গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের ‘জাতীয় বীর’ হিসেবে স্বীকৃতি দিন : ডা. শফিকুর রহমান
- Update Time : ১২:৫৩:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০২৪
- / ১৮৪ Time View

২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের ‘জাতীয় বীর’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, “গণঅভ্যুত্থানটি কোনো নির্দিষ্ট দলের বা গোষ্ঠীর ছিল না; এটি ছিল সমগ্র জাতির আন্দোলন। এই ঐতিহাসিক ঘটনা দেশের সব শ্রেণির মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল। এমনকি বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসীরাও যার যার অবস্থান থেকে আমাদের লড়াইয়ে সমর্থন দিয়েছেন। তাদের অবদানের কথা জাতি কখনো ভুলবে না।” তিনি গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত এবং তাদের শাহাদাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা কামনা করেন।
মিট দ্য প্রেসে বক্তব্য
১৯ নভেম্বর, মঙ্গলবার পূর্ব লন্ডনের একটি রেস্টুরেন্টে যুক্তরাজ্যের বাংলা মিডিয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে ডা. শফিকুর রহমান এই বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের এ আন্দোলনে যারা প্রাণ দিয়েছেন, তারা জাতির গর্ব। তাদের ‘জাতীয় বীর’ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান একটি নৈতিক দায়িত্ব। এই স্বীকৃতি শুধু তাদের অবদানকে সম্মান জানাবে না, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও জাতীয় ঐক্যের গুরুত্ব উপলব্ধি করাতে সহায়ক হবে।”
প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান
প্রবাসীদের অবদানের কথা উল্লেখ করে ডা. শফিকুর বলেন, “বাংলাদেশের অর্থনীতি প্রবাসীদের রেমিটেন্সের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। তবে অর্থনৈতিক রেমিটেন্সের পাশাপাশি প্রবাসীদের কাছ থেকে বুদ্ধিবৃত্তিক রেমিটেন্সও (ইন্টেলিজেন্স রেমিটেন্স) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি বলেন, “বুদ্ধিবৃত্তিক রেমিটেন্স দেশের নীতি-নির্ধারণ, গবেষণা, এবং শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে। স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে প্রবাসীদের এই অবদান অপরিহার্য।”
তিনি আরো যোগ করেন, “আমাদের দেশের মানুষকে জাতি হিসেবে উন্নত করতে প্রবাসীদের অভিজ্ঞতা এবং মেধার বিনিময় এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।”
দুর্নীতি নিয়ে কঠোর সমালোচনা
বিগত সরকারের দুর্নীতি নিয়ে কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, “আমাদের দেশে উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর ব্যয় অন্য দেশের তুলনায় তিন গুণ বেশি দেখানো হয়। সময়মতো প্রকল্প শেষ না হওয়ায় একের পর এক সময় বৃদ্ধি করা হয় এবং সেই সঙ্গে ব্যয়ও বাড়িয়ে দেখানো হয়। এভাবে দেশের সম্পদ লুটপাট করা হয়েছে।”
তিনি বলেন, “বাংলাদেশে যে উন্নয়ন হওয়া উচিত ছিল, তার অর্ধেকও হয়নি। দুর্নীতির কারণে আমরা আমাদের সম্ভাবনাগুলো কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছি। জাতিগতভাবে অনৈক্য এবং অব্যবস্থাপনার কারণে আমাদের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়েছে।”
একাত্তরের প্রসঙ্গে বক্তব্য
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “যদি একাত্তরে আমরা কোনো ভুল করে থাকি এবং তা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়, আমি জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে প্রস্তুত। তবে আমাদেরকে দমন করার জন্য এবং রাজনৈতিকভাবে দূর্বল করার জন্য যেসব মিথ্যা বিচার ও অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সঠিক নয়। ব্রিটেনের কোর্টের চৌধুরী মাইনুদ্দিনের বিচারের পর্যবেক্ষণে সেখানকার বিচারকরা বলেছেন যে বাংলাদেশের ওয়ার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালের রায় ‘জেনোসাইড অব জাস্টিস’ ছিল।”
তিনি আরো বলেন, “১৫ বছর ধরে আমাদের দলকে নানা প্রতিকূলতার মধ্যে রাখা হয়েছে। আমাদের অফিসে বসতে দেওয়া হয়নি, কথা বলতে দেওয়া হয়নি, এমনকি কোনো র্যালি করতে দেওয়া হয়নি। আমরা জনগণের কাছে যেতে পারিনি। এই অন্যায়ের অবসান হওয়া প্রয়োজন।”
দুর্নীতির প্রভাব ও ব্রিটেনের উদাহরণ
দুর্নীতিকে জাতীয় অগ্রগতির প্রধান বাধা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “যে সমাজের নেতৃত্ব পরিচ্ছন্ন হবে না, সেই সমাজ কখনো উন্নত হতে পারবে না। যুক্তরাজ্য নিজেদের দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারার কারণেই আজ বিশ্বে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। আমাদের দেশেও সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য দুর্নীতিমুক্ত নেতৃত্ব প্রয়োজন।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ উপস্থিতি
‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর ইউরোপের মুখপাত্র ব্যারিস্টার আবু বকর মোল্লাসহ আরও অনেক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন আবু সালেহ ইয়াহইয়া। অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন ইমাম উদ্দিন এবং দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন শিল্পী কামাল হোসাইন।
যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বাংলা মিডিয়ার অর্ধশতাধিক সাংবাদিক এ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি











