সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভোটার হওয়ার বয়স ১৭ বছর হওয়া উচিত: ড. ইউনূস

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১২:০৩:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৪
  • / ১৮৪ Time View

a44768ba28585f1d7a1ed1e1bd30bfd7 676e5b4f54ea9

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, দেশের তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণকে বাড়ানোর লক্ষ্যে ভোটার হওয়ার বয়স ১৭ বছর নির্ধারণ করা উচিত। তরুণরা দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে সচেতন এবং তাদের নিজস্ব মতামত প্রকাশের সুযোগ থাকা জরুরি।

জাতীয় সংলাপে . ইউনূসের বক্তব্য
শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) রাজধানীর ফার্মগেট কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে ফোরাম ফর বাংলাদেশ স্টাডিজ আয়োজিত দুই দিনব্যাপী জাতীয় সংলাপ-২০২৪ এর উদ্বোধনী ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তিনি এই বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

ড. ইউনূস বলেন, “তরুণরা পরিবর্তনের প্রতি বেশি আগ্রহী। তথ্যপ্রযুক্তির সঙ্গে তাদের সখ্যতা এবং সংখ্যার দিক থেকে তাদের প্রাধান্য দেশের ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আমি মনে করি, তাদের আগ্রহ এবং মতামতের গুরুত্বের ভিত্তিতে ভোটার হওয়ার বয়স ১৭ বছর নির্ধারণ করা উচিত।”

সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা
সংস্কারের জন্য জাতীয় ঐকমত্য গঠনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমরা সংস্কারের মহান দায়িত্বের মুখোমুখি। প্রতিটি রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, এবং ধর্মীয় গোষ্ঠীর সক্রিয় অংশগ্রহণ এই প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করবে।”

ড. ইউনূস উল্লেখ করেন যে, সংস্কার ও নির্বাচনের প্রস্তুতি একইসঙ্গে চালিয়ে যেতে হবে। তিনি জানান, ১৫টি সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়েছে, যারা জানুয়ারি মাসে তাদের সুপারিশমালা প্রদান করবে।

তরুণদের ভূমিকা এবং ভবিষ্যৎ
ড. ইউনূস বলেন, “তরুণ প্রজন্মকে শুধু ভোটার হিসেবেই নয়, বরং সংস্কারের কাজে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী হিসেবে দেখতে চাই। তাদের সৃজনশীলতা ও উদ্যোগ দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।”

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রভাব
তিনি বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান শুধু আমাদের রাজনৈতিক পরিবেশকেই নয়, আমাদের স্বপ্ন ও লক্ষ্যের ক্ষেত্রেও তুমুল সাহস জুগিয়েছে। ঐক্য এবং সংস্কারের মাধ্যমে আমরা একটি ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তুলতে পারব।”

সংলাপের আহ্বান
জাতীয় সংলাপের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “আজকের সংলাপ দেশের জন্য এমন একটি গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়া তৈরি করবে যা সংস্কার এবং নির্বাচনকে দ্রুত কার্যকর করতে সহায়ক হবে।”

ড. ইউনূস তার বক্তব্যে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা এবং গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া তরুণদের স্মরণ করেন। তিনি বলেন, “তাদের আত্মত্যাগ আমাদের ঐক্য এবং সংস্কারের প্রেরণার উৎস।”

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ভোটার হওয়ার বয়স ১৭ বছর হওয়া উচিত: ড. ইউনূস

Update Time : ১২:০৩:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৪

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, দেশের তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণকে বাড়ানোর লক্ষ্যে ভোটার হওয়ার বয়স ১৭ বছর নির্ধারণ করা উচিত। তরুণরা দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে সচেতন এবং তাদের নিজস্ব মতামত প্রকাশের সুযোগ থাকা জরুরি।

জাতীয় সংলাপে . ইউনূসের বক্তব্য
শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) রাজধানীর ফার্মগেট কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে ফোরাম ফর বাংলাদেশ স্টাডিজ আয়োজিত দুই দিনব্যাপী জাতীয় সংলাপ-২০২৪ এর উদ্বোধনী ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তিনি এই বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

ড. ইউনূস বলেন, “তরুণরা পরিবর্তনের প্রতি বেশি আগ্রহী। তথ্যপ্রযুক্তির সঙ্গে তাদের সখ্যতা এবং সংখ্যার দিক থেকে তাদের প্রাধান্য দেশের ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আমি মনে করি, তাদের আগ্রহ এবং মতামতের গুরুত্বের ভিত্তিতে ভোটার হওয়ার বয়স ১৭ বছর নির্ধারণ করা উচিত।”

সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা
সংস্কারের জন্য জাতীয় ঐকমত্য গঠনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমরা সংস্কারের মহান দায়িত্বের মুখোমুখি। প্রতিটি রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, এবং ধর্মীয় গোষ্ঠীর সক্রিয় অংশগ্রহণ এই প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করবে।”

ড. ইউনূস উল্লেখ করেন যে, সংস্কার ও নির্বাচনের প্রস্তুতি একইসঙ্গে চালিয়ে যেতে হবে। তিনি জানান, ১৫টি সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়েছে, যারা জানুয়ারি মাসে তাদের সুপারিশমালা প্রদান করবে।

তরুণদের ভূমিকা এবং ভবিষ্যৎ
ড. ইউনূস বলেন, “তরুণ প্রজন্মকে শুধু ভোটার হিসেবেই নয়, বরং সংস্কারের কাজে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী হিসেবে দেখতে চাই। তাদের সৃজনশীলতা ও উদ্যোগ দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।”

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রভাব
তিনি বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান শুধু আমাদের রাজনৈতিক পরিবেশকেই নয়, আমাদের স্বপ্ন ও লক্ষ্যের ক্ষেত্রেও তুমুল সাহস জুগিয়েছে। ঐক্য এবং সংস্কারের মাধ্যমে আমরা একটি ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তুলতে পারব।”

সংলাপের আহ্বান
জাতীয় সংলাপের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “আজকের সংলাপ দেশের জন্য এমন একটি গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়া তৈরি করবে যা সংস্কার এবং নির্বাচনকে দ্রুত কার্যকর করতে সহায়ক হবে।”

ড. ইউনূস তার বক্তব্যে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা এবং গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া তরুণদের স্মরণ করেন। তিনি বলেন, “তাদের আত্মত্যাগ আমাদের ঐক্য এবং সংস্কারের প্রেরণার উৎস।”