সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চোরের মায়ের বড় গলা: ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ এস আলমের বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সালিশি প্রক্রিয়া শুরুর হুঁশিয়ারি

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৪:৫১:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০২৪
  • / ৩৬৯ Time View

136574 salam

বাংলাদেশ ব্যাংক এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে ‘ভীতি প্রদর্শন’ করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন এই শিল্প গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম। তিনি দাবি করেছেন যে, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ চুক্তি এবং সিঙ্গাপুরের নাগরিক হিসেবে তার মর্যাদা তাকে সুরক্ষা প্রদান করবে।

এই বিষয়ে এস আলম গ্রুপ আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন বলে জানা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরকে একটি চিঠিতে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। এ খবর প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের বিরুদ্ধে ‘ভীতি প্রদর্শন’ এবং ‘ভিত্তিহীন অভিযোগ’ আনার অভিযোগ তুলেছেন। এস আলমের পক্ষে আইনি প্রতিষ্ঠান কুইন ইমানুয়েল উর্কুহার্ট অ্যান্ড সালিভান গভর্নরের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছে। এতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও উস্কানিমূলক বলে দাবি করা হয়েছে।

গভর্নরের অভিযোগ

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান মনসুর এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছিলেন, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে এস আলম গ্রুপ ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা (১০ বিলিয়ন ডলার) বিদেশে পাচার করেছে। মনসুরের অভিযোগ ছিল, সাইফুল আলম এবং তার সহযোগীরা গোয়েন্দা সংস্থার কিছু শীর্ষ কর্মকর্তার মাধ্যমে এই অর্থ পাচার করেন। তিনি আরও বলেন, হাসিনার আমলে এস আলম গ্রুপ দেশের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিলেন।

এস আলমের পাল্টা অভিযোগ

এস আলম গ্রুপ এই অভিযোগ নাকচ করেছে। তাদের দাবি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর জনসমক্ষে ভিত্তিহীন ও পক্ষপাতদুষ্ট বক্তব্য দিচ্ছেন, যা তাদের বিরুদ্ধে ভীতি প্রদর্শনের সমান। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সাইফুল আলম ও তার পরিবার সিঙ্গাপুরের নাগরিক এবং বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী হিসেবে ১৯৮০ সালের বিদেশি বিনিয়োগ আইনের অধীনে সুরক্ষিত।

আন্তর্জাতিক সালিশি মামলার হুমকি

চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের বক্তব্য রাষ্ট্রের মন্তব্য হিসেবে গণ্য হবে। এই অবস্থায় নিজেদের অধিকার রক্ষায় আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে যাওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য আইনি ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়।

অন্তর্বর্তী সরকারের চ্যালেঞ্জ

দ্য ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, হাসিনার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এই প্রেক্ষাপটে এস আলমের সালিশি মামলার হুমকি অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

উল্লেখ: এই পরিস্থিতি বাংলাদেশে বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, এবং আন্তর্জাতিক ইমেজের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম এবং তার পরিবারের সিঙ্গাপুরের নাগরিকত্বের দাবিটি এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি সংবাদমাধ্যম দ্য ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস। সাইফুল আলমের আইনি সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান কুইন ইমানুয়েল উর্কুহার্ট অ্যান্ড সালিভান এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। সিঙ্গাপুরের রাষ্ট্রীয় দপ্তর থেকেও নাগরিকত্বের সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।

নাগরিকত্ব বিনিয়োগ চুক্তি

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সাইফুল আলম ও তার পরিবার সিঙ্গাপুরের নাগরিক এবং ২০০৪ সালে বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে স্বাক্ষরিত দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তি অনুযায়ী তারা সুরক্ষিত। তবে সাইফুল আলম এবং তার পরিবারের বাংলাদেশের নাগরিকত্ব রয়েছে কি না, সে বিষয়েও কোনো সুস্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

গভর্নরের মন্তব্য

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান মনসুর দাবি করেছেন, তার সাক্ষাৎকারে এস আলমের বিরুদ্ধে যে তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, তা শতভাগ প্রমাণিত। তিনি আরও বলেন, সাইফুল আলমের দুর্নীতির মাত্রা এত বড় যে, সংশ্লিষ্ট নথি প্রস্তুত করতে কিছুটা সময় লাগছে।

আন্তর্জাতিক সালিশি মামলা পরবর্তী পদক্ষেপ

সালিশি মামলার বিষয়ে সাইফুল আলমের পক্ষ থেকে যে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, তা বাংলাদেশের জন্য নতুন এক কূটনৈতিক ও আইনি চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। এস আলমের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ চুক্তি এবং নাগরিকত্বের সুরক্ষা তুলে ধরে নিজেদের দাবি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হলেও, এই প্রক্রিয়ায় তাদের অবস্থান কতটা শক্তিশালী হবে তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে।

এই পরিস্থিতি ভবিষ্যতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও আইনগত স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

