সময়: রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় ‘দেবদাস’ করেছিলেন মাধুরী: অদম্য নিষ্ঠা ও পারফরম্যান্সের এক নজির

বিল্লাল হোসেন
  • Update Time : ০৩:০৩:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৪
  • / ২৯৯ Time View

madhuri 2

‘দেবদাস’ সিনেমায় মাধুরী দীক্ষিত। ছবি: সংগৃহীত

অন্তঃসত্ত্বা হওয়া মানেই কাজ থেকে অবসর নেওয়া নয়, অন্তত বলিউডের অনেক শীর্ষ অভিনেত্রীর ক্ষেত্রে। এমনই একজন তারকা হলেন মাধুরী দীক্ষিত। তিনি নিজের ক্যারিয়ার এবং অভিনয়কে এতটাই গুরুত্ব দিয়েছেন যে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায়ও শুটিং চালিয়ে গেছেন। বিশেষ করে, সঞ্জয় লীলা বানসালির পরিচালিত ‘দেবদাস’ ছবিতে কাজ করার সময় মাধুরী ছিলেন তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

মাধুরীর কর্মনিষ্ঠা ও ‘দেবদাস’ শুটিংয়ের সময়কাল 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বলিউড হাঙ্গামার রিপোর্ট অনুযায়ী, ‘দেবদাস’ সিনেমার বেশিরভাগ শুটিং শেষ হয়ে গিয়েছিল তখন। তবে গুরুত্বপূর্ণ একটি গান ‘হামপে ইয়ে কিসনে’ মেহফিলের দৃশ্য তখনও বাকি ছিল। মাধুরী তার অন্তঃসত্ত্বা অবস্থার কারণে বিশেষ কোনো বিরতি নেননি, কিন্তু শারীরিক অবস্থার কারণে তিনি ‘ডোলা রে’ গানের মতো ভারী নাচের দৃশ্য করতে পারেননি।

পরিচালকের বুদ্ধিদীপ্ত সিদ্ধান্ত 

পরিচালক সঞ্জয় লীলা বানসালি মাধুরীর শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে তার পোশাকের ডিজাইনে পরিবর্তন এনেছিলেন। মাধুরীর পোশাককে হালকা করার জন্য কুন্দনের কাজের বদলে শোলা দিয়ে কাজ করানোর নির্দেশ দেন বানসালি। এতে পোশাকের ওজন অনেক কমে যায় এবং মাধুরী আরও সহজে নাচতে পারেন। তার নাচের আইকনিক স্টেপগুলো আজও দর্শকদের মন জয় করে রেখেছে, যা মূলত মাধুরীর অদম্য সাহস ও নিষ্ঠার ফলাফল।

মাধুরী দীক্ষিত। ছবি: সংগৃহীত

 

বিশেষ দৃশ্যের জন্য বসানো হয়েছিল মাধুরীকে 

‘হামপে ইয়ে কিসনে’ গানের শুটিংয়ের সময় অধিকাংশ অংশে মাধুরীকে বসিয়ে নাচ করানো হয়েছিল, যাতে তার শারীরিক অবস্থা কোনো সমস্যার সৃষ্টি না করে। শুটিংয়ের সময় পরিচালক ও টিমের এমন যত্নশীল পরিচালনার কারণে মাধুরীর পারফরম্যান্সেও কোনো ঘাটতি দেখা যায়নি। বরং তার পারফরম্যান্স আজও সিনেমাপ্রেমীদের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে।

দেবদাস’ ছবির ঐতিহাসিক গুরুত্ব 

২০০২ সালে মুক্তি পাওয়া ‘দেবদাস’ ছবিটি সঞ্জয় লীলা বানসালির অন্যতম সফল ও চর্চিত প্রযোজনা। শাহরুখ খান, ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন এবং মাধুরী দীক্ষিতের অসাধারণ অভিনয়, সঙ্গীত ও ভিজ্যুয়াল প্রেজেন্টেশন মিলিয়ে ছবিটি বলিউডের ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। মাধুরীর অসামান্য পারফরম্যান্স বিশেষ করে এই ছবিতে তার কর্মদক্ষতা ও পেশাদারিত্বের মূর্ত প্রতীক হয়ে রয়েছে।

অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায়ও কাজ চালিয়ে যাওয়ার মাধুরীর এই নিষ্ঠা এবং সৃজনশীলতার প্রতি ভালোবাসা তাকে অন্য সবার থেকে আলাদা করেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

