সংবিধানে ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’ পরিবর্তনের সুপারিশ
- Update Time : ০৮:৩৩:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৫
- / ১৭৭ Time View

ঢাকা, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৫
সংবিধানে ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’ শব্দটি পরিবর্তন করে ‘জনগণতন্ত্রী বাংলাদেশ’ এবং ‘প্রজাতন্ত্র’ শব্দের পরিবর্তে ‘নাগরিকতন্ত্র’ ব্যবহারের সুপারিশ করেছে সংবিধান সংস্কার কমিশন। বুধবার, রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে এই সুপারিশনামা জমা দেয় কমিশন।
কমিশনের দেওয়া প্রস্তাবে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাংলাদেশের জনগণকে জাতিগত পরিচয়ে ‘বাঙালি’ না বলে ‘বাংলাদেশি’ হিসেবে উল্লেখ করার বিধান সংবিধানে সংযোজন করা হোক। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে দেশের ভেতর জাতিগত পরিচয়ের বিভেদ দূর হবে এবং সবাই একক জাতীয় পরিচয়ে পরিচিত হবে বলে আশা করছে কমিশন।
দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা প্রস্তাব
প্রস্তাবে দেশের আইন ব্যবস্থায় দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর একটি অংশ হবে নিম্নকক্ষ, যা ‘জাতীয় সংসদ’ নামে পরিচিত হবে, এবং অপরটি উচ্চকক্ষ বা ‘সিনেট’ নামে পরিচিত হবে।
নিম্নকক্ষের সদস্য সংখ্যা প্রস্তাব করা হয়েছে ৪০০ জন। এর মধ্যে ৩০০ জন সদস্য সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হবেন একক আঞ্চলিক নির্বাচনি এলাকা থেকে। বাকি ১০০ জন সদস্য শুধু নারী প্রার্থীদের মধ্য থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে নির্বাচিত হবেন। এ ক্ষেত্রে দেশের প্রতিটি জেলা থেকে নারী প্রার্থী সরাসরি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন।
কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, রাজনৈতিক দলগুলোকে বাধ্যতামূলকভাবে নিম্নকক্ষের মোট আসনের কমপক্ষে ১০ শতাংশ তরুণ প্রার্থী মনোনীত করতে হবে। পাশাপাশি নির্বাচনে অংশগ্রহণের বয়সসীমা ২৫ বছর থেকে কমিয়ে ২১ বছর করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়াও নিম্নকক্ষে দুই জন ডেপুটি স্পিকার নিয়োগ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে, যার মধ্যে একজন বিরোধী দল থেকে মনোনীত হবেন।
উচ্চকক্ষ বা সিনেট গঠন প্রস্তাব
প্রস্তাবিত উচ্চকক্ষ বা সিনেটের সদস্য সংখ্যা হবে ১০৫ জন। এর মধ্যে ১০০ জন সদস্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের সংখ্যানুপাতে নির্ধারিত হবেন। রাজনৈতিক দলগুলো সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (Proportional Representation-PR) পদ্ধতির মাধ্যমে প্রার্থী মনোনীত করতে পারবে। প্রস্তাব অনুযায়ী, উচ্চকক্ষের মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে অন্তত পাঁচজনকে অনগ্রসর সম্প্রদায় থেকে মনোনয়ন দিতে হবে।
অবশিষ্ট পাঁচটি আসন পূরণে রাষ্ট্রপতিকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এই প্রার্থীরা কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হবেন না এবং তারা উচ্চকক্ষের বাইরে থেকে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট নাগরিক হিসেবে মনোনীত হবেন।
উচ্চকক্ষের স্পিকার সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সদস্যদের মধ্য থেকে নির্বাচিত হবেন। তবে ডেপুটি স্পিকার সরকারদলীয় সদস্য ছাড়া উচ্চকক্ষের অন্য সদস্যদের মধ্য থেকে নির্বাচিত হবেন।
সংবিধান সংস্কারের উদ্দেশ্য
সংবিধান সংস্কার কমিশনের মতে, এই প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো কার্যকর হলে বাংলাদেশের আইন ও শাসনব্যবস্থায় একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। এতে গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হবে এবং বিভিন্ন শ্রেণি ও সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব আরও সুসংহত হবে।
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, সংবিধান সংস্কার কমিশনের এই সুপারিশনামা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।











