আনিসুল হক ও সালমানকে রক্ষার চেষ্টা: অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সানজিদাকে সাময়িক বরখাস্ত
- Update Time : ০৫:০৮:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪
- / ১৭৯ Time View

ঢাকা, ৩১ ডিসেম্বর:
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার সানজিদা আফরিনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আজ রোববার এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাঁকে বরখাস্ত করার কথা জানানো হয়। বর্তমানে তিনি আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে (এপিবিএন) কর্মরত ছিলেন।
বরখাস্তের কারণ
সানজিদা আফরিনকে সরকারি চাকরিবিধি আইনের আওতায় সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি বরিশাল রেঞ্জে সংযুক্ত থাকবেন এবং বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা পাবেন।
এই বরখাস্তের পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ২০২৩ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে দায়ের করা হত্যার দুটি মামলার তদন্তে বিতর্কিত ভূমিকা। সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, এবং এনটিএমসি’র সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানকে অব্যাহতি দিয়ে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পক্ষ থেকে একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছিল।
প্রতিবেদন ও বিতর্ক
গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক জাহাঙ্গীর আরিফ ওই চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছিলেন। তবে আদালতে জমা দেওয়ার আগেই এ বিষয়ে তথ্য ফাঁস হয়ে যায়। এর পরেই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
পরিদর্শক জাহাঙ্গীর আরিফ দাবি করেছেন, তিনি এই কাজটি অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) সানজিদা আফরিনের নির্দেশে করেছিলেন। তবে এডিসি সানজিদা বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার তাঁর নেই।
সানজিদার অতীত বিতর্ক
এর আগেও সানজিদা আফরিন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে বারডেম হাসপাতাল থেকে ছাত্রলীগের দুই কেন্দ্রীয় নেতা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নেতাকে তুলে নিয়ে শাহবাগ থানায় আটকে রাখার ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ওঠে। ওই নেতাদের থানায় আটকে রেখে ব্যাপক মারধর করার অভিযোগ ছিল, যা বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল।
ডিবি কর্মকর্তাদের ভূমিকা ও জিজ্ঞাসাবাদ
ডিবি সূত্রে জানা গেছে, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদে পরিদর্শক জাহাঙ্গীর আরিফ স্বীকার করেছেন যে তিনি সানজিদা আফরিনের নির্দেশে কাজটি করেছিলেন। তবে তাঁর এই দাবি মেনে নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরাসরি সানজিদাকে বরখাস্ত করলেও বিষয়টি আরও তদন্তাধীন রয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের অনিয়ম বা বিতর্কিত কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। এই বরখাস্তের ঘটনা প্রমাণ করে যে সরকারের অবস্থান এ বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর।
পরবর্তী পদক্ষেপ
তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সানজিদার বরখাস্ত আদেশ বহাল থাকবে। এদিকে, অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের ঘটনায় সরকারের স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রয়াস গুরুত্বপূর্ণ হলেও এসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে, আইন অনুযায়ী দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের শাস্তির ব্যবস্থা করা হলে জনমনে আস্থা পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।





