মার্কিন সিনেটের নেতা হচ্ছেন কে, ট্রাম্প প্রশাসনে কারা আসছেন?
- Update Time : ০৪:৫৫:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ নভেম্বর ২০২৪
- / ১৯৯ Time View

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন শেষ হওয়ার পর সিনেটের নেতৃত্ব নিয়ে কৌতূহল ও আলোচনা শুরু হয়েছে। নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার বিভিন্ন এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চাইবেন, কিন্তু এসব পরিকল্পনা ও নিয়োগের বাস্তবায়ন অনেকাংশেই সিনেটের উপর নির্ভরশীল। প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার মনোনীত ব্যক্তিদের নিয়োগ নিশ্চিত করার জন্য তিনি সিনেটের সমর্থন প্রয়োজন হবে। এজন্য সিনেটের নেতা হিসেবে একজন এমন কাউকে প্রয়োজন, যিনি ট্রাম্পের এজেন্ডাগুলোর প্রতি সহানুভূতিশীল এবং তার মনোনয়নগুলো দ্রুত অনুমোদনে আগ্রহী।
সিনেট নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা
প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার পরিধি যতই বিস্তৃত হোক, মার্কিন সংবিধান ও রাজনৈতিক কাঠামো অনুযায়ী অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর নিয়োগ এবং সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সিনেটের অনুমোদন আবশ্যক। এক্ষেত্রে সিনেট নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে, কারণ তাদের সমর্থন ছাড়া অনেক আইন পাশ করা কিংবা নীতির বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে যায়। সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে রিপাবলিকান পার্টি নেতৃত্বে থাকবে, যা ট্রাম্পের জন্য সুবিধাজনক হতে পারে। তবে এই সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা কে হবেন, তা নিয়ে নানা আলোচনা চলছে, কারণ সিনেটের নেতৃত্ব নির্বাচনে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের কাকে সমর্থন করবেন, সেটি প্রেসিডেন্টের পরবর্তী এজেন্ডা ও প্রশাসনের গঠন প্রক্রিয়ার উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে।
ফ্লোরিডার সিনেটর রিক স্কট আলোচনায়
সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা নির্বাচনে অন্যতম আলোচিত নাম ফ্লোরিডার রিক স্কট। স্কট তার সহকর্মী টেক্সাসের জন করনিন ও সাউথ ডাকোটার জন থুনের বিপরীতে রিপাবলিকান পার্টির আস্থা অর্জন করছেন। করনিন এবং থুন দুজনেই রিপাবলিকান দলের সিনিয়র সদস্য হলেও, তারা ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ বলে বিবেচিত নন। ফলে রিক স্কটকে রিপাবলিকানদের ঘনিষ্ঠ এবং তৃণমূল নেতাদের পাশাপাশি ট্রাম্পের সহযোগীরাও সমর্থন করছেন। আলবামার টমি টিউবারভিলসহ অন্তত পাঁচজন রিপাবলিকান সিনেটর ইতোমধ্যে স্কটকে সমর্থন দিয়েছেন। এছাড়াও টেকনোলজি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক ও সিনেটর মার্ক রুবিও তাকে প্রকাশ্যে সমর্থন করেছেন, যা স্কটের প্রার্থিতাকে আরও শক্তিশালী করছে। সিনেটের বর্তমান নেতা মিচ ম্যাককনেল আগেই পদত্যাগের ইঙ্গিত দিয়েছেন, যার ফলে রিক স্কট নতুন নেতা হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল হয়ে উঠেছে।

ট্রাম্প প্রশাসনে কারা আসছেন?
ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমানে তাদের মন্ত্রিসভার জন্য যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ শুরু করেছে। ট্রাম্প ইতোমধ্যে তার হোয়াইট হাউজ চীফ অফ স্টাফ হিসেবে সুসি ওয়াইলসের নাম ঘোষণা করেছেন, যিনি তার প্রচারণা দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদে ভিবেক রামাস্বামীর নাম সামনে এসেছে, যিনি প্রাইমারি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তার কূটনৈতিক দক্ষতা এবং ট্রাম্পের মন্ত্রিসভায় ভূমিকা রাখার প্রতিশ্রুতি বিবেচনায় তাকে পররাষ্ট্রনীতির প্রধান হিসেবে দেখা যেতে পারে।
অর্থমন্ত্রীর পদে বিখ্যাত ব্যবসায়ী এবং মিলিয়ন ডলার ব্যয়ের জন্য পরিচিত স্কট বেসেন্টের নামও শোনা যাচ্ছে। ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতি এবং বাজেট পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তার অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো হতে পারে। প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদে ক্রিস্টোফার মিলারের নাম উল্লেখযোগ্য, যিনি ক্যাপিটল হিল দাঙ্গার সময় ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। তার সামরিক অভিজ্ঞতা তাকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনে উপযুক্ত প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত করেছে।
অভিবাসন নীতি এবং টম হোম্যানের ভূমিকা
অভিবাসন নীতির ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসন শুরু থেকেই কড়া অবস্থান নেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এজন্য হোমল্যান্ড সেক্রেটারি হিসেবে টম হোম্যানকে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন এবং অবৈধ অভিবাসীদের ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেন। তার নেতৃত্বে অভিবাসন নীতি আরও কঠোর হতে পারে, বিশেষ করে সীমান্ত সুরক্ষা এবং অনিবন্ধিত অভিবাসীদের দেশে ফেরানোর ক্ষেত্রে।
কংগ্রেসের দুই কক্ষেই রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণের সম্ভাবন
যদিও এখনো নিশ্চিত নয়, তবে যদি কংগ্রেসের দুই কক্ষেই রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা হয়, তাহলে ট্রাম্পের প্রশাসন নীতিনির্ধারণ এবং আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে সক্ষম হবে। এক্ষেত্রে, সিনেট এবং হাউজ উভয়েই রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রণে আসলে ট্রাম্পের এজেন্ডাগুলো বাস্তবায়ন অনেক সহজ হয়ে যাবে। কংগ্রেসের সমর্থন থাকলে ট্রাম্প তার অর্থনীতি, প্রতিরক্ষা, অভিবাসন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের নীতি বাস্তবায়নে বাধাহীন হয়ে উঠবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন এবং সিনেটের নতুন নেতা নির্বাচনের বিষয়টি ট্রাম্প প্রশাসনের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম কতটা সফলভাবে পরিচালিত হবে, তার উপর একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি











