সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মুসলিম পুরুষদের চারটি বিয়ে করার অধিকার রয়েছে:বোম্বে হাইকোর্টের রায়

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৬:৪৮:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৪
  • / ১৯৩ Time View

মুসলিম পুরুষদের চারটি বিয়ে করার অধিকার রয়েছে

ভারতের বোম্বে হাইকোর্ট এক যুগান্তকারী রায়ে ঘোষণা করেছেন যে, মুসলিম ব্যক্তিগত আইন অনুযায়ী, মুসলিম পুরুষদের একসঙ্গে চারটি স্ত্রী রাখার অধিকার রয়েছে এবং তারা একাধিক বিবাহের নিবন্ধনও করতে পারেন। এই রায় ভারতের মহারাষ্ট্রে মুসলিম পুরুষদের বিবাহ সংক্রান্ত আইনি প্রতিবন্ধকতা দূর করেছে।

ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুসারে, মামলাটি শুরু হয় ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে, যখন এক মুসলিম ব্যক্তি তার তৃতীয় বিবাহ নিবন্ধন করতে চেয়েছিলেন। তিনি আলজেরিয়ার এক নারীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। কিন্তু মহারাষ্ট্রের বিবাহ আইন অনুযায়ী একাধিক বিয়ের নিবন্ধন অনুমোদিত না হওয়ায় তার আবেদনটি থানে পৌর কর্পোরেশন থেকে খারিজ করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন এবং মামলা দায়ের করেন। শুনানির শেষে, আদালত তার পক্ষেই রায় দেন।

মহারাষ্ট্রের বিবাহ আইন অনুযায়ী, সাধারণত একক বিবাহের ভিত্তিতে নিবন্ধন করা হয় এবং একাধিক বিবাহের জন্য সেখানে কোনো আইনি সুযোগ নেই। এই আইনকে কেন্দ্র করে ওই মুসলিম ব্যক্তির তৃতীয় বিবাহ নিবন্ধনের আবেদন অগ্রাহ্য করা হয়েছিল। তবে, মুসলিম ব্যক্তিগত আইনে একজন পুরুষকে সর্বাধিক চারটি বিয়ে করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তবে এর শর্ত হলো, প্রতিটি স্ত্রীর সঙ্গে সমান অধিকার ও সুবিচার নিশ্চিত করতে হবে। বৈষম্যের কোনো সুযোগ নেই।

বোম্বে হাইকোর্টে ২০২৩ সালের ১৫ অক্টোবর বিচারপতি বিপি কোলাবাওয়ালা ও সোমাশেখর সুন্দরেশনের বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। বিচারপতিরা মহারাষ্ট্রের বিবাহ আইন বিশ্লেষণ করে রায় দেন যে, এই আইনে মুসলিমদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় বিধানগুলোকে প্রতিহত করার কোনো ধারা নেই। তারা আরও উল্লেখ করেন, মুসলিম পুরুষদের একাধিক বিবাহের নিবন্ধন করতে না দেওয়া সম্পূর্ণভাবে ভুল ধারণার ভিত্তিতে করা হচ্ছে।

আদালত উল্লেখ করেন যে, থানে পৌর কর্পোরেশন এর আগে আবেদনকারীর দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে তার বিবাহ নিবন্ধন করেছে। সুতরাং, তৃতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে নিবন্ধন না করা অনুচিত। বিচারপতিরা বলেন, মুসলিম পুরুষদের একাধিক বিয়ে করার অধিকার তাদের ধর্মীয় বিধানের অংশ, যা তাদের ব্যক্তিগত আইন দ্বারা সুরক্ষিত।

রায়ে আরও বলা হয় যে, আবেদনকারীর তৃতীয় বিবাহের নিবন্ধন নিয়ে থানে মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের উপ-বিবাহ নিবন্ধককে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং কোনো দেরি না করে বিবাহ নিবন্ধনের কাজ সম্পন্ন করতে হবে।

এই রায় মুসলিম ব্যক্তিগত আইনের অধিকার রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এবং ভারতের মুসলিম সমাজে এর ব্যাপক প্রভাব পড়বে। এটি মুসলিম ব্যক্তিগত আইনের স্বীকৃতি এবং তা মেনে চলার ক্ষেত্রে একটি নতুন দিক নির্দেশনা দিয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

