শেখ হাসিনাসহ ৫০ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ: হেফাজতের ৫ মে সমাবেশের ঘটনা
- Update Time : ০৪:৫০:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৪
- / ২০০ Time View

২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে সংঘটিত সহিংসতার ঘটনায় ২০১৩ সালের ৫ মে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক পুলিশপ্রধান বেনজীর আহমেদ, সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদসহ ৫০ জনের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তোলা হয়েছে।
হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতা জুনায়েদ আল হাবিব মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কাছে এই অভিযোগ দায়ের করেন। এটি একটি বিতর্কিত ও স্পর্শকাতর ঘটনা, যা আবারো আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে।
শাপলা চত্বরে ৫ মে: কী ঘটেছিল?
২০১৩ সালের ৫ মে, মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম ব্লগারদের শাস্তির দাবিতে এক বিশাল সমাবেশ আয়োজন করে। কিন্তু সমাবেশটি সহিংসতায় রূপ নেয়, যার ফলে মতিঝিল এলাকা জুড়ে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রাতে যৌথ অভিযান চালায়। এর ফলে হেফাজতের সমর্থকদের সরিয়ে দেওয়া হয়।
নিহতের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক
অভিযানের পর মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’ দাবি করে, রাতের অভিযানে ৬১ জন নিহত হয়। তবে, পুলিশ এই দাবি সরাসরি অস্বীকার করে জানায় যে, অভিযানে কেউ নিহত হয়নি। তাদের মতে, সংঘর্ষে দিনভর ১১ জনের প্রাণহানি ঘটে।
এই তথ্যবিভ্রান্তির জের ধরে অধিকার সংগঠনের প্রকাশিত প্রতিবেদন নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। ২০১৩ সালের ১০ আগস্ট, গুলশান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়, যা পরে মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়।
অধিকার সংগঠনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাজা
উক্ত মামলায় বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্বে থাকা ‘অধিকার’-এর সম্পাদক আদিলুর রহমান খান এবং পরিচালক এ এস এম নাসির উদ্দিন এলানকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর তাদের এই সাজা ঘোষণা করা হয়। এক মাস কারাগারে থাকার পর তারা জামিনে মুক্তি পান।
বর্তমান
আদিলুর রহমান খান বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকারের শিল্প মন্ত্রণালয় এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এই ২৪ সদস্যের অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্ম উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সাবেক নায়েবে আমির এবং সুন্নি দেওবন্দি ইসলামি পণ্ডিত আ ফ ম খালিদ হাসান।এই ঘটনাগুলো বাংলাদেশে রাজনৈতিক এবং সামাজিক অঙ্গনে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে, যা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে।
পূর্ববর্তী তদন্ত ও প্রক্রিয়া
২০২৪ সালের ২০ আগস্ট, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় শেখ হাসিনাসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তদন্তের আবেদন দাখিল করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী গাজী এম এইচ তামিম এই আবেদন করেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয় গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার, অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, লেখক শাহরিয়ার কবিরসহ আরও কয়েকজনের নাম। তাদের বিরুদ্ধে মতিঝিলের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়।
অভিযোগের সম্প্রসারণ
জুনায়েদ আল হাবিবের সাম্প্রতিক অভিযোগে ৫০ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে শেখ হাসিনা ছাড়াও সাবেক পুলিশপ্রধান বেনজীর আহমেদ, সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ, এবং প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকীর নামও রয়েছে।
অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, শাপলা চত্বরে অভিযান পূর্বপরিকল্পিত ছিল এবং এটি গণহত্যার শামিল। এই অভিযোগ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তদন্তের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।
রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট
এই ঘটনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্ম উপদেষ্টা হিসেবে হেফাজতে ইসলামের সাবেক নায়েবে আমির আ ফ ম খালিদ হাসান দায়িত্ব পালন করছেন।
অতীতের ঘটনাগুলোর বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হলে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মেরুকরণ হতে পারে। পাশাপাশি, শাপলা চত্বরে হেফাজতের অভিযানের পরবর্তী ঘটনাগুলো নিয়ে সমাজে বিভক্ত মতামত দেখা দিয়েছে।
প্রত্যাশিত প্রভাব
এই অভিযোগ প্রমাণিত হলে এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন ঘটনা হবে। এর মাধ্যমে আইন, মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহারের বিষয়গুলো নতুন আলোচনায় আসবে। অন্যদিকে, অভিযোগ প্রমাণিত না হলে এটি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
অতীতের সহিংসতার বিচার নিশ্চিত করা গেলে দেশের জনগণের আস্থার জায়গায় একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। তবে, বিষয়টি বিচারপ্রক্রিয়ার উপর নির্ভর করছে এবং এর ফলাফলই চূড়ান্ত প্রভাব নির্ধারণ করবে।











