সময়: রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পর্ন তারকাকে ঘুষ: ট্রাম্পের সাজা হওয়া নিশ্চিত, তবে কারাদণ্ড না হওয়ার ইঙ্গিত

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০১:৫৯:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৫
  • / ১৮০ Time View

TRUMP 1

দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর আদালত কক্ষের বাইরে ডোনাল্ড ট্রাম্প ফাইল ছবি: এএফপি

রয়টার্স, নিউইয়র্ক

পর্ন তারকা স্টর্মি ড্যানিয়েলসকে ঘুষ দেওয়ার মামলায় আগামী ১০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাজা ঘোষণা করা হবে। তবে তাঁকে কারাদণ্ড দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন বিচারক হুয়ান মারচ্যান।

নিউইয়র্কের ম্যানহাটান আদালতে বিচারাধীন এ মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইতিহাসে নজিরবিহীন। কেননা, ডোনাল্ড ট্রাম্পই প্রথম সাবেক প্রেসিডেন্ট, যাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বিচারক মারচ্যান জানিয়েছেন, ট্রাম্পকে আদালতে সশরীর বা ভার্চ্যুয়ালি উপস্থিত থাকতে হবে। তবে তাঁকে শর্তহীন মুক্তির দণ্ডাদেশ দেওয়া হবে, অর্থাৎ কারাগারে যেতে হবে না বা কোনো আর্থিক জরিমানা দিতে হবে না।

বিচারকের মন্তব্য

বিচারক মারচ্যান বলেন, “১০ জানুয়ারি দণ্ডাদেশ প্রদানকালে ট্রাম্পকে (৭৮) আদালতে উপস্থিত হতে হবে। তাঁকে কারাদণ্ড দেওয়ার ইচ্ছা আমার নেই। শর্তহীন মুক্তির দণ্ডাদেশই সবচেয়ে কার্যকর সমাধান বলে আমি মনে করি।”

এ রায়ের পর ট্রাম্পের আইনজীবীরা আপিল করার কথা জানিয়েছেন। বিচারক মারচ্যান বলেন, “ট্রাম্প আপিল করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন। তিনি মনে করেন, এ মামলায় তাঁকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে।”

ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া

ট্রাম্পের মুখপাত্র স্টিভেন চেউং এক বিবৃতিতে বলেছেন, “এ মামলায় ট্রাম্পের কোনো সাজা হওয়া উচিত নয়। বেআইনি এই মামলাটি কখনো বিবেচনার উপযুক্ত ছিল না। এটি অবিলম্বে খারিজ করা উচিত। এটি সাংবিধানিক দাবি।”

মামলার পটভূমি

২০০৬ সালে নেভাডা অঙ্গরাজ্যের একটি হোটেলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের দাবি করেন স্টর্মি ড্যানিয়েলস। ২০১৬ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণার সময় ওই ঘটনা গোপন রাখতে ড্যানিয়েলসকে ১ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ট্রাম্পের তৎকালীন ব্যক্তিগত আইনজীবী মাইকেল কোহেন এই অর্থ প্রদান করেন।

ড্যানিয়েলস দাবি করেন, তাঁকে এ অর্থ দেওয়া হয়েছিল যাতে তিনি ওই যৌন সম্পর্কের কথা জনসমক্ষে প্রকাশ না করেন। তবে ট্রাম্প এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করেছেন। তাঁর ভাষ্য, এসব অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি অভিযোগ করেন, বাইডেন প্রশাসন তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংস করতে এই মামলাটি করছে।

id="attachment_1517" aria-describedby="caption-attachment-1517" style="width: 1200px" class="wp-caption alignnone">
স্কেচে আদালত কক্ষে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও স্টর্মি ড্যানিয়েলসফাইল ছবি: রয়টার্স

 

প্রেসিডেন্ট হিসেবে শাসনকার্যের প্রভাব

ট্রাম্পের আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি দিয়েছেন, এ মামলায় ট্রাম্পকে সাজা দিলে তাঁর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণা বাধাগ্রস্ত হবে। ২০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার মাত্র ১০ দিন আগে আদালতে হাজিরা দিতে হবে ট্রাম্পকে। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সাবেক কোনো প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে এমন ঘটনা বিরল।

