উপদেষ্টা ফারুকী ও বশিরের পদত্যাগ চেয়ে আইনি নোটিশ
- Update Time : ০৬:২৩:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০২৪
- / ১৯৯ Time View

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে নিযুক্ত চলচ্চিত্র নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও ব্যবসায়ী শেখ বশির উদ্দিনের পদত্যাগের জন্য আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) এই নোটিশটি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে পাঠিয়েছেন ঢাকা জজ কোর্টের আইনজীবী মো. সফিকুল ইসলাম সবুজ খান।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, জাতির প্রত্যাশা ছিল একটি নিরপেক্ষ ও সর্বজনীন গ্রহণযোগ্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, যা অতীতের বিতর্ক ও পক্ষপাতের ঊর্ধ্বে উঠে সবার আস্থা অর্জন করবে। তবে, উপদেষ্টা হিসেবে ফারুকী ও বশিরের অন্তর্ভুক্তিকে নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে এবং তাদের পদত্যাগ দাবি করা হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়েছে, এই আইনি নোটিশ পাওয়ার তিন দিনের মধ্যে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও শেখ বশির উদ্দিনের পদত্যাগ কার্যকর করতে হবে। নোটিশদাতা আইনজীবী মো. সফিকুল ইসলাম সবুজ খান নিজেও উপদেষ্টামণ্ডলীতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আবেদন করেছেন।
নোটিশে আরও বলা হয়েছে, মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও শেখ বশির উদ্দিন গত ১০ নভেম্বর সন্ধ্যায় উপদেষ্টা হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। বিগত ১৬ বছর ধরে স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিস্ট শাসনের পতনের পর জনগণ একটি সুন্দর, নিরপেক্ষ, ও বিতর্কমুক্ত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রত্যাশা করেছিল, যা সবার আস্থা অর্জন করবে। কিন্তু বর্তমান উপদেষ্টামণ্ডলীতে বিতর্কিত এবং অতীত সরকারের পক্ষপাতিত্বকারী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি একটি দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যাচ্ছে। নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে যে, এই ধরনের ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নোবেলজয়ী প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বাধীন উপদেষ্টামণ্ডলীকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী তিশা বিগত স্বৈরাচার সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় বিভিন্ন সুবিধা লাভ করেছেন এবং এখন ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের বিজয়ে অংশ নিতে চান। অন্যদিকে, উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিনকেও বিতর্কিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ করা হয়েছে যে তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র হত্যা মামলায় ৪৯ নং এফআইআরের অন্যতম আসামি এবং আওয়ামী সরকারের একজন এমপির ভাই। নোটিশদাতা তাদেরকে উপদেষ্টামণ্ডলী থেকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন, যেহেতু এই ধরনের বিতর্কিত ও স্বৈরাচারী সরকারের সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি সাধারণ জনগণের আস্থার প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করছে।
নোটিশে আরও বলা হয়েছে যে, জুলাইয়ের বিপ্লবে নিহত ও আহত শহীদ ছাত্র-জনতার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য তিন দিনের মধ্যে পদত্যাগের আহ্বান জানানো হচ্ছে। বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা স্বৈরাচারী সরকারের সুবিধাভোগী ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের উপদেষ্টামণ্ডলীতে দেখতে চায় না।
আইনজীবী মো. সফিকুল ইসলাম সবুজ খান আরও দাবি করেছেন যে তিনি গত ১৭ বছর ধরে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নির্যাতন, হামলা, এবং মামলার শিকার হয়েছেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ২৬ দিন গুলির মুখে দাঁড়িয়ে ফ্যাসিবাদ বিরোধী সংগ্রামে অংশগ্রহণ করে গর্বিত অংশীদার হিসেবে নিজেকে দাবি করে তিনি উপদেষ্টামণ্ডলীতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আবেদন করেছেন।











