সময়: রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাসপাতালের সামনে ছবি তোলার হিড়িক, মেজাজ হারালেন শিল্পা শেঠি

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৭:১৪:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ অক্টোবর ২০২৪
  • / ২০৪ Time View

shilpa shetty

সম্প্রতি বলিউড অভিনেতা গোবিন্দ এক গুরুতর দুর্ঘটনার সম্মুখীন হন, যা তার অনুরাগীদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করে। নিজের লাইসেন্সপ্রাপ্ত বন্দুক থেকে দুর্ঘটনাক্রমে গুলি চালিয়ে পায়ে আহত হন গোবিন্দ। এ ধরনের দুর্ঘটনা থেকে দ্রুত রক্তক্ষরণ শুরু হয়, যার ফলে তাকে মুম্বাইয়ের জুহুর একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাকে আইসিইউতে রাখা হয়, কারণ অবস্থার জটিলতার জন্য তাৎক্ষণিক চিকিৎসার প্রয়োজন ছিল।

এই দুর্ঘটনার খবর শোনা মাত্রই গোবিন্দের খোঁজ নিতে অনেক বলিউড তারকাই উদ্বিগ্ন হন, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী শিল্পা শেঠি। তিনি বৃহস্পতিবার হাসপাতালে পৌঁছান তার সহ-অভিনেতাকে দেখতে। তবে সেখানে গিয়ে একটি অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির সম্মুখীন হন শিল্পা।

হাসপাতালের সামনে ফটোগ্রাফারদের ভিড় জমে গিয়েছিল, যারা শিল্পার আগমনকে ক্যামেরাবন্দি করতে মরিয়া ছিল। ফটোগ্রাফাররা দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করছিলেন শিল্পার ছবি তুলতে, এবং তিনি গাড়ি থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গেই তাকে ঘিরে ধরেন। এতটা জরুরি পরিস্থিতিতেও ফটোগ্রাফাররা ছবি তোলার জন্য হুড়োহুড়ি শুরু করলে শিল্পা চটে যান। তিনি দ্রুত হাসপাতালে প্রবেশ করতে চাইলেও তাদের দ্বারা বাধা প্রাপ্ত হন, যার ফলে তিনি মেজাজ হারিয়ে বলেন, “এটাও কি ছবি তোলার জায়গা?”

শিল্পার ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ক্যামেরায় ধরা পড়ে এবং মুহূর্তের মধ্যেই সেই ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। নেটিজেনরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে মন্তব্য করতে শুরু করেন। অনেকেই মনে করছেন যে, শিল্পার রাগ করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে, কারণ একটি গুরুতর এবং সংবেদনশীল পরিস্থিতির মধ্যে থাকা সত্ত্বেও ফটোগ্রাফারদের এ ধরনের আচরণ অনুচিত। তাদের মতে, একটি হাসপাতালের পরিবেশ এমনিতেই সংবেদনশীল এবং রোগী এবং তার পরিবারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা অত্যন্ত জরুরি। অন্যদিকে, কিছু ফটোগ্রাফারদের পক্ষ থেকেও যুক্তি উঠে আসে যে, সেলিব্রিটিদের সঙ্গে এ ধরনের ঘটনা প্রায়ই ঘটে, এবং তাদের কাজের অংশ হিসেবেই তারা ছবি তুলতে চেষ্টা করেন।

তবে, এই বিতর্কের মধ্যেও শিল্পা তার মন্তব্যে স্থির ছিলেন এবং দ্রুততার সঙ্গে হাসপাতালে প্রবেশ করেন গোবিন্দের পাশে থাকার জন্য। গোবিন্দের অবস্থা তখনও উদ্বেগজনক ছিল, যদিও চিকিৎসকরা তাকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সুরক্ষিত করতে সক্ষম হন। তার পা থেকে গুলি বের করা হয়েছে, এবং বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।

এই ঘটনাটির পর গোবিন্দ নিজেই একটি অডিও বার্তায় জানান যে, দুর্ঘটনার সময় তিনি অজান্তেই বন্দুক থেকে গুলি চালিয়ে ফেলেছিলেন, যার ফলে তিনি আহত হন। তবে এখন তিনি ভালো আছেন এবং দ্রুত সেরে উঠছেন। তিনি বলেন, “আমার পরিবার, মা-বাবার আশীর্বাদে এবং আপনাদের সকলের প্রার্থনার জন্য ধন্যবাদ জানাই। আমার শারীরিক অবস্থা এখন অনেক ভালো।”

এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার কারণে গোবিন্দের অনুরাগীদের মধ্যে চিন্তার উদ্রেক হয়। তবে তার সুস্থতার খবর শুনে ভক্তরা স্বস্তি পেয়েছেন। তাছাড়া, শিল্পা শেঠির হাসপাতালের বাইরে রাগ দেখানোর বিষয়টি নিয়েও অনেক আলোচনা হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে শিল্পার সমর্থকদের একটি বড় অংশ মনে করছেন যে, হাসপাতালে রোগীর পাশে থাকা এবং তার সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করা যেখানে অগ্রাধিকার হওয়া উচিত, সেখানে ছবি তোলার জন্য চাপ সৃষ্টি করা অমানবিক।

অন্যদিকে, বলিউড সেলিব্রিটিদের জন্য এরকম পরিস্থিতি নতুন নয়। তবে এ ধরনের ঘটনায় তারকাদের ব্যক্তিগত জীবনের সম্মান রক্ষা করা উচিত বলে মনে করছেন অনেকেই।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

