সময়: রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিচারপ্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের রাজনৈতিকভাবে থাকার সুযোগ নেই: নাহিদ ইসলাম

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৪:৩২:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৪
  • / ২১৪ Time View

136964 leded

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম মন্তব্য করেছেন যে বিচারপ্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের রাজনৈতিকভাবে মাঠে থাকার কোনো নৈতিক বা আইনগত অধিকার নেই। বেসরকারি টিভি চ্যানেল ২৪-এ দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

আওয়ামী লীগের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

নাহিদ ইসলাম বলেন, “তারা (আওয়ামী লীগ) একটি গণহত্যার দায়ভার বহন করছে। এই সত্যটা স্বীকার করা এবং বিচারের মুখোমুখি হওয়া তাদের নৈতিক ও রাজনৈতিক দায়িত্ব। বিচারপ্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার কোনো অধিকার নেই।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা হবে।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গি

গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, “বর্তমানে গণমাধ্যম চর্চার ক্ষেত্রে কিছু আইনি বাধা রয়েছে, যা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এই আইনগুলো পর্যালোচনা করা হবে। পাশাপাশি, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এবং কর্পোরেট মালিকানার প্রভাব পর্যালোচনা করে একটি সুষ্ঠু রূপরেখা প্রণয়ন করা হবে।”

তিনি আশ্বাস দেন যে গণমাধ্যমকর্মীদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

নির্বাচন নিয়ে দৃষ্টি

নির্বাচন প্রসঙ্গে মো. নাহিদ ইসলাম বলেন, “মানুষের জনআকাঙ্ক্ষার প্রতি সরকারের দায়বদ্ধতা রয়েছে, কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতি নয়। সংস্কার কমিশনের রিপোর্ট বিশ্লেষণ করে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনী রোডম্যাপ তৈরি করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য ন্যায়ভিত্তিক ও সমতা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।”

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামের বক্তব্যে স্পষ্ট যে, বিচারপ্রক্রিয়া ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে তিনি একটি উদার ও গণতান্ত্রিক কাঠামো প্রতিষ্ঠায় আগ্রহী। একইসঙ্গে, ন্যায়বিচারের মাধ্যমে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাই বর্তমান সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বিচারপ্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের রাজনৈতিকভাবে থাকার সুযোগ নেই: নাহিদ ইসলাম

Update Time : ০৪:৩২:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৪

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম মন্তব্য করেছেন যে বিচারপ্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের রাজনৈতিকভাবে মাঠে থাকার কোনো নৈতিক বা আইনগত অধিকার নেই। বেসরকারি টিভি চ্যানেল ২৪-এ দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

আওয়ামী লীগের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

নাহিদ ইসলাম বলেন, “তারা (আওয়ামী লীগ) একটি গণহত্যার দায়ভার বহন করছে। এই সত্যটা স্বীকার করা এবং বিচারের মুখোমুখি হওয়া তাদের নৈতিক ও রাজনৈতিক দায়িত্ব। বিচারপ্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার কোনো অধিকার নেই।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা হবে।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গি

গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, “বর্তমানে গণমাধ্যম চর্চার ক্ষেত্রে কিছু আইনি বাধা রয়েছে, যা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এই আইনগুলো পর্যালোচনা করা হবে। পাশাপাশি, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এবং কর্পোরেট মালিকানার প্রভাব পর্যালোচনা করে একটি সুষ্ঠু রূপরেখা প্রণয়ন করা হবে।”

তিনি আশ্বাস দেন যে গণমাধ্যমকর্মীদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

নির্বাচন নিয়ে দৃষ্টি

নির্বাচন প্রসঙ্গে মো. নাহিদ ইসলাম বলেন, “মানুষের জনআকাঙ্ক্ষার প্রতি সরকারের দায়বদ্ধতা রয়েছে, কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতি নয়। সংস্কার কমিশনের রিপোর্ট বিশ্লেষণ করে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনী রোডম্যাপ তৈরি করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য ন্যায়ভিত্তিক ও সমতা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।”

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামের বক্তব্যে স্পষ্ট যে, বিচারপ্রক্রিয়া ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে তিনি একটি উদার ও গণতান্ত্রিক কাঠামো প্রতিষ্ঠায় আগ্রহী। একইসঙ্গে, ন্যায়বিচারের মাধ্যমে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাই বর্তমান সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।