মুসলিম পুরুষদের চারটি বিয়ে করার অধিকার রয়েছে:বোম্বে হাইকোর্টের রায়

Update Time : ০৬:৪৮:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৪

ভারতের বোম্বে হাইকোর্ট এক যুগান্তকারী রায়ে ঘোষণা করেছেন যে, মুসলিম ব্যক্তিগত আইন অনুযায়ী, মুসলিম পুরুষদের একসঙ্গে চারটি স্ত্রী রাখার অধিকার রয়েছে এবং তারা একাধিক বিবাহের নিবন্ধনও করতে পারেন। এই রায় ভারতের মহারাষ্ট্রে মুসলিম পুরুষদের বিবাহ সংক্রান্ত আইনি প্রতিবন্ধকতা দূর করেছে।

ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুসারে, মামলাটি শুরু হয় ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে, যখন এক মুসলিম ব্যক্তি তার তৃতীয় বিবাহ নিবন্ধন করতে চেয়েছিলেন। তিনি আলজেরিয়ার এক নারীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। কিন্তু মহারাষ্ট্রের বিবাহ আইন অনুযায়ী একাধিক বিয়ের নিবন্ধন অনুমোদিত না হওয়ায় তার আবেদনটি থানে পৌর কর্পোরেশন থেকে খারিজ করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন এবং মামলা দায়ের করেন। শুনানির শেষে, আদালত তার পক্ষেই রায় দেন।

মহারাষ্ট্রের বিবাহ আইন অনুযায়ী, সাধারণত একক বিবাহের ভিত্তিতে নিবন্ধন করা হয় এবং একাধিক বিবাহের জন্য সেখানে কোনো আইনি সুযোগ নেই। এই আইনকে কেন্দ্র করে ওই মুসলিম ব্যক্তির তৃতীয় বিবাহ নিবন্ধনের আবেদন অগ্রাহ্য করা হয়েছিল। তবে, মুসলিম ব্যক্তিগত আইনে একজন পুরুষকে সর্বাধিক চারটি বিয়ে করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তবে এর শর্ত হলো, প্রতিটি স্ত্রীর সঙ্গে সমান অধিকার ও সুবিচার নিশ্চিত করতে হবে। বৈষম্যের কোনো সুযোগ নেই।

বোম্বে হাইকোর্টে ২০২৩ সালের ১৫ অক্টোবর বিচারপতি বিপি কোলাবাওয়ালা ও সোমাশেখর সুন্দরেশনের বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। বিচারপতিরা মহারাষ্ট্রের বিবাহ আইন বিশ্লেষণ করে রায় দেন যে, এই আইনে মুসলিমদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় বিধানগুলোকে প্রতিহত করার কোনো ধারা নেই। তারা আরও উল্লেখ করেন, মুসলিম পুরুষদের একাধিক বিবাহের নিবন্ধন করতে না দেওয়া সম্পূর্ণভাবে ভুল ধারণার ভিত্তিতে করা হচ্ছে।

আদালত উল্লেখ করেন যে, থানে পৌর কর্পোরেশন এর আগে আবেদনকারীর দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে তার বিবাহ নিবন্ধন করেছে। সুতরাং, তৃতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে নিবন্ধন না করা অনুচিত। বিচারপতিরা বলেন, মুসলিম পুরুষদের একাধিক বিয়ে করার অধিকার তাদের ধর্মীয় বিধানের অংশ, যা তাদের ব্যক্তিগত আইন দ্বারা সুরক্ষিত।

রায়ে আরও বলা হয় যে, আবেদনকারীর তৃতীয় বিবাহের নিবন্ধন নিয়ে থানে মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের উপ-বিবাহ নিবন্ধককে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং কোনো দেরি না করে বিবাহ নিবন্ধনের কাজ সম্পন্ন করতে হবে।

এই রায় মুসলিম ব্যক্তিগত আইনের অধিকার রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এবং ভারতের মুসলিম সমাজে এর ব্যাপক প্রভাব পড়বে। এটি মুসলিম ব্যক্তিগত আইনের স্বীকৃতি এবং তা মেনে চলার ক্ষেত্রে একটি নতুন দিক নির্দেশনা দিয়েছে।