অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় ‘দেবদাস’ করেছিলেন মাধুরী: অদম্য নিষ্ঠা ও পারফরম্যান্সের এক নজির
- Update Time : ০৩:০৩:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৪
- / ২৯৯ Time View

অন্তঃসত্ত্বা হওয়া মানেই কাজ থেকে অবসর নেওয়া নয়, অন্তত বলিউডের অনেক শীর্ষ অভিনেত্রীর ক্ষেত্রে। এমনই একজন তারকা হলেন মাধুরী দীক্ষিত। তিনি নিজের ক্যারিয়ার এবং অভিনয়কে এতটাই গুরুত্ব দিয়েছেন যে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায়ও শুটিং চালিয়ে গেছেন। বিশেষ করে, সঞ্জয় লীলা বানসালির পরিচালিত ‘দেবদাস’ ছবিতে কাজ করার সময় মাধুরী ছিলেন তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
মাধুরীর কর্মনিষ্ঠা ও ‘দেবদাস’ শুটিংয়ের সময়কাল
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বলিউড হাঙ্গামার রিপোর্ট অনুযায়ী, ‘দেবদাস’ সিনেমার বেশিরভাগ শুটিং শেষ হয়ে গিয়েছিল তখন। তবে গুরুত্বপূর্ণ একটি গান ‘হামপে ইয়ে কিসনে’ মেহফিলের দৃশ্য তখনও বাকি ছিল। মাধুরী তার অন্তঃসত্ত্বা অবস্থার কারণে বিশেষ কোনো বিরতি নেননি, কিন্তু শারীরিক অবস্থার কারণে তিনি ‘ডোলা রে’ গানের মতো ভারী নাচের দৃশ্য করতে পারেননি।
পরিচালকের বুদ্ধিদীপ্ত সিদ্ধান্ত
পরিচালক সঞ্জয় লীলা বানসালি মাধুরীর শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে তার পোশাকের ডিজাইনে পরিবর্তন এনেছিলেন। মাধুরীর পোশাককে হালকা করার জন্য কুন্দনের কাজের বদলে শোলা দিয়ে কাজ করানোর নির্দেশ দেন বানসালি। এতে পোশাকের ওজন অনেক কমে যায় এবং মাধুরী আরও সহজে নাচতে পারেন। তার নাচের আইকনিক স্টেপগুলো আজও দর্শকদের মন জয় করে রেখেছে, যা মূলত মাধুরীর অদম্য সাহস ও নিষ্ঠার ফলাফল।

বিশেষ দৃশ্যের জন্য বসানো হয়েছিল মাধুরীকে
‘হামপে ইয়ে কিসনে’ গানের শুটিংয়ের সময় অধিকাংশ অংশে মাধুরীকে বসিয়ে নাচ করানো হয়েছিল, যাতে তার শারীরিক অবস্থা কোনো সমস্যার সৃষ্টি না করে। শুটিংয়ের সময় পরিচালক ও টিমের এমন যত্নশীল পরিচালনার কারণে মাধুরীর পারফরম্যান্সেও কোনো ঘাটতি দেখা যায়নি। বরং তার পারফরম্যান্স আজও সিনেমাপ্রেমীদের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে।
‘দেবদাস’ ছবির ঐতিহাসিক গুরুত্ব
২০০২ সালে মুক্তি পাওয়া ‘দেবদাস’ ছবিটি সঞ্জয় লীলা বানসালির অন্যতম সফল ও চর্চিত প্রযোজনা। শাহরুখ খান, ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন এবং মাধুরী দীক্ষিতের অসাধারণ অভিনয়, সঙ্গীত ও ভিজ্যুয়াল প্রেজেন্টেশন মিলিয়ে ছবিটি বলিউডের ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। মাধুরীর অসামান্য পারফরম্যান্স বিশেষ করে এই ছবিতে তার কর্মদক্ষতা ও পেশাদারিত্বের মূর্ত প্রতীক হয়ে রয়েছে।
অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায়ও কাজ চালিয়ে যাওয়ার মাধুরীর এই নিষ্ঠা এবং সৃজনশীলতার প্রতি ভালোবাসা তাকে অন্য সবার থেকে আলাদা করেছে।