বিল্লাল হোসেন

বিল্লাল হোসেন, একজন প্রজ্ঞাবান পেশাজীবী, যিনি গণিতের ওপর স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং ব্যাংকার, অর্থনীতিবিদ, ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিশেষজ্ঞ হিসেবে একটি সমৃদ্ধ ও বহুমুখী ক্যারিয়ার গড়ে তুলেছেন। তার আর্থিক খাতে যাত্রা তাকে নেতৃত্বের ভূমিকায় নিয়ে গেছে, বিশেষ করে সৌদি আরবের আল-রাজি ব্যাংকিং Inc. এবং ব্যাংক-আল-বিলাদে বিদেশী সম্পর্ক ও করেসপন্ডেন্ট মেইন্টেনেন্স অফিসার হিসেবে। প্রথাগত অর্থনীতির গণ্ডির বাইরে, বিল্লাল একজন প্রখ্যাত লেখক ও বিশ্লেষক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন, বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইন পোর্টালে মননশীল কলাম ও গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করে। তার দক্ষতা বিস্তৃত বিষয় জুড়ে রয়েছে, যেমন অর্থনীতির জটিলতা, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, প্রবাসী শ্রমিকদের দুঃখ-কষ্ট, রেমিটেন্স, রিজার্ভ এবং অন্যান্য সম্পর্কিত দিক। বিল্লাল তার লেখায় একটি অনন্য বিশ্লেষণাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আসেন, যা ব্যাংকিং ক্যারিয়ারে অর্জিত বাস্তব জ্ঞানকে একত্রিত করে একাডেমিক কঠোরতার সাথে। তার প্রবন্ধগুলো শুধুমাত্র জটিল বিষয়গুলির উপর গভীর বোঝাপড়ার প্রতিফলন নয়, বরং পাঠকদের জন্য জ্ঞানপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে, যা তত্ত্ব ও বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে। বিল্লাল হোসেনের অবদান তার প্রতিশ্রুতি প্রদর্শন করে যে, তিনি আমাদের আন্তঃসংযুক্ত বিশ্বের জটিলতাগুলি উন্মোচন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটের একটি বিস্তৃত এবং আরও সূক্ষ্ম বোঝাপড়ার দিকে মূল্যবান অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে।

অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় ‘দেবদাস’ করেছিলেন মাধুরী: অদম্য নিষ্ঠা ও পারফরম্যান্সের এক নজির

Update Time : ০৩:০৩:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৪
‘দেবদাস’ সিনেমায় মাধুরী দীক্ষিত। ছবি: সংগৃহীত

অন্তঃসত্ত্বা হওয়া মানেই কাজ থেকে অবসর নেওয়া নয়, অন্তত বলিউডের অনেক শীর্ষ অভিনেত্রীর ক্ষেত্রে। এমনই একজন তারকা হলেন মাধুরী দীক্ষিত। তিনি নিজের ক্যারিয়ার এবং অভিনয়কে এতটাই গুরুত্ব দিয়েছেন যে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায়ও শুটিং চালিয়ে গেছেন। বিশেষ করে, সঞ্জয় লীলা বানসালির পরিচালিত ‘দেবদাস’ ছবিতে কাজ করার সময় মাধুরী ছিলেন তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

মাধুরীর কর্মনিষ্ঠা ও ‘দেবদাস’ শুটিংয়ের সময়কাল 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বলিউড হাঙ্গামার রিপোর্ট অনুযায়ী, ‘দেবদাস’ সিনেমার বেশিরভাগ শুটিং শেষ হয়ে গিয়েছিল তখন। তবে গুরুত্বপূর্ণ একটি গান ‘হামপে ইয়ে কিসনে’ মেহফিলের দৃশ্য তখনও বাকি ছিল। মাধুরী তার অন্তঃসত্ত্বা অবস্থার কারণে বিশেষ কোনো বিরতি নেননি, কিন্তু শারীরিক অবস্থার কারণে তিনি ‘ডোলা রে’ গানের মতো ভারী নাচের দৃশ্য করতে পারেননি।

পরিচালকের বুদ্ধিদীপ্ত সিদ্ধান্ত 

পরিচালক সঞ্জয় লীলা বানসালি মাধুরীর শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে তার পোশাকের ডিজাইনে পরিবর্তন এনেছিলেন। মাধুরীর পোশাককে হালকা করার জন্য কুন্দনের কাজের বদলে শোলা দিয়ে কাজ করানোর নির্দেশ দেন বানসালি। এতে পোশাকের ওজন অনেক কমে যায় এবং মাধুরী আরও সহজে নাচতে পারেন। তার নাচের আইকনিক স্টেপগুলো আজও দর্শকদের মন জয় করে রেখেছে, যা মূলত মাধুরীর অদম্য সাহস ও নিষ্ঠার ফলাফল।

মাধুরী দীক্ষিত। ছবি: সংগৃহীত

 

বিশেষ দৃশ্যের জন্য বসানো হয়েছিল মাধুরীকে 

‘হামপে ইয়ে কিসনে’ গানের শুটিংয়ের সময় অধিকাংশ অংশে মাধুরীকে বসিয়ে নাচ করানো হয়েছিল, যাতে তার শারীরিক অবস্থা কোনো সমস্যার সৃষ্টি না করে। শুটিংয়ের সময় পরিচালক ও টিমের এমন যত্নশীল পরিচালনার কারণে মাধুরীর পারফরম্যান্সেও কোনো ঘাটতি দেখা যায়নি। বরং তার পারফরম্যান্স আজও সিনেমাপ্রেমীদের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে।

দেবদাস’ ছবির ঐতিহাসিক গুরুত্ব 

২০০২ সালে মুক্তি পাওয়া ‘দেবদাস’ ছবিটি সঞ্জয় লীলা বানসালির অন্যতম সফল ও চর্চিত প্রযোজনা। শাহরুখ খান, ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন এবং মাধুরী দীক্ষিতের অসাধারণ অভিনয়, সঙ্গীত ও ভিজ্যুয়াল প্রেজেন্টেশন মিলিয়ে ছবিটি বলিউডের ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। মাধুরীর অসামান্য পারফরম্যান্স বিশেষ করে এই ছবিতে তার কর্মদক্ষতা ও পেশাদারিত্বের মূর্ত প্রতীক হয়ে রয়েছে।

অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায়ও কাজ চালিয়ে যাওয়ার মাধুরীর এই নিষ্ঠা এবং সৃজনশীলতার প্রতি ভালোবাসা তাকে অন্য সবার থেকে আলাদা করেছে।