সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বয়স বাড়ছে নাকি সংখ্যা!

আঁখি বেগম
  • Update Time : ০৭:১১:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৪
  • / ১৯৭ Time View

age

বয়স নিয়ে আমাদের চিন্তাভাবনা অনেক বদলে গেছে। বয়সের চারটি প্রধান ধাপ রয়েছেশৈশব, কৈশোর, তারুণ্য এবং বৃদ্ধাবস্থা। আমরা সাধারণত বৃদ্ধদেরপ্রবীণবলে সম্মান জানাই। কিন্তু কখনও কি ভেবেছি, প্রবীণ মানুষটি কি নিজেকে সত্যিই বৃদ্ধ মনে করেন? বেশিরভাগ সময়, তারা নিজেরা নিজেদের সেইভাবে দেখেন না। যখন বয়সটা কেবলমাত্র সংখ্যায় রূপান্তরিত হয়, তখনই হয়তো তাদের ভেতরের প্রাণশক্তি শৈশবে ফিরে যায়। তারা যেন হারিয়ে ফেলেন বয়সের সীমারেখা, তৃতীয় প্রজন্মের নাতি

নাতনির সঙ্গে খেলে ফেরত যান সেই শৈশবের মধুরতায়।

একবার দেখেছিলাম, গাম্ভীর্যপূর্ণ এক প্রবীণ নারী, যিনি লাজুক মেয়েদের মতো হাসছিলেন। মনে হয়েছিল, নব প্রেমের ছোঁয়া লেগেছে তার মনে। পরে বুঝলাম, তার কাছের কিছু প্রিয় মানুষ দেখা করতে এসেছিল। তার মুখের উচ্ছ্বাস, আনন্দ, ভালোবাসাসবকিছু যেন তার বয়সকে মিথ্যে প্রমাণ করছিল। আমরা আমাদের বাড়ির প্রবীণদের কি কখনও এমন আনন্দে ভরিয়ে দিই? আমরা কি কখনও ভাবি, তারা কেমন বোধ করছেন? আসলে আমাদের সময় কোথায় এসব ভাবার? আমরা সবসময় ব্যস্ত থাকিকখনও নিজেদের নিয়ে, কখনও বা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নিয়ে। অথচ, এই প্রবীণরাই তো একসময় আমাদেরকে যত্ন আর ভালোবাসায় লালন করেছেন।

প্রবীণরা সাধারণত ছোটখাট ভালোবাসায় খুশি হন। তাদের সন্তুষ্টির জন্য লাগে না কোনো বড় আয়োজন। কাছের মানুষের একটি মায়াভরা ছোঁয়াই তাদের চোখে জল এনে দিতে পারে। কিন্তু আমরা কি তাদের সেই আবেগকে যথাযথ মূল্য দিচ্ছি? যৌথ পরিবারের কাঠামো ভেঙে যাওয়ায়, আজকাল একক পরিবারের ছেলেমেয়েরা দাদিনানির সঙ্গে সেই খুনসুটি মাখা শৈশবের অভিজ্ঞতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তারা হয়তো জানেই না, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সম্পর্কের ছোঁয়া কতটা মূল্যবান। আবার অনেক বাবামাও নিজেদের সন্তানদের এই সম্পর্কগুলোর গুরুত্ব বুঝতে দেন না, ফলে সম্পর্কের উষ্ণতা থেকে বঞ্চিত হয় নতুন প্রজন্ম।

বিশ্বব্যাপী প্রবীণ জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০৫০ সালের মধ্যে পৃথিবীর বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা দশমিক বিলিয়নে পৌঁছাবে। এই প্রবীণদের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ উন্নয়নশীল অঞ্চলে বসবাস করবে। তাদের সবারই পরিবারে বিশেষ ভূমিকা রয়েছে, তারা আমাদের সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে, তাদের সঠিক যত্ন নেওয়া। ঠিক যেমন একটি গাছের গোড়া শক্ত হলে ভালো ফলন পাওয়া যায়, তেমনই প্রবীণদের যত্ন নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মানবিক মূল্যবোধে পরিপূর্ণ হবে।

প্রবীণদের শুধু বৃদ্ধাশ্রমে ঠেলে দেওয়া উচিত নয়, যেখানে তাদের পরিবার বা ঘনিষ্ঠজন নেই। বৃদ্ধাশ্রমের ব্যবস্থা থাকা উচিত তাদের জন্য, যারা সত্যিই অসহায়। প্রবীণরা বয়সের সংখ্যায় ষাটোর্ধ হলেও, তাদের মন মানসিকতা প্রায়ই শৈশব বা কৈশোরের মতোই থাকে। তাই পরিবারের প্রবীণদের ভালোবাসুন, যত্ন নিন। তাদের অভিজ্ঞতার শীতল ছায়ায় থাকলে, আপনার জীবনও হবে আরও সুন্দর এবং মসৃণ। তাদের সান্নিধ্যে আমরা কেবল বয়সের সীমারেখা অতিক্রম করে জীবনের মূল স্রোতে ভেসে যেতে পারি, যেখানে বয়স সত্যিই শুধুই একটি সংখ্যা হয়ে দাঁড়ায়।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বয়স বাড়ছে নাকি সংখ্যা!

