১৬ বছরে দলীয় প্রভাবে আমরা হেন অন্যায় নাই করি নাই: সিলেটে আইজিপি
- Update Time : ০৮:৩৮:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৪
- / ২১৯ Time View

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম সিলেটে এক মতবিনিময় সভায় বলেন, “গত ১৬ বছরে দলীয় প্রভাবের কারণে আমরা এমন কোনো অন্যায় নেই যা করিনি। এ জন্য আমরা অত্যন্ত দুঃখিত ও লজ্জিত।”
শনিবার দুপুরে সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে আইজিপি এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “পুলিশ বিভাগ যাতে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকে, সে জন্য পুলিশ সংস্কার কমিশনের কাছে দাবি জানানো হয়েছে। আমরা চাই, রাজনৈতিক কুপ্রভাব দূর হয়ে সুপ্রভাব আসুক।”
নির্মমতার স্বীকারোক্তি
আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, “আমাদের অতীত কর্মকাণ্ড দেখে মনে হয়, পৃথিবীর ইতিহাসে কোনো পুলিশ এত নির্মম আচরণ করেনি। সেনাবাহিনী যুদ্ধক্ষেত্রে নির্মম হতে পারে, কিন্তু পুলিশের এই আচরণ ছিল অভাবনীয়। আমরা এমন পর্যায়ে চলে গিয়েছিলাম যে, মানুষ হত্যা যেন স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জার। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।”
তিনি আরও বলেন, “কষ্টকর অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে আমরা একটি ঝড় পার করেছি। শুধু পুলিশ নয়, সমাজও এই অবস্থার শিকার হয়েছে। মানুষের মধ্যে পুলিশের প্রতি ঘৃণা এতটাই বেড়েছিল যে, তা সহ্য করা কঠিন হয়ে উঠেছিল। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে আমরা মাঠে আছি, সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলছি, এবং মানুষের আস্থা ফেরাতে কাজ করছি।”
অসাধু ব্যক্তিদের অপব্যবহার এবং মামলার জটিলতা
সমাজের কিছু অসাধু লোক ও প্রভাবশালী নেতারা নিরীহ লোকদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন আইজিপি। তিনি পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন, “যেন কোনো নিরীহ ব্যক্তিকে হয়রানি করা না হয়। যাঁরা নির্দোষ, তাঁদের আশ্বস্ত করার জন্য ফোন দেওয়া হচ্ছে, তাঁদের গ্রেপ্তার করা হবে না।”
মামলা বন্ধ করার ক্ষমতা পুলিশের হাতে নেই উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, “কিছু অসাধু ব্যক্তি আন্দোলনে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের পিতা বা আত্মীয়কে প্রভাবিত করে হাজার হাজার মানুষকে মামলায় আসামি করছেন। আইন আমাদের এই মামলা বন্ধ করার ক্ষমতা দেয়নি। এটি আইনের সীমাবদ্ধতা।”
অস্ত্র উদ্ধারে জনগণের সহযোগিতা কামনা
দেশব্যাপী প্রায় দেড় হাজার অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এখনো বাকি রয়েছে বলে জানান বাহারুল আলম। তিনি বলেন, “মাটি খুঁড়ে অস্ত্র বের করা কঠিন। পুলিশ মানুষের উপকার করতে পারলে মানুষই আমাদের অস্ত্রের খবর দেবে। এজন্য জনগণের আস্থা অর্জন জরুরি।”
আইজিপি জানান, পুলিশের গোয়েন্দা কার্যক্রম এবং অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে মানুষের সহযোগিতা পেলে কাজ সহজ হবে।
সাংবাদিক হত্যাকাণ্ড নিয়ে দুঃখ প্রকাশ
মতবিনিময় সভায় ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে নিহত এক সংবাদকর্মীর বিষয়ে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন আইজিপি। তিনি মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করার জন্য সিলেটের পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দেন এবং জানান, তিনি নিজেও এই মামলার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবেন।
উপস্থিত কর্মকর্তারা এবং বক্তব্যের প্রভাব
সভায় সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মো. মুশফেকুর রহমান এবং সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. রেজাউল করিম উপস্থিত ছিলেন। এর আগে আইজিপি সিলেট রেঞ্জের পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন।
আইজিপির এই বক্তব্য দেশজুড়ে আলোচিত হয়ে উঠেছে, যা পুলিশ বিভাগের স্বচ্ছতা এবং জনআস্থা পুনরুদ্ধারে নতুন দিকনির্দেশনা দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।











