আল্লাহ আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন তাঁর ইবাদতের জন্য, আর আমরা ছুটছি নোটের (টাকা) পেছনে
- Update Time : ১১:৪২:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪
- / ২১৬ Time View
DALL·E 2024 12 24 11.23.55 An artistic representation of a serene Islamic theme showing a Muslim man praying with hands raised Dua against a tranquil sunset background. The ba

আল্লাহ তাআলা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন একটি মহৎ উদ্দেশ্যে—তাঁর ইবাদত করার জন্য। কিন্তু দুনিয়ার জীবনের মোহে আমরা সেই উদ্দেশ্য থেকে অনেক দূরে সরে গিয়েছি। বর্তমানে অধিকাংশ মানুষ আল্লাহর ইবাদতের চেয়ে দুনিয়ার সম্পদ অর্জনকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এটি আমাদের জীবনের ভারসাম্য ও প্রকৃত উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত করছে। আল-কুরআন ও হাদিসের আলোকে আমরা এই বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করতে পারি।
মানুষের সৃষ্টির মূল উদ্দেশ্য
আল্লাহ তাআলা বলেছেন:
وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ
“আমি জ্বিন ও মানুষকে সৃষ্টি করেছি শুধুমাত্র আমার ইবাদত করার জন্য।”
(সূরা আয–যারিয়াত: ৫৬)
এই আয়াত স্পষ্ট করে যে, আল্লাহ আমাদের সৃষ্টির মূল উদ্দেশ্য হিসেবে তাঁর ইবাদত নির্ধারণ করেছেন। ইবাদত শুধু নামাজ, রোজা, হজ বা জাকাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। জীবনের প্রতিটি কাজ, যদি তা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হয়, ইবাদতে পরিণত হয়।
দুনিয়ার জীবনের প্রকৃত বাস্তবতা
আল্লাহ আমাদের জীবিকা অর্জনের অনুমতি দিয়েছেন, তবে তা যেন ইবাদতের পথ থেকে বিচ্যুত না করে।
فَإِذَا قُضِيَتِ الصَّلَاةُ فَانتَشِرُوا فِي الْأَرْضِ وَابْتَغُوا مِن فَضْلِ اللَّهِ وَاذْكُرُوا اللَّهَ كَثِيرًا لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ
“যখন নামাজ সমাপ্ত হয়, তখন তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর অনুগ্রহ (জীবিকা) অন্বেষণ করো এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করো, যাতে তোমরা সফল হতে পারো।”
(সূরা আল–জুমু’আ: ১০)
এই আয়াত জীবিকার জন্য পরিশ্রমকে বৈধ করেছে, কিন্তু আল্লাহর স্মরণকে সর্বাগ্রে রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
টাকার পেছনে ছুটে জীবনের ভারসাম্য হারানো
মানুষ যখন দুনিয়ার সম্পদকে জীবনের একমাত্র লক্ষ্য বানিয়ে ফেলে, তখন জীবনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। কুরআনে এ বিষয়ে সতর্ক করে বলা হয়েছে:
اعْلَمُوا
“জেনে রাখো! এই দুনিয়ার জীবন হলো খেলাধুলা, বিলাসিতা, পরস্পরের মধ্যে গর্ববোধ, এবং সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে বাড়াবাড়ি।”
(সূরা হাদিদ: ২০)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
إِنَّ لِكُلِّ أُمَّةٍ فِتْنَةً وَفِتْنَةُ أُمَّتِي الْمَالُ
“প্রত্যেক উম্মতের জন্য একটি ফিতনা রয়েছে, আর আমার উম্মতের ফিতনা হলো সম্পদ।”
(সুনান তিরমিজি: ২৩৩৬)
আমাদের করণীয় কী?
১. ইবাদতকে জীবনের কেন্দ্রবিন্দু বানান
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, এবং নিয়মিত দোয়া-ইস্তেগফার জীবনের মূল অংশ হওয়া উচিত। আল্লাহ বলেছেন:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اذْكُرُوا اللَّهَ ذِكْرًا كَثِيرًا
“হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করো।”
(সূরা আহযাব: ৪১)
২. হালাল উপার্জন নিশ্চিত করুন
অর্থ উপার্জন অবশ্যই হালাল পথে হতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
طَلَبُ الْكَسْبِ الْحَلَالِ فَرِيضَةٌ بَعْدَ الْفَرِيضَةِ
“হালাল রিজিক অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরজ।”
(মুসনাদ আহমদ: ৮৬৩১)
৩. দুনিয়া ও আখিরাতের ভারসাম্য বজায় রাখুন
আল্লাহ তাআলা বলেছেন:
وَابْتَغِ فِيمَا آتَاكَ اللَّهُ الدَّارَ الْآخِرَةَ وَلَا تَنسَ نَصِيبَكَ مِنَ الدُّنْيَا…
“আল্লাহ যা কিছু তোমাকে দিয়েছেন, তার দ্বারা আখিরাতের সাফল্য অন্বেষণ করো এবং এই পৃথিবীতে তোমার অংশ ভুলে যেও না।”
(সূরা আল–কাসাস: ৭৭)
শেষকথা,আল্লাহ আমাদের সৃষ্টির উদ্দেশ্য নির্ধারণ করেছেন—তাঁর ইবাদত করা। দুনিয়ার জীবন সাময়িক এবং এর প্রলোভন আমাদের প্রকৃত লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করতে পারে। তাই আমাদের উচিত ইবাদতকে জীবনের কেন্দ্রে রাখা এবং দুনিয়ার জীবিকার পেছনে ছুটতে গিয়ে আল্লাহর স্মরণ ভুলে না যাওয়া। কুরআন ও হাদিসের শিক্ষা আমাদের এ বিষয়ে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেয়।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে ইবাদতের মাধ্যমে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের তাওফিক দান করুন। আমিন।
তথ্যসূত্র
১. আল–কুরআন:
- সূরা আয-যারিয়াত: ৫৬
- সূরা আল-জুমু’আ: ১০
- সূরা হাদিদ: ২০
- সূরা আল-কাসাস: ৭৭
২. হাদিস:
- তিরমিজি: ২৩৩৬
- মুসনাদ আহমদ: ৮৬৩১
- সুনান তিরমিজি: ২৩৪৬










