জন্মের সময়কাল কি মেজাজ এবং অর্জনকে প্রভাবিত করে?
- Update Time : ০৬:১৪:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৪
- / ২৪৭ Time View

জ্যোতিষশাস্ত্র, বা নক্ষত্রের জ্ঞান, হাজার হাজার বছরের পুরনো একটি শাস্ত্র। অন্যদিকে, বিজ্ঞান দীর্ঘদিন ধরে এই জ্ঞানের অস্তিত্বকে অস্বীকার করে এসেছে। বিজ্ঞানীরা এটি তদন্ত করতে কয়েকটি গবেষণা পরিচালনা করেছেন যে আপনার জন্মের মাস, দিন, বা ঋতু কি আপনার ভবিষ্যৎ জীবনকে প্রভাবিত করতে পারে। তাহলে আমাদের ব্যক্তিত্ব এবং জন্ম মাসের মধ্যে এই সংযোগ সম্পর্কে বিজ্ঞান কি বলে?
১৯৭০-এর দশকে একাধিক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে যে, একজন ব্যক্তি কোন মাসে জন্মেছেন তার ব্যক্তিত্বের উপর ওই মাসের প্রভাব রয়েছে কিনা। কিছু গবেষক জন্ম মাসের সাথে ব্যক্তিত্বের সংযোগ নিয়ে বিতর্ক করেছেন এবং এর অস্তিত্বকে সন্দেহের চোখে দেখেছেন। তারা যুক্তি দিয়েছেন যে একজন ব্যক্তির চরিত্র এবং ব্যক্তিত্ব তার জীবনের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠে। তবে, কিছু গবেষক বলেছেন যে জন্ম মাস সত্যিই একজন ব্যক্তির ব্যক্তিত্বে প্রভাব ফেলতে পারে।
২০১৩ সালে, জার্নাল অফ সোশ্যাল সায়েন্সেস একটি নিবন্ধ প্রকাশ করে যেখানে মানুষ কেমন ব্যক্তিত্ব গড়ে তোলে তা জন্ম মাসের সঙ্গে সম্পর্কিত তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। এই গবেষণায় রাজনীতিবিদ, ক্রীড়াবিদ, অভিনেতা ও সঙ্গীতশিল্পী—মোট ৩০০ জন সেলিব্রিটির ওপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়।
গবেষকরা দেখেছেন, বেশিরভাগ সেলিব্রিটি কুম্ভ রাশির জাতক জাতিকা। জানা যায়, জানুয়ারির শেষ থেকে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি জন্মগ্রহণকারীরা কুম্ভ রাশির অন্তর্ভুক্ত। এই গবেষণাটি সমাজবিজ্ঞানীদের মধ্যে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে, যার মধ্যে যোগাযোগ বিষয়ক অধ্যাপক ড. মার্ক হ্যামিল্টনও রয়েছেন।
ড. হ্যামিল্টন তিন হাজার খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে আজ পর্যন্ত জন্মগ্রহণকারী ৮৫ হাজার বিখ্যাত ব্যক্তির জীবন ও ব্যক্তিত্ব অধ্যয়ন করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা তথ্য নিয়ে বিশ্লেষণ করেছি এবং আমাদের গবেষণার ফলাফল মূল গবেষণার সাথে মিলে যায়।”
তিনি বিশ্বাস করেন যে উত্তরটি ‘ক্রোনোবায়োলজি’ নামক বিজ্ঞানের একটি শাখা থেকে আসতে পারে, যা জীবনের ছন্দ বা চক্র নিয়ে অধ্যয়ন করে। এর মানে, আপনার জন্মের সময় জলবায়ু এবং সূর্যের প্রভাবে আপনার জীবনকে প্রভাবিত করতে পারে।
ড. হ্যামিল্টন উল্লেখ করেছেন, “জ্যোতিষশাস্ত্র শতভাগ নিশ্চিত ফলাফল নাও দিতে পারে, তবে এর কিছু দিক জীবনের সময়রেখা এবং প্রাকৃতিক প্যাটার্নের সাথে মিলে যেতে পারে।”
এক গবেষণায় দেখা গেছে, একই মাসে ভিন্ন ভিন্ন বছরে জন্মগ্রহণকারী ছাত্রদের খ্যাতিমান হওয়ার সম্ভাবনা সমান নয়।
তিনি বলেন, “স্কুল বর্ষের শুরুতে জন্মগ্রহণকারীরা কিছু ক্ষেত্রে স্কুল বছরের শেষে জন্মগ্রহণকারীদের তুলনায় কিছুটা ভালো হতে পারে।”স্কুলে প্রাথমিক সাফল্য আপনাকে পরিণত বয়সে আরও আত্মবিশ্বাস যোগাতে পারে।
২০১৪ সালে ইউরোপীয় কলেজ অফ নিউরোসাইকোফার্মাকোলজি একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে যেখানে দেখা যায় যে, জন্মের বছর আপনার মেজাজের উপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, বসন্ত এবং গ্রীষ্মে জন্মগ্রহণকারীরা অতিরিক্ত ইতিবাচক।গবেষকরা আরও দেখেছেন, শীতকালে জন্মগ্রহণকারীরা অন্যান্য ঋতুতে জন্মগ্রহণকারীদের তুলনায় কম খিটখিটে মেজাজের হন।
২০১৬ সালে, ন্যাশনাল ফুটবল মিউজিয়াম একটি সমীক্ষা প্রকাশ করে, যেখানে দেখা যায় যে সফল খেলোয়াড়দের বেশিরভাগই সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।যদি ফুটবলের দুনিয়ায় ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন দেখে থাকেন এবং সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে জন্ম না নেন, তাহলে হতাশ হবেন না। ফুটবলের কিংবদন্তি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ফেব্রুয়ারিতে এবং লিওনেল মেসি জুনে জন্মগ্রহণ করেছেন।
ব্রুনেল ইউনিভার্সিটিতে ২০০৮ সালের এক গবেষণায় দেখা যায়, অভিজ্ঞ দাবা খেলোয়াড়দের জন্মের মাস ও ঋতুর মধ্যে একটি সম্পর্ক রয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই খেলোয়াড়দের অনেকেই শীতের শেষের দিকে এবং বসন্তের শুরুতে জন্মগ্রহণ করেছেন।
এভাবে, জন্মের সময়কাল কি সত্যিই মেজাজ এবং অর্জনকে প্রভাবিত করে? এটি একটি গবেষণার বিষয়, এবং গবেষণাগুলোতে যে তথ্য উঠে এসেছে তা অনেক কিছু ভাবতে বাধ্য করে।






