কোন সঞ্চয়পত্রে মুনাফার হার বেড়ে সর্বোচ্চ ১২.৫৫ শতাংশ পৌঁছেছে?
- Update Time : ১০:৫৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৫
- / ১৫৯ Time View

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) সম্প্রতি একটি নতুন আদেশ জারি করেছে, যার মাধ্যমে দেশের সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার বাড়ানো হয়েছে। এই নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সঞ্চয়পত্রগুলোর মুনাফার হার সর্বোচ্চ ১২.৫৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। সরকারের এই পদক্ষেপটি সঞ্চয়পত্রধারীদের জন্য একটি ইতিবাচক পরিবর্তন, এবং বিশেষভাবে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য উপকারী হবে, যেহেতু পেনশনার সঞ্চয়পত্রে তাদের জন্য সবচেয়ে বেশি মুনাফার হার নির্ধারণ করা হয়েছে। সঞ্চয়পত্রের নতুন মুনাফার হার আগের চেয়ে অনেক বেশি লাভজনক এবং এটি সঞ্চয়পত্রধারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের একটি উত্তম সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হবে।
নতুন মুনাফার হার এবং বিনিয়োগ সীমা
বর্তমানে বাংলাদেশের সঞ্চয়পত্রগুলোর মুনাফার হার কোনোভাবেই ১২ শতাংশের নিচে থাকবে না। সঞ্চয়পত্রের ধরন ও বিনিয়োগের পরিমাণ অনুযায়ী, মুনাফার হার বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া, বিনিয়োগের সীমায়ও কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। পূর্বে সঞ্চয়পত্রের বিভিন্ন ধরনের বিনিয়োগে এক ধরনের মুনাফার হার ছিল, কিন্তু নতুন নিয়মে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে একটি নির্দিষ্ট মুনাফা নির্ধারণ করা হয়েছে, আর সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ করলে একটি আলাদা মুনাফার হার নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে, বড় বিনিয়োগকারীরা উচ্চতর মুনাফার সুযোগ পাবেন।
সঞ্চয়পত্রের ধরন অনুসারে মুনাফার হার
এখন একে একে দেখি, কোন সঞ্চয়পত্রে কত মুনাফার হার নির্ধারণ করা হয়েছে:
১. পরিবার সঞ্চয়পত্র
বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় সঞ্চয়পত্র হচ্ছে পরিবার সঞ্চয়পত্র। এই সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার সম্প্রতি বৃদ্ধি পেয়েছে। পূর্বে ৫ বছর মেয়াদ শেষে পরিবার সঞ্চয়পত্রে মুনাফার হার ছিল ১১.৫২ শতাংশ। তবে, নতুন নিয়মে যদি বিনিয়োগ ৭ লাখ টাকার কম হয়, তবে পাঁচ বছর মেয়াদ শেষে মুনাফার হার হবে ১২.০০ শতাংশ, এবং যদি বিনিয়োগ ৭ লাখ টাকার বেশি হয়, তবে মুনাফার হার হবে ১২.৩৭ শতাংশ। ফলে, পরিবারের সঞ্চয়পত্রধারীরা তাদের অর্থের উপর এখন অনেক বেশি মুনাফা উপভোগ করতে পারবেন।
২. পেনশনার সঞ্চয়পত্র
পেনশনার সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে মুনাফার হার হবে ১২.৫৫ শতাংশ, যা অন্যান্য সঞ্চয়পত্রের তুলনায় সর্বোচ্চ। তবে, যদি বিনিয়োগ ৭ লাখ টাকার বেশি হয়, তবে মুনাফার হার হবে ১২.৩৭ শতাংশ। পূর্বে এই সঞ্চয়পত্রে পাঁচ বছর পর মুনাফার হার ছিল ১১.৭৬ শতাংশ। ফলে, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তারা এবং পেনশনভোগীরা এই পরিবর্তনের ফলে বিশেষ উপকৃত হবেন।
৩. বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র
বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রেও মুনাফার হার বৃদ্ধি পেয়েছে। পূর্বে ১১.২৮ শতাংশ মুনাফার হার ছিল, তবে নতুন নিয়মে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে ১২.৪০ শতাংশ মুনাফা পাওয়া যাবে। এবং ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ করলে মুনাফার হার হবে ১২.৩৭ শতাংশ।
৪. তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র
এই সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করেও এখন বেশি মুনাফা পাওয়া যাবে। পূর্বে এই সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের পর ৩ বছর পর মুনাফার হার ছিল ১১.০৪ শতাংশ। এখন, এই সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগ করলে ১২.৩০ শতাংশ মুনাফা পাওয়া যাবে, এবং সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে মুনাফার হার হবে ১২.২৫ শতাংশ।
৫. ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংক
ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের মুনাফার হারেও বৃদ্ধি ঘটানো হয়েছে। ৩ বছরে মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পর, সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে মুনাফার হার ১২.৩০ শতাংশ হবে, এবং ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার হার হবে ১২.২৫ শতাংশ।
বিশেষ সুবিধা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীদের জন্য
এই নতুন নিয়মের সবচেয়ে বড় সুবিধা পাবেন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীরা। পেনশনার সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার সবচেয়ে বেশি হওয়ায় তারা তাদের পেনশনকে নিরাপদ রাখতে এবং আয় বাড়াতে আরও বেশি উদ্বুদ্ধ হবেন। এটি সরকারের একটি কার্যকর উদ্যোগ, যা অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের জন্য আরও নিরাপদ ও লাভজনক বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করছে।
সঞ্চয়পত্রের গুরুত্ব এবং সুবিধা
সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করাটা সরকারের নির্ভরযোগ্য এবং নিরাপদ একটি মাধ্যম। এতে বিনিয়োগকারীরা তাদের মূলধন হারানোর ভয় ছাড়াই দীর্ঘমেয়াদী সঞ্চয়ের সুযোগ পেয়ে থাকেন। সঞ্চয়পত্রগুলোর মুনাফা সাধারণত এক ধরনের স্থিতিশীল আয় হিসেবে কাজ করে, যা কোনো ধরনের ঝুঁকি ছাড়াই লাভ প্রদান করে। সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে শুধু মানুষের সঞ্চয়ই বৃদ্ধি পায় না, বরং দেশের অর্থনীতিতে বিনিয়োগের মাধ্যমে স্থিতিশীলতা আসে।
এই নতুন নিয়মে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার বৃদ্ধির ফলে দেশের সঞ্চয়পত্রধারীরা অধিক মুনাফা অর্জন করতে পারবেন। বিশেষভাবে, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীরা তাদের পেনশন এবং সঞ্চয়কে আরও লাভজনকভাবে ব্যবহার করতে পারবেন। সরকারের এই পদক্ষেপটি দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং নাগরিকদের সঞ্চয়ের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।











