এক আগ্নেয়গিরির কারণে বদলে গেছে বিশ্বের আবহাওয়া
- Update Time : ১১:৫৫:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৪
- / ২৪৫ Time View

একটি শক্তিশালী আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে বদলে যাচ্ছে পৃথিবীর জলবায়ু। ২০২২ সালের ১৫ জানুয়ারি দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে হুঙ্গা টোঙ্গা-হুঙ্গা হাপাই নামের এই আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে, যা বৈশ্বিক জলবায়ুর ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন যে এই অগ্ন্যুৎপাতের কারণে আগামী বছরগুলোতে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান অঞ্চলে শীতের মাত্রা আরও বেড়ে যেতে পারে, এবং বাল্টিক সাগর দীর্ঘদিন পর আবারও বরফে ঢাকা পড়তে পারে।
২০২২ সালের ঐ দিন ভয়ংকর অগ্ন্যুৎপাতের ফলে ১০ থেকে ১৫ কোটি টন সমুদ্রের পানি স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে বাষ্পীভূত হয়েছিল। এই বিশাল পরিমাণ জলীয় বাষ্প দিয়ে প্রায় ৬০ হাজার অলিম্পিক আকারের সুইমিং পুল পূর্ণ করা সম্ভব। এই ঘটনার পর, অস্ট্রেলিয়ার সিডনির ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলসের বিজ্ঞানীরা ২০২৩ সালে ওজোনস্তরে বড় একটি ছিদ্রের আবিষ্কার করেন। এই ছিদ্রের কারণেই ২০২৪ সালে অস্ট্রেলিয়া গ্রীষ্মকালে স্বাভাবিকের চেয়ে শুষ্ক ছিল।
এদিকে, বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, আগ্নেয়গিরির বাষ্প জলবায়ুতে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে। বিভিন্ন জলবায়ু মডেল থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্ক্যান্ডিনেভিয়ার শীতকালে তাপমাত্রা আরও হ্রাস পেতে পারে, এবং এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে যা ১৯৮০ সালের দশকের মতো শীতল এবং তুষারপূর্ণ হবে। সে সময় বাল্টিক সাগরের ৯৬ শতাংশ বরফে ঢেকে গিয়েছিল। এবারের আগ্নেয়গিরির প্রভাবও একই রকম পরিণতি বয়ে আনতে পারে বলে ধারণা করছেন বিজ্ঞানীরা।
বিভিন্ন জলবায়ু মডেল পর্যালোচনায় বিজ্ঞানীরা দেখছেন, আগামী পাঁচ বছর পর্যন্ত উত্তর অস্ট্রেলিয়ার শীত স্বাভাবিকের চেয়ে শীতল এবং আর্দ্র হতে পারে। একইভাবে, স্ক্যান্ডিনেভিয়ার শীত আরও তীব্র হবে এবং উত্তরের আমেরিকায় উষ্ণ শীতকাল দেখা যেতে পারে। এমনকি ২০২৯ সাল পর্যন্ত এই পরিস্থিতি বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বিজ্ঞানী মার্টিন জুকারের মতে, স্ক্যান্ডিনেভিয়ার তাপমাত্রা ১ থেকে ১.৫ সেলসিয়াস হ্রাস পেতে পারে। এই পরিবর্তনগুলো আঞ্চলিক জলবায়ুর পরিবর্তন ছাড়াও, বিশ্বজুড়ে বায়ুমণ্ডলের বাতাসের তরঙ্গের উপরও প্রভাব ফেলছে, যা বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রার পরিবর্তন ঘটাচ্ছে।
এছাড়া, বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার বিশেষজ্ঞদের মতে, লা নিনা পরিস্থিতির কারণে ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে চলতি বছরের শীত আরো কঠোর হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, এই বছর অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত লা নিনা পরিস্থিতি ৬০ শতাংশ পর্যন্ত দেখা যেতে পারে, যা আল্পস পর্বতমালায় ভারী তুষারপাতের সম্ভাবনা তৈরি করবে। আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, লা নিনার এই পরিবর্তন আগামী কয়েক বছর ধরে জলবায়ু পরিবর্তনের গতিপ্রকৃতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
এই অগ্ন্যুৎপাত এবং জলবায়ুর পরিবর্তন গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন বিজ্ঞানীরা, এবং তারা সতর্কবার্তা দিচ্ছেন যে আগামি কয়েক বছর পৃথিবীর আবহাওয়ার ওপর এই ধরনের প্রাকৃতিক ঘটনা প্রভাবিত করতে থাকবে।
সূত্র: ইউরোনিউজ











