এমন কাজ করা উচিত নয়, ক্ষমতা গেলে পালিয়ে যেতে হয় : জামায়াত আমির
- Update Time : ০৮:৪১:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৪
- / ১৯৮ Time View

আওয়ামী লীগকে ইঙ্গিত করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘এমন কাজ করা উচিত নয়, যাতে ক্ষমতা চলে গেলে পালিয়ে যেতে হয়, আত্মগোপনে যেতে হয় কিংবা ভয়ংকর পরিণতির মুখোমুখি হতে হয়। এটা কাম্য নয়।’
শনিবার (২১ ডিসেম্বর) রাতে সিলেটের একটি অভিজাত হোটেলে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার বিষয়ে
সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি দাবি করি, যে–ই দুষ্কৃতিকারী হোক, তাদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দেওয়া হোক।’
মতবিনিময় সভায় বক্তারা প্রায় দুই হাজার নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সব নির্যাতন ধর্মীয় কারণে হয়নি। আমি রাজনীতি করি, এটা অপরাধ না। যে–ই ধর্মের মানুষ হোক, এ দেশের নাগরিক হিসেবে রাজনীতি করার অধিকার সবার আছে। তবে রাজনীতির সঙ্গে সন্ত্রাস মেলানো যাবে না। অনেক ঘটনা রাজনৈতিক কারণে ঘটেছে, যা সঠিকভাবে পর্যালোচনা করা উচিত।’
রাজনীতি ও সতর্কতা
রাজনীতিতে সতর্কতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘যে–ই রাজনীতি করুন, তাকে সতর্ক হয়ে কাজ করতে হবে। এমন কোনো কাজ করা উচিত নয়, যাতে ক্ষমতা ছাড়ার পর পালিয়ে যেতে হয়, আত্মগোপনে থাকতে হয়, কিংবা ভয়ংকর পরিণতি ভোগ করতে হয়। এমন রাজনীতি কারো কাম্য নয়।’
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘বর্তমান সরকার রাজনৈতিক না হলেও জনগণের সচেতনতার কারণে সমাজে কিছুটা শান্তি রয়েছে। তবে এটি আরও উন্নত করার সুযোগ রয়েছে।’
ধর্ম নিয়ে মতামত
ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘ধর্ম চাপিয়ে দেওয়ার বিষয় নয়; এটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ব্যাপার। যারা ধর্ম চাপিয়ে দেন, তারা সেন্টিমেন্ট বোঝেন
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা মেজরিটি–মাইনোরিটি মানি না। এ দেশের নাগরিক সবাই সমমর্যাদাবান। জাতীয় স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। অশান্তি হলে সবাইকেই ভোগ করতে হবে। আমরা একটি শান্তিপূর্ণ মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই।’
নির্বাচিত নেতাদের সম্পদ নিয়ে অসন্তোষ
নির্বাচিত নেতাদের সম্পদের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নেতা হওয়ার পর সম্পদ কমা উচিত, বাড়া নয়। কিন্তু এখন রাজনীতি একটি মারাত্মক লাভজনক ব্যবসা হয়ে উঠেছে।’
অভিযোগের প্রতিক্রিয়া
জামায়াতের ওপর জমি দখলসহ বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যদি আমাদের দলের কারো দ্বারা অপরাধ হয়ে থাকে, সরাসরি আমাকে জানান। আমি জীবিত থাকলে বিচার পাবেন।’
চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে
চাঁদাবাজিতে জামায়াতের জড়িত না থাকার দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমাদের দল চাঁদাবাজিতে নেই। আমরা চাঁদাবাজিকে হারাম হিসেবে দেখি। যদি কোনো অভিযোগ থাকে, আমি এর বিচার করব।’
দলীয় নির্যাতনের দাবি
ডা. শফিকুর রহমান দাবি করেন, আওয়ামী লীগের আমলে তাদের দল সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের ১১ জন শীর্ষ নেতা খুন হয়েছেন। আমাদের দলের ওপর চাপ অন্য কোনো দলের ওপর দেওয়া হয়নি।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘আমরা সব ধর্মের মানুষের পাশে ছিলাম এবং থাকব। আমাদের স্বেচ্ছাসেবকরা দিন–রাত কাজ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে নিরাপত্তা দিয়েছেন। আমরা একটি ঐক্যবদ্ধ, শান্তিপূর্ণ দেশ গড়তে চাই।’











