সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আফগানিস্তানে তালেবানের প্রকাশ্য মৃত্যুদণ্ড: জনসমক্ষে শাস্তির পুনরাবৃত্তি ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৬:৫২:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৪
  • / ১৯১ Time View

আফগানিস্তানে তালেবানের প্রকাশ্য মৃত্যুদণ্ড

 

আফগানিস্তানে হাজারো দর্শকের সামনে গুলি করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। তালেবান প্রশাসন দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় গারদেশ শহরের একটি স্টেডিয়ামে এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে, যাকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। এটি তালেবানের বর্তমান শাসনামলে ষষ্ঠ প্রকাশ্য মৃত্যুদণ্ড। এএফপির প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

এএফপির এক সাংবাদিক জানান, পাক্তিয়া প্রদেশের গারদেশ শহরে হাজারো দর্শকের সামনে দোষী ব্যক্তির বুকে তিনটি গুলি করেন ভুক্তভোগী পরিবারের একজন সদস্য। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগের সন্ধ্যায় গভর্নরের অফিস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তা ও সাধারণ জনগণকে এই ঘটনায় উপস্থিত থাকার আহ্বান জানায়।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর আফগানিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট জানায়, “এক খুনিকে প্রতিশোধমূলক শাস্তি প্রদান করা হয়েছে।” তাদের বিবৃতিতে দণ্ডিত ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ আয়াজ আসাদ উল্লেখ করা হয়। আদালত আরও জানায়, তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদার অনুমোদনে এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, তালেবান ক্ষমতায় আসার আগেই দোষী ব্যক্তি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন এবং তিনি হাবিবুল্লাহ সাইফ-উল-কাতাল নামের একজনকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত ছিলেন। মামলাটি তিনটি সামরিক আদালতে সঠিকভাবে এবং একাধিকবার পর্যালোচনা করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারকে মৃত্যুদণ্ড স্থগিতের সুযোগ দেওয়া হলেও তারা তা প্রত্যাখ্যান করে।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিরাজুদ্দিন হাক্কানি উপস্থিত ছিলেন।

 

চোখের বদলে চোখ’ নীতির পুনরায় প্রয়োগ

১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তালেবান শাসনকালে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড ছিল সাধারণ ঘটনা। তবে এএফপির তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে মাত্র কয়েকটি প্রকাশ্য মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। ২০২২ সালে আখুন্দজাদা তালেবান সরকারের ইসলামী আইন অনুযায়ী বিচারকদের প্রতিশোধমূলক শাস্তি প্রদানের নির্দেশ দেন, যা ‘চোখের বদলে চোখ’ নীতির অন্তর্ভুক্ত। এতে হত্যার অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের বিধানও রয়েছে।

এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে এক সপ্তাহের ব্যবধানে তিনটি প্রকাশ্য মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। পূর্বাঞ্চলীয় গজনি শহরে দুই ব্যক্তিকে এবং পরে উত্তরাঞ্চলীয় জওজান প্রদেশে এক ব্যক্তিকে গুলি করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তালেবান শাসনে চুরি, ব্যভিচার এবং মদ্যপানের জন্য মূলত বেত্রাঘাতের শাস্তি দেওয়া হয়।

জাতিসংঘ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা তালেবানের শারীরিক শাস্তি ও মৃত্যুদণ্ডের নিন্দা জানিয়েছে। অ্যামনেস্টির মতে, ২০২২ সালে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে শীর্ষে ছিল চীন, ইরান, সৌদি আরব, মিসর এবং যুক্তরাষ্ট্র।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আফগানিস্তানে তালেবানের প্রকাশ্য মৃত্যুদণ্ড: জনসমক্ষে শাস্তির পুনরাবৃত্তি ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

Update Time : ০৬:৫২:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৪

 

আফগানিস্তানে হাজারো দর্শকের সামনে গুলি করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। তালেবান প্রশাসন দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় গারদেশ শহরের একটি স্টেডিয়ামে এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে, যাকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। এটি তালেবানের বর্তমান শাসনামলে ষষ্ঠ প্রকাশ্য মৃত্যুদণ্ড। এএফপির প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

এএফপির এক সাংবাদিক জানান, পাক্তিয়া প্রদেশের গারদেশ শহরে হাজারো দর্শকের সামনে দোষী ব্যক্তির বুকে তিনটি গুলি করেন ভুক্তভোগী পরিবারের একজন সদস্য। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগের সন্ধ্যায় গভর্নরের অফিস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তা ও সাধারণ জনগণকে এই ঘটনায় উপস্থিত থাকার আহ্বান জানায়।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর আফগানিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট জানায়, “এক খুনিকে প্রতিশোধমূলক শাস্তি প্রদান করা হয়েছে।” তাদের বিবৃতিতে দণ্ডিত ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ আয়াজ আসাদ উল্লেখ করা হয়। আদালত আরও জানায়, তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদার অনুমোদনে এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, তালেবান ক্ষমতায় আসার আগেই দোষী ব্যক্তি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন এবং তিনি হাবিবুল্লাহ সাইফ-উল-কাতাল নামের একজনকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত ছিলেন। মামলাটি তিনটি সামরিক আদালতে সঠিকভাবে এবং একাধিকবার পর্যালোচনা করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারকে মৃত্যুদণ্ড স্থগিতের সুযোগ দেওয়া হলেও তারা তা প্রত্যাখ্যান করে।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিরাজুদ্দিন হাক্কানি উপস্থিত ছিলেন।

 

চোখের বদলে চোখ’ নীতির পুনরায় প্রয়োগ

১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তালেবান শাসনকালে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড ছিল সাধারণ ঘটনা। তবে এএফপির তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে মাত্র কয়েকটি প্রকাশ্য মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। ২০২২ সালে আখুন্দজাদা তালেবান সরকারের ইসলামী আইন অনুযায়ী বিচারকদের প্রতিশোধমূলক শাস্তি প্রদানের নির্দেশ দেন, যা ‘চোখের বদলে চোখ’ নীতির অন্তর্ভুক্ত। এতে হত্যার অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের বিধানও রয়েছে।

এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে এক সপ্তাহের ব্যবধানে তিনটি প্রকাশ্য মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। পূর্বাঞ্চলীয় গজনি শহরে দুই ব্যক্তিকে এবং পরে উত্তরাঞ্চলীয় জওজান প্রদেশে এক ব্যক্তিকে গুলি করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তালেবান শাসনে চুরি, ব্যভিচার এবং মদ্যপানের জন্য মূলত বেত্রাঘাতের শাস্তি দেওয়া হয়।

জাতিসংঘ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা তালেবানের শারীরিক শাস্তি ও মৃত্যুদণ্ডের নিন্দা জানিয়েছে। অ্যামনেস্টির মতে, ২০২২ সালে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে শীর্ষে ছিল চীন, ইরান, সৌদি আরব, মিসর এবং যুক্তরাষ্ট্র।