সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডলারের পরিবর্তে ব্রিকস আর্থিক ব্যবস্থা চালুর আহ্বান খামেনির: বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন বিপ্লবের সম্ভাবনা

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৭:১৬:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৫
  • / ১৫৮ Time View

khmeneyi 6790e8a83685e

 

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি সম্প্রতি ডলারের পরিবর্তে ব্রিকস (BRICS) আর্থিক ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ইরান এবং অন্যান্য দেশের জন্য ডলারের ওপর নির্ভরশীলতা হ্রাস করতে ব্রিকসের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে নিজেদের মুদ্রায় আর্থিক লেনদেনের ব্যবস্থা একটি কার্যকরী সমাধান হতে পারে। বুধবার (২২ জানুয়ারি) তিনি ইরানের অর্থনৈতিক কর্মী, উদ্যোক্তা এবং উৎপাদনকারীদের সঙ্গে এক বৈঠকে এ মন্তব্য করেন।

ব্রিকস জোট এবং এর গুরুত্ব

ব্রিকস (BRICS) হলো একটি অর্থনৈতিক জোট, যার সদস্য দেশগুলো হলো— ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন এবং দক্ষিণ আফ্রিকা। এই জোটের গঠন ২০০৯ সালে শুরু হয়, এবং এর লক্ষ্য ছিল উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা। ব্রিকসের সদস্য দেশগুলো একে অপরের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে এবং তাদের অভ্যন্তরীণ বাজারে ব্যবসা করতে পারে, যা তাদের নিজেদের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে।

এখন পর্যন্ত ব্রিকসের সদস্য দেশগুলো একে অপরের সঙ্গে নিজেদের মুদ্রায় লেনদেনের জন্য কাজ করছে এবং তারা ডলারের আধিপত্য কমানোর জন্য নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে খামেনি ব্রিকসের মাধ্যমে ইরানের আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিচালনায় একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচনের প্রস্তাব দিয়েছেন।

ডলারের ওপর নির্ভরশীলতা: ইরানের মূল সমস্যা

আয়াতুল্লাহ খামেনি তার বক্তব্যে ইরানের অর্থনৈতিক সমস্যাগুলোর মধ্যে ডলারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতাকে সবচেয়ে বড় সমস্যার একটি হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের অর্থনীতির মূল সমস্যা হল ডলারের ওপর নির্ভরশীলতা, যা আন্তর্জাতিক বাজারে আমাদের আর্থিক লেনদেনকে সীমাবদ্ধ করে।’

২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পারমাণবিক চুক্তি থেকে একতরফাভাবে বের হয়ে যাওয়ার পর ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, যা ইরানের বৈদেশিক বাণিজ্য ও অর্থনীতির ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেছে। এই নিষেধাজ্ঞাগুলোর কারণে ইরানকে বিভিন্ন আর্থিক লেনদেনে ডলারের ব্যবহার থেকে বেরিয়ে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাধ্য করা হয়েছে। খামেনি সেই পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ব্রিকসের আর্থিক ব্যবস্থাকে আরও গুরুত্ব দিয়েছেন, যাতে ডলারের ওপর নির্ভরশীলতা কমানো যায়।

ব্রিকস এবং বৈশ্বিক আর্থিক পরিস্থিতি

বিশ্ব অর্থনীতিতে ডলারের আধিপত্য অনেক পুরোনো। ১৯৪৪ সালে ব্রেটন উডস চুক্তির পর থেকে মার্কিন ডলার আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মূল মুদ্রা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কিন্তু এই দীর্ঘসময়ের আধিপত্য এখন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে, বিশেষত যখন বিভিন্ন দেশ নিজেদের মুদ্রায় লেনদেনের বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

এ পরিস্থিতিতে ব্রিকসের সদস্য দেশগুলো নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে, যাতে তারা ডলারের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে নিজেদের মুদ্রায় লেনদেন করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন এবং দক্ষিণ আফ্রিকা নিজেদের মধ্যে আর্থিক লেনদেনের জন্য নিজেদের মুদ্রা ব্যবহার করতে উৎসাহিত করছে। এটি বিশ্বব্যাপী ডলারের প্রভাব কমানোর একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইরান এবং ব্রিকসের ভবিষ্যত সম্পর্ক

ইরান আগে থেকেই ব্রিকসের সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক তৈরি করে আসছে। চীন এবং রাশিয়ার সঙ্গে ইরানের ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে, এবং তারা ইরানের বিরুদ্ধে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। ব্রিকসের মধ্যে একত্রীকরণের মাধ্যমে ইরান তার বাণিজ্যিক সম্ভাবনাকে আরও সম্প্রসারণ করতে সক্ষম হবে এবং ডলারের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারবে।

বিশ্বে ইরানের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এমন এক সময় পরিবর্তন হতে পারে যখন ব্রিকসের সদস্য দেশগুলো আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থা আরও বহুমুখী হবে। খামেনি মনে করেন, ব্রিকসের আর্থিক ব্যবস্থা ইরানকে আঞ্চলিক অর্থনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে আসবে এবং তাদের আন্তর্জাতিক বাজারে অবস্থান শক্তিশালী করবে।

ব্রিকসের ভবিষ্যৎ এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে পরিবর্তন

ব্রিকসের অগ্রযাত্রা শুধুমাত্র ইরান নয়, বরং অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ। বিশ্বের অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় মার্কিন ডলারের আধিপত্য বহু বছর ধরে চললেও এখন অনেক দেশ ডলারের পরিবর্তে তাদের নিজস্ব মুদ্রায় লেনদেন শুরু করেছে। এই পরিবর্তন বিশ্ব অর্থনীতিতে একটি বৈশ্বিক স্তরের প্রতিযোগিতা তৈরি করবে, যেখানে সদস্য দেশগুলো তাদের নিজস্ব স্বার্থের প্রতি মনোযোগ নিবদ্ধ করবে এবং বিশ্ব বাণিজ্যের নতুন নিয়ম প্রবর্তিত হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ব্রিকসের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আন্তঃবাণিজ্য বৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে। এটি ডলারের আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করতে সক্ষম হতে পারে, এবং পুরো বিশ্বে নতুন অর্থনৈতিক ধারার সৃষ্টি করবে।

ডলারের পরিবর্তে ব্রিকসের আর্থিক ব্যবস্থা গ্রহণ করার আহ্বান ইরানের জন্য একটি বড় অর্থনৈতিক কৌশল হতে পারে। এটি শুধু ইরান নয়, বরং ব্রিকসের সদস্য দেশগুলোর জন্যও নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করতে পারে। যদি এই পরিবর্তন সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে তা বিশ্ব অর্থনীতিতে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে সক্ষম হতে পারে, যা ডলারের আধিপত্যের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ডলারের পরিবর্তে ব্রিকস আর্থিক ব্যবস্থা চালুর আহ্বান খামেনির: বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন বিপ্লবের সম্ভাবনা

Update Time : ০৭:১৬:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৫

 

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি সম্প্রতি ডলারের পরিবর্তে ব্রিকস (BRICS) আর্থিক ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ইরান এবং অন্যান্য দেশের জন্য ডলারের ওপর নির্ভরশীলতা হ্রাস করতে ব্রিকসের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে নিজেদের মুদ্রায় আর্থিক লেনদেনের ব্যবস্থা একটি কার্যকরী সমাধান হতে পারে। বুধবার (২২ জানুয়ারি) তিনি ইরানের অর্থনৈতিক কর্মী, উদ্যোক্তা এবং উৎপাদনকারীদের সঙ্গে এক বৈঠকে এ মন্তব্য করেন।

ব্রিকস জোট এবং এর গুরুত্ব

ব্রিকস (BRICS) হলো একটি অর্থনৈতিক জোট, যার সদস্য দেশগুলো হলো— ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন এবং দক্ষিণ আফ্রিকা। এই জোটের গঠন ২০০৯ সালে শুরু হয়, এবং এর লক্ষ্য ছিল উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা। ব্রিকসের সদস্য দেশগুলো একে অপরের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে এবং তাদের অভ্যন্তরীণ বাজারে ব্যবসা করতে পারে, যা তাদের নিজেদের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে।

এখন পর্যন্ত ব্রিকসের সদস্য দেশগুলো একে অপরের সঙ্গে নিজেদের মুদ্রায় লেনদেনের জন্য কাজ করছে এবং তারা ডলারের আধিপত্য কমানোর জন্য নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে খামেনি ব্রিকসের মাধ্যমে ইরানের আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিচালনায় একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচনের প্রস্তাব দিয়েছেন।

ডলারের ওপর নির্ভরশীলতা: ইরানের মূল সমস্যা

আয়াতুল্লাহ খামেনি তার বক্তব্যে ইরানের অর্থনৈতিক সমস্যাগুলোর মধ্যে ডলারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতাকে সবচেয়ে বড় সমস্যার একটি হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের অর্থনীতির মূল সমস্যা হল ডলারের ওপর নির্ভরশীলতা, যা আন্তর্জাতিক বাজারে আমাদের আর্থিক লেনদেনকে সীমাবদ্ধ করে।’

