দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন: স্টারমারের পক্ষে প্রচারণায় আওয়ামী লীগের যুক্তরাজ্য শাখা
- Update Time : ০৪:৪৫:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৫
- / ১৮৪ Time View

বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন দল আওয়ামী লীগের যুক্তরাজ্য শাখা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছে বলে সম্প্রতি দ্য টেলিগ্রাফ এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে। প্রতিবেদনের দাবি অনুযায়ী, স্টারমারের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের বিভিন্ন পর্যায়ে আওয়ামী লীগের যুক্তরাজ্য শাখার সদস্যরা সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।
স্টারমারের জন্য অর্থ সংগ্রহ ও নৈশভোজের আয়োজন
প্রতিবেদন অনুসারে, লেবার পার্টির নেতা স্টারমার যখন শ্যাডো ক্যাবিনেটের সদস্য ছিলেন, তখন আওয়ামী লীগের যুক্তরাজ্য শাখা তার জন্য একটি বিশেষ নৈশভোজের আয়োজন করে। এই নৈশভোজকে স্টারমারের জন্য অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছে টেলিগ্রাফ। ২০১৬ সালে এক অনুষ্ঠানে স্টারমার নিজেও উপস্থিত ছিলেন, যা আওয়ামী লীগের কর্মীরা লেবার পার্টির প্রতি তাদের সমর্থনের অংশ হিসেবে দেখিয়েছেন।
আওয়ামী লীগের ভূমিকা স্টারমারের নির্বাচনী প্রচারণায়
দ্য টেলিগ্রাফের তথ্যমতে, আওয়ামী লীগের যুক্তরাজ্য শাখার কর্মীরা স্টারমারের পক্ষে ব্রিটিশ লেবার পার্টির প্রচারণায় সক্রিয় ছিলেন। ২০১৯ সালে আবদুল আহাদ চৌধুরী নামের একজন আওয়ামী লীগ কর্মী স্টারমারের নির্বাচনী এলাকায় সরাসরি লিফলেট বিতরণ এবং প্লাকার্ড হাতে প্রচারণায় অংশ নেন। স্টারমারের হলবর্ন এবং সেন্ট পানক্রাস আসনে এই প্রচারণার সময় আওয়ামী লীগের কর্মীরা স্থানীয় জনগণের কাছে লেবার পার্টির বার্তা পৌঁছে দিয়েছিলেন।

টিউলিপ সিদ্দিক এবং শেখ হাসিনার সংযোগ
শেখ হাসিনা, যিনি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির এমপি এবং আর্থিক সেবাবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিকের খালা। লন্ডনে টিউলিপ সিদ্দিক সম্প্রতি বিনা মূল্যে ফ্ল্যাট এবং বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে চাপে রয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে স্টারমারের সঙ্গে আওয়ামী লীগের যুক্তরাজ্য শাখার ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।
টিউলিপ সিদ্দিকের পক্ষে প্রচারণা চালানো আওয়ামী লীগের সদস্যরা একইভাবে স্টারমারের পক্ষে প্রচারণায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। সিনিয়র নেতা শাহ শামীম আহমেদ এবং সৈয়দ শাজিদুর রহমান ফারুক টিউলিপ এবং স্টারমার উভয়ের নির্বাচনী প্রচারণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রমাণিত সম্পৃক্ততা
আবদুল আহাদ চৌধুরী ২০১৯ সালে স্টারমারের নির্বাচনী প্রচারণার সময় তার সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করেন। যদিও ছবিটির সঠিক তারিখ জানা যায়নি, তবে এটি স্টারমারের সঙ্গে আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততার প্রমাণ হিসেবে ধরা হচ্ছে। একই সময়ে, আওয়ামী লীগের আরেক কর্মী আবদুল শহীদ শেখের সঙ্গে স্টারমারের আরেকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। আবদুল শহীদ শেখ নিজেকে আওয়ামী লীগের জনসংযোগ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেন এবং লেবার পার্টির প্রার্থী স্যাম টেরির জন্যও প্রচারণায় অংশ নেন।
টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, আবদুল শহীদ শেখ লেবার পার্টির ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী আঞ্জেলা রেনারের সঙ্গেও দেখা করেন। এর মাধ্যমে আওয়ামী লীগের কর্মীদের লেবার পার্টির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সুসম্পর্কের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রভাব ও বিতর্কের সূত্রপাত
স্টারমার এবং আওয়ামী লীগের যুক্তরাজ্য শাখার মধ্যে এই ঘনিষ্ঠতা নিয়ে ব্রিটিশ রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, একটি বিদেশি রাজনৈতিক দলের সদস্যদের ব্রিটিশ রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখার ঘটনাটি ব্রিটিশ নির্বাচন ব্যবস্থার নিরপেক্ষতার প্রশ্ন তুলেছে।
অন্যদিকে, স্টারমারের শাসনামলে এই ধরনের সংযোগ তার রাজনৈতিক ভাবমূর্তিকে কীভাবে প্রভাবিত করবে, তা নিয়ে লেবার পার্টির মধ্যেই আলোচনা চলছে। টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনের প্রকাশের পর এ নিয়ে লেবার পার্টির ভেতর এবং বাইরের বিভিন্ন মহল থেকে নানা প্রশ্ন উঠে আসছে।
আওয়ামী লীগের প্রভাবের বিস্তার
টেলিগ্রাফ আরও জানায়, আওয়ামী লীগের যুক্তরাজ্য শাখা শুধু স্টারমার নয়, লেবার পার্টির আরও বেশ কয়েকজন প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছে। এই দলের নেতাকর্মীরা ব্রিটিশ রাজনীতিতে নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর লক্ষ্যে লেবার পার্টির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করেছে। টিউলিপ সিদ্দিকের মতো নেতার পক্ষে প্রচারণা চালানো থেকে শুরু করে অর্থ সংগ্রহ, লিফলেট বিতরণ এবং স্থানীয় জনসাধারণের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন পর্যন্ত তাদের কার্যক্রম বিস্তৃত ছিল।
স্টারমারের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে আওয়ামী লীগের যুক্তরাজ্য শাখার এই ভূমিকা একটি জটিল এবং বিতর্কিত বিষয়। টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই বিষয়টি ব্রিটিশ নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। লেবার পার্টি এবং স্টারমারের ভাবমূর্তি এই প্রতিবেদন থেকে কীভাবে প্রভাবিত হবে, তা নির্ভর করছে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক পরিবেশ এবং ব্রিটিশ জনগণের প্রতিক্রিয়ার ওপর।











