দ্য ইকোনমিস্টকে সাক্ষাৎকার: বাংলাদেশে ইসলামি চরমপন্থা আসবে না – ড. ইউনূস
- Update Time : ০৮:২৩:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৪
- / ২১৭ Time View

বাংলাদেশে ইসলামি চরমপন্থার ফিরে আসার কোনো আশঙ্কা নেই বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, “তরুণ প্রজন্ম ধর্মীয় নিরপেক্ষতার প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ এবং তারা দেশ গঠনে অত্যন্ত আগ্রহী। এই তরুণ প্রজন্মের হাত ধরেই বাংলাদেশ একটি নতুন পথে এগিয়ে যাচ্ছে।”
প্রভাবশালী ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। সাক্ষাৎকারটি গতকাল শুক্রবার দ্য ইকোনমিস্ট-এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে।
বাংলাদেশ: ইকোনমিস্টের বর্ষসেরা দেশ
২০২৪ সালে বাংলাদেশকে দ্য ইকোনমিস্ট বর্ষসেরা দেশ হিসেবে ঘোষণা করেছে। এটি বিশ্বের সবচেয়ে ধনী বা সুখী দেশ না হলেও গত এক বছরে সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি অর্জনকারী দেশ হিসেবে এই স্বীকৃতি পেয়েছে। বিশেষ করে, শেখ হাসিনা সরকারের স্বৈরশাসনের পতন এবং ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে একটি নতুন রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হওয়াকে এ স্বীকৃতির প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে সাময়িকীটি।
এই সম্মাননা উপলক্ষে দ্য ইকোনমিস্ট-এর বিদেশবিষয়ক সম্পাদক প্যাট্রিক ফোলিস ড. ইউনূসের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন।
তরুণদের শক্তি এবং নতুন বাংলাদেশের যাত্রা
সাক্ষাৎকারের শুরুতে প্যাট্রিক ফোলিস বাংলাদেশকে বর্ষসেরা দেশ হওয়ার জন্য অভিনন্দন জানিয়ে ড. ইউনূসের প্রতিক্রিয়া জানতে চান। ড. ইউনূস বলেন, “আমরা অত্যন্ত আনন্দিত এবং গর্বিত। সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশে একটি বড় পরিবর্তন ঘটেছে। ছাত্র-জনতার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় স্বৈরশাসনের অবসান হয়েছে এবং নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হচ্ছে।”
ড. ইউনূস তরুণদের বিশেষ ভূমিকা তুলে ধরে বলেন, “তরুণ প্রজন্ম দেশের মেরুদণ্ড। সাম্প্রতিক গণ-অভ্যুত্থান তাদের শক্তি এবং ঐক্যের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। তরুণীরা এই পরিবর্তনে বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন এবং তারা সামনের কাতারে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।”
ইসলামি চরমপন্থার ঝুঁকি নেই
প্যাট্রিক ফোলিস প্রশ্ন করেন, বাংলাদেশে ইসলামি চরমপন্থার ফিরে আসার ঝুঁকি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের কর্মকর্তাদের দেওয়া সতর্কবার্তা সম্পর্কে আপনার মত কী? জবাবে ড. ইউনূস আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, “বাংলাদেশে এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। আমাদের তরুণরা ধর্মীয় দৃষ্টিকোণে অত্যন্ত নিরপেক্ষ এবং তারা দেশের উন্নয়নে নিবেদিত। এই উদ্যমী প্রজন্ম নতুন স্বপ্ন এবং লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা তরুণ প্রজন্মের ওপর মনোযোগ দিতে চাই। তাদের স্বপ্ন পূরণ এবং দক্ষতা উন্নয়নের জন্য আমাদের কাজ করা উচিত। তাদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে আমরা একটি শক্তিশালী এবং আধুনিক বাংলাদেশ গড়তে সক্ষম হব।”
তরুণ নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার
ড. ইউনূস উল্লেখ করেন যে সাম্প্রতিক অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তিনজন তরুণকে অন্তর্বর্তী সরকারের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। “তারা এই শতাব্দীর তরুণ এবং তারা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছেন। তারা শুধুমাত্র নেতৃত্ব দিচ্ছেন না; বরং নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এবং উদ্ভাবনী চিন্তা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাচ্ছেন।”
ড. ইউনূসের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
সাক্ষাৎকারের শেষ দিকে ড. ইউনূসের কাছে জানতে চাওয়া হয়, তিনি ভবিষ্যতে কী করতে চান। তিনি বলেন, “আমাকে আমার আগের কাজ থেকে সরিয়ে আনা হয়েছে। আমি প্যারিসে আমার কাজ উপভোগ করছিলাম এবং সে কাজেই ফিরতে চাই। আমি সব সময়ই আমার কাজকে ভালোবেসেছি এবং সেখানেই আবার মনোযোগ দিতে চাই।”
ড. ইউনূসের এই মন্তব্য এবং দৃষ্টিভঙ্গি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে নতুন আশা জাগিয়েছে। তরুণ প্রজন্মের উদ্যম, নেতৃত্ব এবং দেশপ্রেমের ভিত্তিতে বাংলাদেশ একটি নতুন দিগন্তের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। দ্য ইকোনমিস্ট-এর বর্ষসেরা দেশ হিসেবে বাংলাদেশ মনোনীত হওয়া জাতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেরণা, যা বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তিকে আরও সমুন্নত করবে।












এ খবরটা আকর্ষণীয় ছিল