সময়: রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নির্বাচন ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৮:২১:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৪
  • / ১৯৬ Time View

prothomalo bangla 2024 12 17 6uc4fkxs Press wing

রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সংবাদ ব্রিফিংয়ে কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম -ফাইল ছবি

 

আগামী জাতীয় নির্বাচন ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, আগের দিন বিজয় দিবসে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা . মুহাম্মদ ইউনূস একটি সময়সীমার কথা উল্লেখ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ২০২৫ সালের শেষ ভাগ থেকে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করা যেতে পারে। বক্তব্যের মাধ্যমেই একটি পরিষ্কার রোডম্যাপ দেওয়া হয়েছে। কম সংস্কার হলে নির্বাচন ডিসেম্বর ২০২৫ সালের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে সর্বোচ্চ সময় ধরে বলা যায়, আগামী নির্বাচন ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে।

প্রধান উপদেষ্টার এ ঘোষণার পর বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সরকারের কাছে নির্বাচন অনুষ্ঠান সংক্রান্ত একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ চেয়ে দাবি তোলে। এর প্রেক্ষিতে শফিকুল আলম বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে সময়সীমা দেওয়া হয়েছে, আর চূড়ান্ত তারিখ নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। আমাদের কাজ হচ্ছে নির্বাচন কমিশনকে যথাযথ সহায়তা করা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন করা।

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং সরকারের পরিকল্পনা

প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও বক্তব্য রাখেন প্রধান উপদেষ্টার উপ–প্রেস সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ মজুমদার। তিনি বলেন, নির্বাচনের নির্দিষ্ট তারিখ, মনোনয়নপত্র দাখিলের সময়সূচি, এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা নির্বাচন কমিশনই ঠিক করবে। সরকারের প্রধান দায়িত্ব হলো নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করা। সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নের বিষয়টি একটি জাতীয় দাবি। রাজনৈতিক দল এবং সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকেও নিয়ে বিভিন্ন দাবির কথা আমরা শুনেছি।

প্রয়োজনীয়

সংস্কার এবং জাতীয় ঐক্যের আহ্বান

প্রধান উপদেষ্টার দেওয়া সময়সীমার ভিত্তিতে সরকারের পরিকল্পনা এবং আগামী নির্বাচন নিয়ে জনগণ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা আরও গতি পেয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ বলেন, দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এজন্য প্রয়োজনীয় সংস্কারও করা হবে।

রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রতিক্রিয়া

প্রধান উপদেষ্টার দেওয়া সময়সীমা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলো নির্বাচনকালীন সরকার এবং নির্দিষ্ট রোডম্যাপের বিষয়ে তাদের দাবির প্রতি গুরুত্বারোপ করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য রাজনৈতিক ঐক্য এবং বিশ্বাসযোগ্য পরিকল্পনার বিকল্প নেই।

জনগণের প্রত্যাশা

দেশের জনগণ একটি গ্রহণযোগ্য এবং অবাধ নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন হলে রাজনৈতিক অস্থিরতা কমবে এবং দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা আরও শক্তিশালী হবে। তবে এর জন্য নির্বাচন কমিশন ও সরকারের মধ্যে সমন্বয় এবং কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি।

উল্লেখ্য, সরকারের পক্ষ থেকে নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী নির্বাচন আগামী ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। এখন প্রয়োজন যথাযথ প্রস্তুতি এবং সকল রাজনৈতিক দলের সম্মিলিত উদ্যোগ।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

নির্বাচন ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব

Update Time : ০৮:২১:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৪
রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সংবাদ ব্রিফিংয়ে কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম -ফাইল ছবি

 

আগামী জাতীয় নির্বাচন ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, আগের দিন বিজয় দিবসে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা . মুহাম্মদ ইউনূস একটি সময়সীমার কথা উল্লেখ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ২০২৫ সালের শেষ ভাগ থেকে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করা যেতে পারে। বক্তব্যের মাধ্যমেই একটি পরিষ্কার রোডম্যাপ দেওয়া হয়েছে। কম সংস্কার হলে নির্বাচন ডিসেম্বর ২০২৫ সালের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে সর্বোচ্চ সময় ধরে বলা যায়, আগামী নির্বাচন ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে।

প্রধান উপদেষ্টার এ ঘোষণার পর বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সরকারের কাছে নির্বাচন অনুষ্ঠান সংক্রান্ত একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ চেয়ে দাবি তোলে। এর প্রেক্ষিতে শফিকুল আলম বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে সময়সীমা দেওয়া হয়েছে, আর চূড়ান্ত তারিখ নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। আমাদের কাজ হচ্ছে নির্বাচন কমিশনকে যথাযথ সহায়তা করা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন করা।

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং সরকারের পরিকল্পনা

প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও বক্তব্য রাখেন প্রধান উপদেষ্টার উপ–প্রেস সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ মজুমদার। তিনি বলেন, নির্বাচনের নির্দিষ্ট তারিখ, মনোনয়নপত্র দাখিলের সময়সূচি, এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা নির্বাচন কমিশনই ঠিক করবে। সরকারের প্রধান দায়িত্ব হলো নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করা। সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নের বিষয়টি একটি জাতীয় দাবি। রাজনৈতিক দল এবং সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকেও নিয়ে বিভিন্ন দাবির কথা আমরা শুনেছি।

প্রয়োজনীয়

সংস্কার এবং জাতীয় ঐক্যের আহ্বান

প্রধান উপদেষ্টার দেওয়া সময়সীমার ভিত্তিতে সরকারের পরিকল্পনা এবং আগামী নির্বাচন নিয়ে জনগণ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা আরও গতি পেয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ বলেন, দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এজন্য প্রয়োজনীয় সংস্কারও করা হবে।

রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রতিক্রিয়া

প্রধান উপদেষ্টার দেওয়া সময়সীমা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলো নির্বাচনকালীন সরকার এবং নির্দিষ্ট রোডম্যাপের বিষয়ে তাদের দাবির প্রতি গুরুত্বারোপ করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য রাজনৈতিক ঐক্য এবং বিশ্বাসযোগ্য পরিকল্পনার বিকল্প নেই।

জনগণের প্রত্যাশা

দেশের জনগণ একটি গ্রহণযোগ্য এবং অবাধ নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন হলে রাজনৈতিক অস্থিরতা কমবে এবং দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা আরও শক্তিশালী হবে। তবে এর জন্য নির্বাচন কমিশন ও সরকারের মধ্যে সমন্বয় এবং কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি।

উল্লেখ্য, সরকারের পক্ষ থেকে নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী নির্বাচন আগামী ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। এখন প্রয়োজন যথাযথ প্রস্তুতি এবং সকল রাজনৈতিক দলের সম্মিলিত উদ্যোগ।