২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পারমাণবিক চুক্তি থেকে একতরফাভাবে বের হয়ে যাওয়ার পর ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, যা ইরানের বৈদেশিক বাণিজ্য ও অর্থনীতির ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেছে। এই নিষেধাজ্ঞাগুলোর কারণে ইরানকে বিভিন্ন আর্থিক লেনদেনে ডলারের ব্যবহার থেকে বেরিয়ে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাধ্য করা হয়েছে। খামেনি সেই পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ব্রিকসের আর্থিক ব্যবস্থাকে আরও গুরুত্ব দিয়েছেন, যাতে ডলারের ওপর নির্ভরশীলতা কমানো যায়।

ব্রিকস এবং বৈশ্বিক আর্থিক পরিস্থিতি

বিশ্ব অর্থনীতিতে ডলারের আধিপত্য অনেক পুরোনো। ১৯৪৪ সালে ব্রেটন উডস চুক্তির পর থেকে মার্কিন ডলার আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মূল মুদ্রা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কিন্তু এই দীর্ঘসময়ের আধিপত্য এখন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে, বিশেষত যখন বিভিন্ন দেশ নিজেদের মুদ্রায় লেনদেনের বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

এ পরিস্থিতিতে ব্রিকসের সদস্য দেশগুলো নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে, যাতে তারা ডলারের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে নিজেদের মুদ্রায় লেনদেন করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন এবং দক্ষিণ আফ্রিকা নিজেদের মধ্যে আর্থিক লেনদেনের জন্য নিজেদের মুদ্রা ব্যবহার করতে উৎসাহিত করছে। এটি বিশ্বব্যাপী ডলারের প্রভাব কমানোর একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইরান এবং ব্রিকসের ভবিষ্যত সম্পর্ক

ইরান আগে থেকেই ব্রিকসের সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক তৈরি করে আসছে। চীন এবং রাশিয়ার সঙ্গে ইরানের ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে, এবং তারা ইরানের বিরুদ্ধে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। ব্রিকসের মধ্যে একত্রীকরণের মাধ্যমে ইরান তার বাণিজ্যিক সম্ভাবনাকে আরও সম্প্রসারণ করতে সক্ষম হবে এবং ডলারের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারবে।

বিশ্বে ইরানের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এমন এক সময় পরিবর্তন হতে পারে যখন ব্রিকসের সদস্য দেশগুলো আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থা আরও বহুমুখী হবে। খামেনি মনে করেন, ব্রিকসের আর্থিক ব্যবস্থা ইরানকে আঞ্চলিক অর্থনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে আসবে এবং তাদের আন্তর্জাতিক বাজারে অবস্থান শক্তিশালী করবে।

ব্রিকসের ভবিষ্যৎ এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে পরিবর্তন

ব্রিকসের অগ্রযাত্রা শুধুমাত্র ইরান নয়, বরং অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ। বিশ্বের অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় মার্কিন ডলারের আধিপত্য বহু বছর ধরে চললেও এখন অনেক দেশ ডলারের পরিবর্তে তাদের নিজস্ব মুদ্রায় লেনদেন শুরু করেছে। এই পরিবর্তন বিশ্ব অর্থনীতিতে একটি বৈশ্বিক স্তরের প্রতিযোগিতা তৈরি করবে, যেখানে সদস্য দেশগুলো তাদের নিজস্ব স্বার্থের প্রতি মনোযোগ নিবদ্ধ করবে এবং বিশ্ব বাণিজ্যের নতুন নিয়ম প্রবর্তিত হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ব্রিকসের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আন্তঃবাণিজ্য বৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে। এটি ডলারের আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করতে সক্ষম হতে পারে, এবং পুরো বিশ্বে নতুন অর্থনৈতিক ধারার সৃষ্টি করবে।

ডলারের পরিবর্তে ব্রিকসের আর্থিক ব্যবস্থা গ্রহণ করার আহ্বান ইরানের জন্য একটি বড় অর্থনৈতিক কৌশল হতে পারে। এটি শুধু ইরান নয়, বরং ব্রিকসের সদস্য দেশগুলোর জন্যও নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করতে পারে। যদি এই পরিবর্তন সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে তা বিশ্ব অর্থনীতিতে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে সক্ষম হতে পারে, যা ডলারের আধিপত্যের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।