চোরের মায়ের বড় গলা: ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ এস আলমের বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সালিশি প্রক্রিয়া শুরুর হুঁশিয়ারি

Update Time : ০৪:৫১:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০২৪

বাংলাদেশ ব্যাংক এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে ‘ভীতি প্রদর্শন’ করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন এই শিল্প গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম। তিনি দাবি করেছেন যে, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ চুক্তি এবং সিঙ্গাপুরের নাগরিক হিসেবে তার মর্যাদা তাকে সুরক্ষা প্রদান করবে।

এই বিষয়ে এস আলম গ্রুপ আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন বলে জানা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরকে একটি চিঠিতে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। এ খবর প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের বিরুদ্ধে ‘ভীতি প্রদর্শন’ এবং ‘ভিত্তিহীন অভিযোগ’ আনার অভিযোগ তুলেছেন। এস আলমের পক্ষে আইনি প্রতিষ্ঠান কুইন ইমানুয়েল উর্কুহার্ট অ্যান্ড সালিভান গভর্নরের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছে। এতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও উস্কানিমূলক বলে দাবি করা হয়েছে।

গভর্নরের অভিযোগ

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান মনসুর এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছিলেন, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে এস আলম গ্রুপ ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা (১০ বিলিয়ন ডলার) বিদেশে পাচার করেছে। মনসুরের অভিযোগ ছিল, সাইফুল আলম এবং তার সহযোগীরা গোয়েন্দা সংস্থার কিছু শীর্ষ কর্মকর্তার মাধ্যমে এই অর্থ পাচার করেন। তিনি আরও বলেন, হাসিনার আমলে এস আলম গ্রুপ দেশের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিলেন।

এস আলমের পাল্টা অভিযোগ

এস আলম গ্রুপ এই অভিযোগ নাকচ করেছে। তাদের দাবি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর জনসমক্ষে ভিত্তিহীন ও পক্ষপাতদুষ্ট বক্তব্য দিচ্ছেন, যা তাদের বিরুদ্ধে ভীতি প্রদর্শনের সমান। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সাইফুল আলম ও তার পরিবার সিঙ্গাপুরের নাগরিক এবং বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী হিসেবে ১৯৮০ সালের বিদেশি বিনিয়োগ আইনের অধীনে সুরক্ষিত।

আন্তর্জাতিক সালিশি মামলার হুমকি

চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের বক্তব্য রাষ্ট্রের মন্তব্য হিসেবে গণ্য হবে। এই অবস্থায় নিজেদের অধিকার রক্ষায় আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে যাওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য আইনি ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়।

অন্তর্বর্তী সরকারের চ্যালেঞ্জ

দ্য ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, হাসিনার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এই প্রেক্ষাপটে এস আলমের সালিশি মামলার হুমকি অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

উল্লেখ: এই পরিস্থিতি বাংলাদেশে বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, এবং আন্তর্জাতিক ইমেজের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম এবং তার পরিবারের সিঙ্গাপুরের নাগরিকত্বের দাবিটি এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি সংবাদমাধ্যম দ্য ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস। সাইফুল আলমের আইনি সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান কুইন ইমানুয়েল উর্কুহার্ট অ্যান্ড সালিভান এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। সিঙ্গাপুরের রাষ্ট্রীয় দপ্তর থেকেও নাগরিকত্বের সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।

নাগরিকত্ব বিনিয়োগ চুক্তি

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সাইফুল আলম ও তার পরিবার সিঙ্গাপুরের নাগরিক এবং ২০০৪ সালে বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে স্বাক্ষরিত দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তি অনুযায়ী তারা সুরক্ষিত। তবে সাইফুল আলম এবং তার পরিবারের বাংলাদেশের নাগরিকত্ব রয়েছে কি না, সে বিষয়েও কোনো সুস্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

গভর্নরের মন্তব্য

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান মনসুর দাবি করেছেন, তার সাক্ষাৎকারে এস আলমের বিরুদ্ধে যে তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, তা শতভাগ প্রমাণিত। তিনি আরও বলেন, সাইফুল আলমের দুর্নীতির মাত্রা এত বড় যে, সংশ্লিষ্ট নথি প্রস্তুত করতে কিছুটা সময় লাগছে।

আন্তর্জাতিক সালিশি মামলা পরবর্তী পদক্ষেপ

সালিশি মামলার বিষয়ে সাইফুল আলমের পক্ষ থেকে যে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, তা বাংলাদেশের জন্য নতুন এক কূটনৈতিক ও আইনি চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। এস আলমের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ চুক্তি এবং নাগরিকত্বের সুরক্ষা তুলে ধরে নিজেদের দাবি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হলেও, এই প্রক্রিয়ায় তাদের অবস্থান কতটা শক্তিশালী হবে তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে।

এই পরিস্থিতি ভবিষ্যতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও আইনগত স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।