Update Time : ০৭:১১:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৪

বয়স নিয়ে আমাদের চিন্তাভাবনা অনেক বদলে গেছে। বয়সের চারটি প্রধান ধাপ রয়েছেশৈশব, কৈশোর, তারুণ্য এবং বৃদ্ধাবস্থা। আমরা সাধারণত বৃদ্ধদেরপ্রবীণবলে সম্মান জানাই। কিন্তু কখনও কি ভেবেছি, প্রবীণ মানুষটি কি নিজেকে সত্যিই বৃদ্ধ মনে করেন? বেশিরভাগ সময়, তারা নিজেরা নিজেদের সেইভাবে দেখেন না। যখন বয়সটা কেবলমাত্র সংখ্যায় রূপান্তরিত হয়, তখনই হয়তো তাদের ভেতরের প্রাণশক্তি শৈশবে ফিরে যায়। তারা যেন হারিয়ে ফেলেন বয়সের সীমারেখা, তৃতীয় প্রজন্মের নাতি

নাতনির সঙ্গে খেলে ফেরত যান সেই শৈশবের মধুরতায়।

একবার দেখেছিলাম, গাম্ভীর্যপূর্ণ এক প্রবীণ নারী, যিনি লাজুক মেয়েদের মতো হাসছিলেন। মনে হয়েছিল, নব প্রেমের ছোঁয়া লেগেছে তার মনে। পরে বুঝলাম, তার কাছের কিছু প্রিয় মানুষ দেখা করতে এসেছিল। তার মুখের উচ্ছ্বাস, আনন্দ, ভালোবাসাসবকিছু যেন তার বয়সকে মিথ্যে প্রমাণ করছিল। আমরা আমাদের বাড়ির প্রবীণদের কি কখনও এমন আনন্দে ভরিয়ে দিই? আমরা কি কখনও ভাবি, তারা কেমন বোধ করছেন? আসলে আমাদের সময় কোথায় এসব ভাবার? আমরা সবসময় ব্যস্ত থাকিকখনও নিজেদের নিয়ে, কখনও বা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নিয়ে। অথচ, এই প্রবীণরাই তো একসময় আমাদেরকে যত্ন আর ভালোবাসায় লালন করেছেন।

প্রবীণরা সাধারণত ছোটখাট ভালোবাসায় খুশি হন। তাদের সন্তুষ্টির জন্য লাগে না কোনো বড় আয়োজন। কাছের মানুষের একটি মায়াভরা ছোঁয়াই তাদের চোখে জল এনে দিতে পারে। কিন্তু আমরা কি তাদের সেই আবেগকে যথাযথ মূল্য দিচ্ছি? যৌথ পরিবারের কাঠামো ভেঙে যাওয়ায়, আজকাল একক পরিবারের ছেলেমেয়েরা দাদিনানির সঙ্গে সেই খুনসুটি মাখা শৈশবের অভিজ্ঞতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তারা হয়তো জানেই না, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সম্পর্কের ছোঁয়া কতটা মূল্যবান। আবার অনেক বাবামাও নিজেদের সন্তানদের এই সম্পর্কগুলোর গুরুত্ব বুঝতে দেন না, ফলে সম্পর্কের উষ্ণতা থেকে বঞ্চিত হয় নতুন প্রজন্ম।

বিশ্বব্যাপী প্রবীণ জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০৫০ সালের মধ্যে পৃথিবীর বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা দশমিক বিলিয়নে পৌঁছাবে। এই প্রবীণদের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ উন্নয়নশীল অঞ্চলে বসবাস করবে। তাদের সবারই পরিবারে বিশেষ ভূমিকা রয়েছে, তারা আমাদের সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে, তাদের সঠিক যত্ন নেওয়া। ঠিক যেমন একটি গাছের গোড়া শক্ত হলে ভালো ফলন পাওয়া যায়, তেমনই প্রবীণদের যত্ন নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মানবিক মূল্যবোধে পরিপূর্ণ হবে।

প্রবীণদের শুধু বৃদ্ধাশ্রমে ঠেলে দেওয়া উচিত নয়, যেখানে তাদের পরিবার বা ঘনিষ্ঠজন নেই। বৃদ্ধাশ্রমের ব্যবস্থা থাকা উচিত তাদের জন্য, যারা সত্যিই অসহায়। প্রবীণরা বয়সের সংখ্যায় ষাটোর্ধ হলেও, তাদের মন মানসিকতা প্রায়ই শৈশব বা কৈশোরের মতোই থাকে। তাই পরিবারের প্রবীণদের ভালোবাসুন, যত্ন নিন। তাদের অভিজ্ঞতার শীতল ছায়ায় থাকলে, আপনার জীবনও হবে আরও সুন্দর এবং মসৃণ। তাদের সান্নিধ্যে আমরা কেবল বয়সের সীমারেখা অতিক্রম করে জীবনের মূল স্রোতে ভেসে যেতে পারি, যেখানে বয়স সত্যিই শুধুই একটি সংখ্যা হয়ে দাঁড়ায়।