সাবেক ডেপুটি গভর্নর এসকে সুর গ্রেপ্তার
- Update Time : ০৪:৫১:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৫
- / ২০১ Time View

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর সিতাংশু কুমার (এসকে) সুরকে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গ্রেপ্তার করেছে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে দুদকের একটি আভিযানিক টিম রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের বিষয়টি মানবজমিনকে নিশ্চিত করেছেন দুদকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা।
দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এসকে সুরের বিরুদ্ধে এর আগে গত ২৩ শে ডিসেম্বর একটি মামলা দায়ের করা হয়। অভিযোগ ছিল, তিনি সম্পদের বিবরণী নোটিশের জবাব দেননি। এর প্রেক্ষিতে দুদক তার বিরুদ্ধে নন-সাবমিশন মামলা দায়ের করে।
মামলার পেছনের কারণ
দুদক সূত্র জানায়, এসকে সুরকে সম্পদের বিবরণী জমা দিতে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি কোনো জবাব দেননি। এতে দুদক মনে করে, তিনি তার অবৈধ সম্পদের তথ্য গোপন করার চেষ্টা করছেন। এ কারণে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুদকের এক পরিচালক পদমর্যাদার কর্মকর্তা বলেন,
“এসকে সুরকে আজ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে এবং তার রিমান্ড চাওয়া হবে। তদন্ত চলাকালীন তার আরও অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়গুলো বেরিয়ে আসতে পারে।”
এসকে সুরের গ্রেপ্তারের প্রতিক্রিয়া
এসকে সুরের গ্রেপ্তার বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিশেষত, একজন সাবেক ডেপুটি গভর্নরের গ্রেপ্তার সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ঘটনা দেশের আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা আনার ক্ষেত্রে দুদকের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য হবে।
অর্থনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যাংকিং খাতে দুর্নীতি রোধে এটি একটি যুগান্তকারী ঘটনা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা গ্রহণ দেশের ব্যাংকিং সেক্টরে একটি শক্তিশালী বার্তা প্রেরণ করবে যে, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।
কী হতে পারে পরবর্তী পদক্ষেপ?
দুদক সূত্রে জানা গেছে, এসকে সুরকে আদালতে সোপর্দ করার পর তার রিমান্ড চাওয়া হবে। রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তার বিরুদ্ধে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে, তিনি কোন কোন অবৈধ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং ব্যাংকিং খাতে তার ভূমিকা নিয়ে নতুন অনুসন্ধান শুরু হতে পারে।
ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা আনার প্রয়োজন
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে ব্যাংকিং খাতে বিভিন্ন সময়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ঋণ খেলাপি, অর্থ পাচার এবং সম্পদের হিসাব গোপনের মতো অনিয়মগুলো এই খাতে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করেছে। সাবেক ডেপুটি গভর্নরের গ্রেপ্তার প্রমাণ করে যে, দেশের আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য সরকার এবং দুদক কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আব্দুল মান্নান বলেন,
“যেকোনো বড় দুর্নীতির ঘটনা ব্যাংকিং খাতকে হুমকির মুখে ফেলে। কিন্তু এ ধরনের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে সরকার একটি শক্তিশালী বার্তা দিয়েছে। ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা আনতে এবং দুর্নীতি রোধে এ ধরনের পদক্ষেপ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।”
গ্রেপ্তারের প্রভাব
এসকে সুরের মতো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা গ্রহণ অনেকের কাছে নজিরবিহীন মনে হলেও, এটি দেশের আর্থিক ব্যবস্থার জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন যে, শুধু গ্রেপ্তারের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হবে না। এর পেছনে জড়িত বড় চক্রগুলোকেও আইনের আওতায় আনতে হবে।
দুদক কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, এসকে সুরের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের মাধ্যমে আরও বড় দুর্নীতি চক্রের খোঁজ পাওয়া যাবে।
জনগণের প্রত্যাশা
সাধারণ জনগণ আশা করছে, এই গ্রেপ্তারের মাধ্যমে দেশের আর্থিক খাতে যে অনিয়ম ও দুর্নীতি চলে আসছে, তা কমবে। এছাড়া জনগণ চায়, শুধু গ্রেপ্তার নয়, আদালতে প্রমাণ সাপেক্ষে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
এসকে সুরের গ্রেপ্তারের ঘটনা প্রমাণ করে যে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানে যদি কেউ দুর্নীতি করে থাকে, তবে তাকে আইনের মুখোমুখি হতে হবে। এটি দেশে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এখন দেখার বিষয় হলো, এই গ্রেপ্তার বাংলাদেশের ব্যাংকিং সেক্টরে কতটা প্রভাব ফেলে এবং দেশের আর্থিক খাত কতটা সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ হয়।











