শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্যাডার বিলুপ্ত করে কমিশনের আওতায় নেয়ার সুপারিশ
- Update Time : ০৯:০৪:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৪
- / ১৯৪ Time View

শিক্ষক ও চিকিৎসকদের মর্যাদার বিষয়টি বিবেচনা করে তাদেরকে ক্যাডার সার্ভিস থেকে বের করে পৃথক কমিশনের আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে সরকার। জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন এ দুই ক্যাডারের জন্য জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের আদলে আলাদা কমিশন গঠনের সুপারিশ করবে।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ তথ্য জানান জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রধান আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরী। এ সময় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এবং জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সদস্যসচিব মো. মোখলেস উর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্যাডার বিলুপ্তির যৌক্তিকতা
কমিশন প্রধান আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরী বলেন, “শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্যাডারটি অযৌক্তিক। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা এক নয়। একজন চোখের ডাক্তার, একজন দাঁতের ডাক্তার কিংবা একজন জেনারেল ফিজিশিয়ান—তারা কি পদোন্নতি একসঙ্গে পাচ্ছেন? এটি ক্যাডার সার্ভিসের কাঠামোর জন্য সঠিক নয়। আমরা সুপারিশ করেছি, এই দুটি ক্যাডার আলাদা করে নতুন কমিশনের আওতায় আনা উচিত। বেতন কাঠামোও উন্নত করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “শুধু শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিভাগকে পৃথক করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বাকি সব ক্যাডার সার্ভিস বহাল থাকবে।”
পদোন্নতি পরীক্ষার বাধ্যবাধকতা
উপসচিব ও যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে পরীক্ষার বাধ্যবাধকতার কথা জানিয়ে আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরী বলেন, “পরীক্ষা ছাড়া আর কেউ পদোন্নতি পাবেন না। পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে পরীক্ষা নেওয়া হবে। যদি কেউ ৭০ নম্বর না পান, তিনি পদোন্নতির সুযোগ পাবেন না। উপসচিব ও যুগ্ম সচিব—এই দুটি স্তরে এ নিয়ম প্রযোজ্য হবে। তবে সচিব পর্যায়ে পদোন্নতি দেওয়ার বিষয়টি সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।”
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, “যদি পরীক্ষায় একজন কাস্টমস ক্যাডারের কর্মকর্তা সবচেয়ে বেশি নম্বর পান, তিনি তালিকার শীর্ষে চলে আসবেন। অর্থাৎ যোগ্যতার ভিত্তিতে তালিকায় সবার ওপরে আসার সুযোগ থাকছে।”
নতুন কমিশন গঠনের প্রস্তাব
এ প্রসঙ্গে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মোখলেস উর রহমান বলেন, “জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের মতোই স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ক্যাডারের জন্য পৃথক কমিশন গঠনের সুপারিশ
পুনর্গঠনের উদ্দেশ্য
জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের এই সুপারিশের মাধ্যমে মূলত স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের পেশাজীবীদের উন্নত পদোন্নতি ব্যবস্থা এবং দক্ষতার মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি হবে। এতে শিক্ষকদের পেশাদার মর্যাদা রক্ষা ও চিকিৎসকদের সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতিক্রিয়া
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ক্যাডার বিভাজন এবং পৃথক কমিশন গঠনের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পেশাগত বৈষম্য কমে আসবে। তবে এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের মতামত এবং নীতিনির্ধারণী আলোচনার গুরুত্বও তুলে ধরেছেন তারা।
সরকারের এই উদ্যোগের ফলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পেশার মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা আরও বৃদ্ধি পাবে। জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে এ দুটি খাতে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।





