যুক্তরাজ্যে উন্নত চিকিৎসার জন্য যাচ্ছেন খালেদা জিয়া: বিস্তারিত প্রতিবেদন
- Update Time : ০৯:২৭:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৫
- / ১৭৬ Time View

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজ মঙ্গলবার উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যের লন্ডনের উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিস, হৃদরোগ এবং কিডনি সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন তিনি। পরিবার এবং দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চিকিৎসার জন্য দ্রুত বিদেশ যাওয়া প্রয়োজন ছিল।
লন্ডন যাত্রার প্রস্তুতি
আজ মঙ্গলবার রাত ১০টায় কাতারের আমিরের বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রওনা হবেন খালেদা জিয়া। দোহা হয়ে তিনি লন্ডনের হিথরো ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে পৌঁছাবেন। বুধবার সকালে লন্ডনে পৌঁছে সরাসরি ভর্তি হবেন লন্ডন ক্লিনিকে।
বিমানবন্দরে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা
বেগম জিয়ার যাত্রা উপলক্ষে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দরের বাইরে এবং ভেতরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব), ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এবং সোয়াত টিম মোতায়েন থাকবে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাত্রীদের চলাচলে যেন কোনো অসুবিধা না হয়, সে বিষয়েও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
চিকিৎসার পেছনে কাতারের আমিরের সহায়তা
কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানার পর তাঁর জন্য বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন। এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে চারজন চিকিৎসক এবং প্যারামেডিক সদস্য থাকবেন। ঢাকার মেডিকেল বোর্ডের ছয় সদস্যও খালেদা জিয়ার সাথে লন্ডন যাচ্ছেন। এদের মধ্যে আছেন প্রফেসর ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদার, প্রফেসর ডা. এফএম সিদ্দিক এবং প্রফেসর ডা. নুরুদ্দিন আহমেদ।
লন্ডন ক্লিনিকে ভর্তি হওয়ার পরিকল্পনা
বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, লন্ডনে পৌঁছানোর পর খালেদা জিয়া লন্ডন ক্লিনিকে ভর্তি হবেন। হাসপাতালটি এনএইচএসের অধীনে একটি ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসাকেন্দ্র। তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসকরা তার অবস্থা পরীক্ষা করে পরবর্তী চিকিৎসা পরিকল্পনা নির্ধারণ করবেন।
উন্নত
ডা. জাহিদ হোসেন জানান, বেগম জিয়ার লিভার সিরোসিসের পাশাপাশি হৃদরোগ ও কিডনি সমস্যাও রয়েছে। তাকে গত বছর টিপস (ট্রান্সজুগুলার ইনট্রাহেপাটিক পোর্টোসিস্টেমিক শান্ট) পদ্ধতিতে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। তবে তার হার্টের স্টেন্টিং, কিডনির ক্রনিক সমস্যাসহ বিভিন্ন জটিলতা আরও উন্নত পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন। এ কারণেই তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডন পাঠানো হচ্ছে।
পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে দোয়ার আহ্বান
বেগম জিয়ার লন্ডন যাত্রা উপলক্ষে গতকাল গুলশানে এক সংবাদ সম্মেলনে ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, “দেশবাসীর কাছে কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই, যারা ম্যাডামের সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করেছেন। সকল ধর্মের মানুষ বিভিন্নভাবে প্রার্থনা করেছেন। দলের পক্ষ থেকে আমরা সকলকে ধন্যবাদ জানাই।” তিনি আরও বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং খালেদা জিয়ার পরিবার দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।
লন্ডন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সম্ভাবনা
চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রয়োজন হলে খালেদা জিয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের জন হপকিন্স হাসপাতালেও নিয়ে যাওয়া হতে পারে। ডা. জাহিদ হোসেন জানান, লন্ডনের চিকিৎসকরা যদি সুপারিশ করেন, তাহলে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া হবে।
ওমরাহ পালনের ইচ্ছা
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, খালেদা জিয়ার সুস্থতা নিশ্চিত হলে তিনি পবিত্র ওমরাহ পালন করতে পারেন। তিনি বলেন, “উনি একজন ধার্মিক মানুষ। আল্লাহর ইচ্ছায় সুযোগ পেলে উনি ওমরাহ পালন করতে পারেন। তবে এটি এখনই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।”
বিএনপির নেতাকর্মীদের বিমানবন্দরে সমাগম
বেগম জিয়াকে বিদায় জানাতে বিএনপির বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী বিমানবন্দরে উপস্থিত হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ কারণে বিমানবন্দরে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে থাকবে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানবন্দরের যাত্রীদের জন্য কোনো সমস্যা সৃষ্টি হলে তা দ্রুত সমাধান করা হবে।
শেষ কথা
দেশের একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বর্ষীয়ান রাজনীতিক হিসেবে বেগম খালেদা জিয়ার এই চিকিৎসা যাত্রা অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। দলের নেতাকর্মীরা তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন এবং দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করেছেন। লন্ডন ক্লিনিকে ভর্তি হওয়ার পর তার চিকিৎসা কীভাবে এগোবে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, সেদিকেই এখন সবার নজর।











