই।”
জুলুম ও শোষণ নিয়ে অভিযোগ
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “তারা মনে করেছিল, আমাদের কর্মীদের গুম-খুন করে শেষ করে দেবে। কিন্তু আজ তারা কোথায়? তারা বন্যাদুর্গত মানুষের পাশেও দাঁড়ায়নি, আমাদেরও দাঁড়াতে দেয়নি। তারা নিজেদের স্বার্থেই দেশটাকে শোষণের খাঁচায় আটকে রেখেছে।”
নারী ও পুরুষের আলাদা অবস্থানের উদাহরণ
সমাবেশে নারীদের জন্য আলাদা বসার ব্যবস্থা করে তিনি বলেন, “এটাই প্রমাণ করে যে, আমরা নারীদের সম্মান এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সচেতন। আমাদের লক্ষ্য, নারীরা যেন সামাজিক ও পেশাগত জীবনে নিজেদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিয়ে চলতে পারে।”
জামায়াতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
তিনি একটি শোষণমুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে দুর্নীতি, লুটপাট, এবং ঘুষের কোনো জায়গা থাকবে না। আমরা সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এই আন্দোলনকে সফল করতে চাই।”
অন্যান্য বক্তার বক্তব্য
সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ আনিসুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম এবং কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদের সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা মমতাজ উদ্দিন। তাদের বক্তব্যে জামায়াতের আদর্শিক অবস্থান, পরিকল্পনা, এবং সরকারের ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরা হয়।
প্রতিক্রিয়া ও বিশ্লেষণ
ডা. শফিকুর রহমানের এই বক্তব্য নিয়ে বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। বিশেষত, নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে তার প্রতিশ্রুতি এবং সরকারের সমালোচনা রাজনীতির নতুন একটি দিক উন্মোচন করেছে। জামায়াতের এই অবস্থান তাদের নতুন সমর্থকদের আকৃষ্ট করতে কতটা কার্যকর হবে, তা সময়ই বলে দেবে।
জামায়াত আমিরের বক্তব্যে দেশের বিচারহীনতা, শোষণমুক্ত সমাজ, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং নারীদের সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি উঠে এসেছে। তবে বাস্তবে এই প্রতিশ্রুতিগুলো কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জামায়াতের এই উদ্যোগ কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা দেখার বিষয়।