হাসপাতালের সামনে ছবি তোলার হিড়িক, মেজাজ হারালেন শিল্পা শেঠি

Update Time : ০৭:১৪:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ অক্টোবর ২০২৪

সম্প্রতি বলিউড অভিনেতা গোবিন্দ এক গুরুতর দুর্ঘটনার সম্মুখীন হন, যা তার অনুরাগীদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করে। নিজের লাইসেন্সপ্রাপ্ত বন্দুক থেকে দুর্ঘটনাক্রমে গুলি চালিয়ে পায়ে আহত হন গোবিন্দ। এ ধরনের দুর্ঘটনা থেকে দ্রুত রক্তক্ষরণ শুরু হয়, যার ফলে তাকে মুম্বাইয়ের জুহুর একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাকে আইসিইউতে রাখা হয়, কারণ অবস্থার জটিলতার জন্য তাৎক্ষণিক চিকিৎসার প্রয়োজন ছিল।

এই দুর্ঘটনার খবর শোনা মাত্রই গোবিন্দের খোঁজ নিতে অনেক বলিউড তারকাই উদ্বিগ্ন হন, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী শিল্পা শেঠি। তিনি বৃহস্পতিবার হাসপাতালে পৌঁছান তার সহ-অভিনেতাকে দেখতে। তবে সেখানে গিয়ে একটি অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির সম্মুখীন হন শিল্পা।

হাসপাতালের সামনে ফটোগ্রাফারদের ভিড় জমে গিয়েছিল, যারা শিল্পার আগমনকে ক্যামেরাবন্দি করতে মরিয়া ছিল। ফটোগ্রাফাররা দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করছিলেন শিল্পার ছবি তুলতে, এবং তিনি গাড়ি থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গেই তাকে ঘিরে ধরেন। এতটা জরুরি পরিস্থিতিতেও ফটোগ্রাফাররা ছবি তোলার জন্য হুড়োহুড়ি শুরু করলে শিল্পা চটে যান। তিনি দ্রুত হাসপাতালে প্রবেশ করতে চাইলেও তাদের দ্বারা বাধা প্রাপ্ত হন, যার ফলে তিনি মেজাজ হারিয়ে বলেন, “এটাও কি ছবি তোলার জায়গা?”

শিল্পার ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ক্যামেরায় ধরা পড়ে এবং মুহূর্তের মধ্যেই সেই ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। নেটিজেনরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে মন্তব্য করতে শুরু করেন। অনেকেই মনে করছেন যে, শিল্পার রাগ করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে, কারণ একটি গুরুতর এবং সংবেদনশীল পরিস্থিতির মধ্যে থাকা সত্ত্বেও ফটোগ্রাফারদের এ ধরনের আচরণ অনুচিত। তাদের মতে, একটি হাসপাতালের পরিবেশ এমনিতেই সংবেদনশীল এবং রোগী এবং তার পরিবারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা অত্যন্ত জরুরি। অন্যদিকে, কিছু ফটোগ্রাফারদের পক্ষ থেকেও যুক্তি উঠে আসে যে, সেলিব্রিটিদের সঙ্গে এ ধরনের ঘটনা প্রায়ই ঘটে, এবং তাদের কাজের অংশ হিসেবেই তারা ছবি তুলতে চেষ্টা করেন।

তবে, এই বিতর্কের মধ্যেও শিল্পা তার মন্তব্যে স্থির ছিলেন এবং দ্রুততার সঙ্গে হাসপাতালে প্রবেশ করেন গোবিন্দের পাশে থাকার জন্য। গোবিন্দের অবস্থা তখনও উদ্বেগজনক ছিল, যদিও চিকিৎসকরা তাকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সুরক্ষিত করতে সক্ষম হন। তার পা থেকে গুলি বের করা হয়েছে, এবং বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।

এই ঘটনাটির পর গোবিন্দ নিজেই একটি অডিও বার্তায় জানান যে, দুর্ঘটনার সময় তিনি অজান্তেই বন্দুক থেকে গুলি চালিয়ে ফেলেছিলেন, যার ফলে তিনি আহত হন। তবে এখন তিনি ভালো আছেন এবং দ্রুত সেরে উঠছেন। তিনি বলেন, “আমার পরিবার, মা-বাবার আশীর্বাদে এবং আপনাদের সকলের প্রার্থনার জন্য ধন্যবাদ জানাই। আমার শারীরিক অবস্থা এখন অনেক ভালো।”

এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার কারণে গোবিন্দের অনুরাগীদের মধ্যে চিন্তার উদ্রেক হয়। তবে তার সুস্থতার খবর শুনে ভক্তরা স্বস্তি পেয়েছেন। তাছাড়া, শিল্পা শেঠির হাসপাতালের বাইরে রাগ দেখানোর বিষয়টি নিয়েও অনেক আলোচনা হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে শিল্পার সমর্থকদের একটি বড় অংশ মনে করছেন যে, হাসপাতালে রোগীর পাশে থাকা এবং তার সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করা যেখানে অগ্রাধিকার হওয়া উচিত, সেখানে ছবি তোলার জন্য চাপ সৃষ্টি করা অমানবিক।

অন্যদিকে, বলিউড সেলিব্রিটিদের জন্য এরকম পরিস্থিতি নতুন নয়। তবে এ ধরনের ঘটনায় তারকাদের ব্যক্তিগত জীবনের সম্মান রক্ষা করা উচিত বলে মনে করছেন অনেকেই।