দণ্ডাদেশ পেছানোর আবেদন

গত বছরের মে মাসে ম্যানহাটানের ডিস্ট্রিক্ট আদালতের বিচারকেরা ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করেন। তবে দণ্ডাদেশ ঘোষণার সময় কয়েক দফা পিছিয়ে দেওয়া হয়।

বিচারক মারচ্যান জানিয়েছেন, গত আগস্টে ট্রাম্প নিজেই অনুরোধ করেছিলেন দণ্ডাদেশ ঘোষণার তারিখ পেছাতে। বিচারক বলেন, “এ মামলার রায় দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করেছেন ট্রাম্প। কিন্তু আদালতের কাজ আইনের ভিত্তিতে এগিয়ে যাবে।”

রাজনৈতিক প্রভাব বিশ্লেষণ

বিশ্লেষকদের মতে, এ মামলার রায় যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে এ রায় ট্রাম্পের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। যদিও ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা তাঁর সমর্থকদের কাছে অক্ষুণ্ণ রয়েছে।

সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার উপদেষ্টা ডেভিড অ্যাক্সেলরড বলেন, “এই রায় যুক্তরাষ্ট্রের বিচার ব্যবস্থার নিরপেক্ষতার এক পরীক্ষাস্বরূপ। যদি ট্রাম্প দোষী সাব্যস্ত হন, তাহলে সেটি আইনের শাসনের প্রতি জনগণের আস্থা বাড়াবে।”

তবে ট্রাম্পের সমর্থকেরা এ মামলাকে “রাজনৈতিক প্রতিহিংসা” বলেই মনে করছেন। রিপাবলিকান নেতা রন ডেসান্টিস বলেন, “এই রায় যুক্তরাষ্ট্রের বিচার ব্যবস্থার পক্ষপাতমূলক আচরণের উদাহরণ।”

তথ্যসূত্র:

  • রয়টার্স
  • বিবিসি
  • সিএনএন
  • নিউইয়র্ক টাইমস
  • আলজাজিরা
  • গার্ডিয়ান
  • ওয়াশিংটন পোস্ট
  • এপি নিউজ

 

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

পর্ন তারকাকে ঘুষ: ট্রাম্পের সাজা হওয়া নিশ্চিত, তবে কারাদণ্ড না হওয়ার ইঙ্গিত

Update Time : ০১:৫৯:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৫
দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর আদালত কক্ষের বাইরে ডোনাল্ড ট্রাম্প ফাইল ছবি: এএফপি

রয়টার্স, নিউইয়র্ক

পর্ন তারকা স্টর্মি ড্যানিয়েলসকে ঘুষ দেওয়ার মামলায় আগামী ১০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাজা ঘোষণা করা হবে। তবে তাঁকে কারাদণ্ড দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন বিচারক হুয়ান মারচ্যান।

নিউইয়র্কের ম্যানহাটান আদালতে বিচারাধীন এ মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইতিহাসে নজিরবিহীন। কেননা, ডোনাল্ড ট্রাম্পই প্রথম সাবেক প্রেসিডেন্ট, যাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বিচারক মারচ্যান জানিয়েছেন, ট্রাম্পকে আদালতে সশরীর বা ভার্চ্যুয়ালি উপস্থিত থাকতে হবে। তবে তাঁকে শর্তহীন মুক্তির দণ্ডাদেশ দেওয়া হবে, অর্থাৎ কারাগারে যেতে হবে না বা কোনো আর্থিক জরিমানা দিতে হবে না।

বিচারকের মন্তব্য

বিচারক মারচ্যান বলেন, “১০ জানুয়ারি দণ্ডাদেশ প্রদানকালে ট্রাম্পকে (৭৮) আদালতে উপস্থিত হতে হবে। তাঁকে কারাদণ্ড দেওয়ার ইচ্ছা আমার নেই। শর্তহীন মুক্তির দণ্ডাদেশই সবচেয়ে কার্যকর সমাধান বলে আমি মনে করি।”

এ রায়ের পর ট্রাম্পের আইনজীবীরা আপিল করার কথা জানিয়েছেন। বিচারক মারচ্যান বলেন, “ট্রাম্প আপিল করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন। তিনি মনে করেন, এ মামলায় তাঁকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে।”

ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া

ট্রাম্পের মুখপাত্র স্টিভেন চেউং এক বিবৃতিতে বলেছেন, “এ মামলায় ট্রাম্পের কোনো সাজা হওয়া উচিত নয়। বেআইনি এই মামলাটি কখনো বিবেচনার উপযুক্ত ছিল না। এটি অবিলম্বে খারিজ করা উচিত। এটি সাংবিধানিক দাবি।”

মামলার পটভূমি

২০০৬ সালে নেভাডা অঙ্গরাজ্যের একটি হোটেলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের দাবি করেন স্টর্মি ড্যানিয়েলস। ২০১৬ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণার সময় ওই ঘটনা গোপন রাখতে ড্যানিয়েলসকে ১ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ট্রাম্পের তৎকালীন ব্যক্তিগত আইনজীবী মাইকেল কোহেন এই অর্থ প্রদান করেন।

ড্যানিয়েলস দাবি করেন, তাঁকে এ অর্থ দেওয়া হয়েছিল যাতে তিনি ওই যৌন সম্পর্কের কথা জনসমক্ষে প্রকাশ না করেন। তবে ট্রাম্প এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করেছেন। তাঁর ভাষ্য, এসব অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি অভিযোগ করেন, বাইডেন প্রশাসন তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংস করতে এই মামলাটি করছে।

id="attachment_1517" aria-describedby="caption-attachment-1517" style="width: 1200px" class="wp-caption alignnone">
স্কেচে আদালত কক্ষে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও স্টর্মি ড্যানিয়েলসফাইল ছবি: রয়টার্স

 

প্রেসিডেন্ট হিসেবে শাসনকার্যের প্রভাব

ট্রাম্পের আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি দিয়েছেন, এ মামলায় ট্রাম্পকে সাজা দিলে তাঁর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণা বাধাগ্রস্ত হবে। ২০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার মাত্র ১০ দিন আগে আদালতে হাজিরা দিতে হবে ট্রাম্পকে। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সাবেক কোনো প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে এমন ঘটনা বিরল।

দণ্ডাদেশ পেছানোর আবেদন

গত বছরের মে মাসে ম্যানহাটানের ডিস্ট্রিক্ট আদালতের বিচারকেরা ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করেন। তবে দণ্ডাদেশ ঘোষণার সময় কয়েক দফা পিছিয়ে দেওয়া হয়।

বিচারক মারচ্যান জানিয়েছেন, গত আগস্টে ট্রাম্প নিজেই অনুরোধ করেছিলেন দণ্ডাদেশ ঘোষণার তারিখ পেছাতে। বিচারক বলেন, “এ মামলার রায় দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করেছেন ট্রাম্প। কিন্তু আদালতের কাজ আইনের ভিত্তিতে এগিয়ে যাবে।”

রাজনৈতিক প্রভাব বিশ্লেষণ

বিশ্লেষকদের মতে, এ মামলার রায় যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে এ রায় ট্রাম্পের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। যদিও ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা তাঁর সমর্থকদের কাছে অক্ষুণ্ণ রয়েছে।

সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার উপদেষ্টা ডেভিড অ্যাক্সেলরড বলেন, “এই রায় যুক্তরাষ্ট্রের বিচার ব্যবস্থার নিরপেক্ষতার এক পরীক্ষাস্বরূপ। যদি ট্রাম্প দোষী সাব্যস্ত হন, তাহলে সেটি আইনের শাসনের প্রতি জনগণের আস্থা বাড়াবে।”

তবে ট্রাম্পের সমর্থকেরা এ মামলাকে “রাজনৈতিক প্রতিহিংসা” বলেই মনে করছেন। রিপাবলিকান নেতা রন ডেসান্টিস বলেন, “এই রায় যুক্তরাষ্ট্রের বিচার ব্যবস্থার পক্ষপাতমূলক আচরণের উদাহরণ।”

তথ্যসূত্র:

  • রয়টার্স
  • বিবিসি
  • সিএনএন
  • নিউইয়র্ক টাইমস
  • আলজাজিরা
  • গার্ডিয়ান
  • ওয়াশিংটন পোস্ট
  • এপি নিউজ