কসবা ও আখাউড়া বিএনপিতে বহিষ্কার ও শোকজে দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে
- Update Time : ১২:১৬:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ অক্টোবর ২০২৪
- / ২১৮ Time View

কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধের জেরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা ও আখাউড়া উপজেলা বিএনপিতে অস্থিরতা বিরাজ করছে। মাত্র ছয় দিনের ব্যবধানে দুই উপজেলায় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের ৮ নেতাকে বহিষ্কার এবং ১৫ নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। নতুন করে দুই উপজেলায় সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করায় দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশ্যে এসেছে।
নেতা-কর্মীরা জানিয়েছেন, ৫ অক্টোবর আখাউড়া ও ১৯ অক্টোবর কসবা উপজেলা বিএনপির সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ উপলক্ষে কসবায় ১৬ সদস্যের ও আখাউড়ায় ১৩ সদস্যের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব সম্মেলনের ঘিরে দুই উপজেলায় বিএনপির রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাদের বাদ দিয়ে অনুগত সমর্থকদের পদে বসাতে এই সম্মেলন আহ্বান করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনে ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মুশফিকুর রহমান। পরবর্তীতে নবম ও একাদশ সংসদ নির্বাচনেও তিনি দলের মনোনয়ন পান।
অন্যদিকে, জেলা ও উপজেলা কমিটিতে কোনো পদে না থাকলেও এই আসনে সক্রিয় রয়েছেন কবির আহমেদ ভূঁইয়া। আখাউড়ার বরিশল গ্রামের বাসিন্দা কবির একসময় আখাউড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে তিনি লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ব্যক্তিগত সহকারী আবদুর রহমান ওরফে সানির বড় ভাই। কবিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, কসবা ও আখাউড়ায় নিজের পছন্দমতো বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের কমিটি গঠন করেছেন।
জেলা ও উপজেলা বিএনপি সূত্রে জানা যায়, কবির আহমেদের নির্দেশে ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির তৎকালীন আহ্বায়ক প্রয়াত জিল্লুর রহমান কসবা, আখাউড়াসহ ৯ উপজেলা ও ৫ পৌরসভা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করেন। পরবর্তীতে, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে কসবা ও আখাউড়া উপজেলায় ৩১ সদস্যবিশিষ্ট নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। তবে, কমিটি বাতিলের দাবিতে ২০২১ সালের ১১ মার্চ আখাউড়া ও কসবা উপজেলায় বিক্ষোভ মিছিল, প্রতিবাদ সভা এবং সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়, যা ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। সেই সময় অনেক নেতাকর্মী পদত্যাগ করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২১ সেপ্টেম্বর মুশফিকুর রহমান তাঁর নির্বাচনী এলাকার কসবা ও আখাউড়ায় বন্যাকবলিত মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করেন। এছাড়াও, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে আলোচনা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়, যেখানে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা অংশ নেন। এর কয়েকদিন পর, ২৩ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কসবা ও আখাউড়া উপজেলা বিএনপি এবং সহযোগী অঙ্গসংগঠনের ৮ নেতাকে বহিষ্কার এবং ১৬ জনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়।
আখাউড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল মনসুর জানিয়েছেন, ২৫ সেপ্টেম্বর দলীয় নেতাদের বহিষ্কার ও শোকজের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অবহিত করেছেন মুশফিকুর রহমান। এছাড়া, ২৪ সেপ্টেম্বর জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও পৌরসভার সাবেক মেয়র হাফিজুর রহমান মোল্লা এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হকসহ ১৩ জন বিএনপি নেতা এক যৌথ বিবৃতি দেন, যেখানে কসবা ও আখাউড়ার বহিষ্কারাদেশকে “অবৈধ, অনৈতিক, অসাংগঠনিক ও অসাংবিধানিক” বলে উল্লেখ করা হয়।
উল্লেখ্য, বিবৃতিতে স্বাক্ষর করা হাফিজুর ও জহিরুল জেলা বিএনপির পাঁচ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হলেও তাঁরা কবির আহমেদবিরোধী হিসেবে পরিচিত। বহিষ্কৃত কসবা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ ইলিয়াস বলেন, ‘মুশফিকুর রহমানের জনসভায় যোগ দেওয়ায় কবিরের নির্দেশে দলীয় নেতাদের বহিষ্কার ও শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে মূলত আমাদের বাদ দেওয়ার জন্য।’
অন্যদিকে, কবিরের অনুসারী হিসেবে পরিচিত কসবা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুল হক বলেন, ‘যাঁদের বহিষ্কার ও শোকজ করা হয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে সম্পত্তি, জমি ও দোকান দখলের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া, তাঁরা দলের কোনো আন্দোলন বা সভা-মিছিলে উপস্থিত ছিলেন না।’
সূত্র: প্রথম আলো











