মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মধ্যে ইসরায়েলকে ৮০০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের
- Update Time : ১১:৩৬:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৫
- / ২৫৬ Time View

যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে প্রায় ৮০০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির পরিকল্পনা করেছে, যা রয়টার্স এর প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে। বাইডেন প্রশাসন ইতোমধ্যে কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে অবহিত করেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মধ্যে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ক্ষমতা শক্তিশালী করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ় প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন।
অ্যাক্সিওস প্রথমে ৩ জানুয়ারি শুক্রবার এই তথ্য প্রকাশ করে, যেখানে দুটি সূত্রের উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অস্ত্র প্যাকেজে অন্তর্ভুক্ত থাকবে উন্নত ফাইটার জেট, আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম। এছাড়া স্মল ডায়ামিটার বোমা (SDBs) এবং যুদ্ধবিমান এবং ভূমিতে ব্যবহারের জন্য ওয়ারহেডও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
অস্ত্র প্যাকেজের বিস্তারিত
এই অস্ত্র বিক্রির পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত থাকবে:
- ফাইটার জেট: ইসরায়েলের বিমান বাহিনী শক্তিশালী করার জন্য উন্নত যুদ্ধবিমান।
- এয়ার–টু–গ্রাউন্ড মিসাইল: শত্রু লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণ করতে ব্যবহৃত হবে।
- স্মল ডায়ামিটার বোমা (SDBs): অত্যন্ত নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র যা সামরিক আক্রমণে নির্দিষ্ট লক্ষ্যগুলোতে আঘাত করতে সক্ষম।
- ওয়ারহেড: আকাশ ও স্থল আক্রমণে ব্যবহৃত হবে।
অ্যাক্সিওস এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অস্ত্র বিক্রির প্যাকেজটি ইসরায়েলকে প্রতিরক্ষা সুরক্ষা শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে, বিশেষ করে ইরান এবং তার প্রাক্সি গ্রুপ, যেমন হিজবুল্লাহ এবং হামাসের হুমকি মোকাবেলায়।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিক্রিয়া
অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে মন্তব্য চাওয়া হলে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। রয়টার্স জানায় যে, তারা এই বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করলেও কোনো উত্তর পায়নি।
তবে একটি মার্কিন কর্মকর্তা অ্যাক্সিওস কে বলেন, বাইডেন প্রশাসন দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, ইসরায়েল আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী তার নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়ার অধিকার রাখে, এবং ইরান ও তার প্রাক্সি গ্রুপগুলোর আগ্রাসন প্রতিহত করার অধিকারও তাদের আছে।
“প্রেসিডেন্ট বাইডেন পরিষ্কারভাবে বলেছেন, ইসরায়েলকে তার নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়ার অধিকার রয়েছে এবং ইরান ও তার প্রাক্সি গ্রুপগুলোর আগ্রাসন প্রতিহত করার অধিকারও রয়েছে,” কর্মকর্তা বলেন।
ইসরায়েল–হামাস সংঘাত
এই অস্ত্র বিক্রির পরিকল্পনা এমন সময়ে আসছে, যখন ইসরায়েল হামাসের সাথে গাজায় সংঘাতে জড়িত রয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধের ফলে গাজায় নিহতের সংখ্যা ৪৫,০০০ ছাড়িয়ে গেছে, জানিয়েছেন ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। এছাড়া শতকোটি মানুষ আহত হয়েছে এবং মিলিয়ন হাজার ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যাদের বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে গেছে ইসরায়েলের আকাশি হামলা ও ভূমি আক্রমণের ফলে।
অস্ত্র বিক্রির বিরোধিতা
অস্ত্র বিক্রির এই পরিকল্পনা বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংগঠনের সমালোচনার মুখে পড়েছে। সমালোচকরা বলছেন যে, এসব অস্ত্র গাজায় সংঘাত আরও বাড়াতে ব্যবহার হতে পারে, যেখানে অসামরিক নাগরিকদের প্রাণহানি বাড়ছে। অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের কাছে এই বিক্রির পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘনের আশঙ্কা করে।
তবে বাইডেন প্রশাসন এই অস্ত্র বিক্রির প্যাকেজটিকে ইসরায়েলের নিরাপত্তা সুরক্ষা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে, বিশেষ করে ইরানের হুমকি মোকাবেলায়। ইরান দীর্ঘদিন ধরে গাজা এবং লেবাননে মিলিটেন্ট গ্রুপগুলোর সহায়ক হিসেবে কাজ করছে, যাদেরকে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল গুরুত্বপূর্ণ হুমকি হিসেবে গণ্য করে।
রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাব
এই অস্ত্র বিক্রির সিদ্ধান্তে ভূরাজনৈতিক প্রভাব পড়তে পারে। এই পদক্ষেপটি আরব দেশগুলোর এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমালোচনার জন্ম দিতে পারে, বিশেষ করে গাজায় চলমান মানবিক সংকটের প্রেক্ষাপটে। তবে এটি ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অটুট সমর্থনকেও শক্তিশালী করবে, যা মধ্যপ্রাচ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত মিত্র হিসেবে ইসরায়েলকে বিবেচনা করা হয়।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই অস্ত্র বিক্রির পদক্ষেপটি যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সমালোচনামূলক দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং সম্ভবত মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাগুলোর ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
বাইডেন প্রশাসনের ৮০০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির সিদ্ধান্তটি ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করার এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলেও, এটি গাজার চলমান মানবিক সংকটের সাথে সম্পর্কিত নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের ফলে অসামরিক মানুষের জীবন বিপন্ন হচ্ছে, এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তীক্ষ্ণ নজর রাখছে যে, এই অস্ত্র বিক্রি অঞ্চলটির বৃহত্তর সংঘাতে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে।
সূত্র:
- রয়টার্স। (২০২৫, ৩ জানুয়ারি)। “যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে ৮০০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির পরিকল্পনা করেছে।”
- অ্যাক্সিওস। (২০২৫, ৩ জানুয়ারি)। “এক্সক্লুসিভ: বাইডেন প্রশাসন ইসরায়েলকে বড় অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে কংগ্রেসকে অবহিত করেছে।”
- আল জাজিরা। (২০২৫)। “গাজা যুদ্ধ: নিহতের সংখ্যা ৪৫,০০০ ছাড়িয়েছে।”
- বিবিসি নিউজ। (২০২৫)। “মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত: গাজা সংকটে ইসরায়েলকে অস্ত্র বিক্রি যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত।”
- দ্য গার্ডিয়ান। (২০২৫)। “গাজার সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েল অস্ত্র বিক্রি নিয়ে বিতর্ক।”











