মধ্যরাতে বিশেষ পাহারায় সীমান্ত অতিক্রম করেন ওবায়দুল কাদের
- Update Time : ০২:১৪:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৪
- / ১৯১ Time View

বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর, সরকারের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা এবং একাধিক পুলিশ কর্মকর্তারা গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যাচ্ছেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও অন্তর্ভুক্ত।
শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর বেশ কয়েকজন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য দেশের বাইরে পালাতে শুরু করেছেন। গোপনে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে কেউ কেউ ভারতে চলে যাচ্ছেন, কিন্তু এ পথে গিয়ে অনেকেই দালালদের প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। ভারত সীমান্তে প্রবেশের জন্য দালালদের সাথে হাত মিলিয়ে কোটি টাকা দিয়েও কেউ কেউ বাংলাদেশ ত্যাগ করতে পারছেন না। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, ২০ লাখ টাকার নিচে কেউ ভারতে প্রবেশ করতে পারেননি।
সাবেক মন্ত্রীদের মধ্যে কয়েকজন ছাড়া, অধিকাংশ ব্যক্তি দেশত্যাগের জন্য ভারত সীমান্তকে বেছে নিয়েছেন। তাদের যাত্রার জন্য যশোর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, হবিগঞ্জ, সিলেট, দিনাজপুরের হিলি ও পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা সীমান্ত ব্যবহার করা হচ্ছে। এই সীমান্তে গড়ে উঠেছে একাধিক দালাল সিন্ডিকেট, যারা প্রভাবশালীদের পার করে দিয়ে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
দৈনিক যুগান্তরের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫ আগস্ট মধ্যরাতে ওবায়দুল কাদের যশোরে চলে যান। সেখানে তাকে একটি নিরাপদ স্থানে আশ্রয় দেওয়া হয় এবং পরদিন বিশেষ প্রহরায় সীমান্ত অতিক্রম করেন। তবে এই তথ্যের সাথে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করতে রাজি হননি।
বেনাপোল ছাড়াও, কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা পুটখালী ঘাট এলাকা দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছেন। তবে, এই পালাতে গিয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইসহাক আলী খান পান্না ভারতীয় সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। দালালরা তাকে নির্যাতন করে গলা টিপে হত্যা করে, পরে তার অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ।
এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয়রা দালালদের সাহায্যে পালানোর চেষ্টা করা আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন। অচেনা কাউকে দেখলে তারা বিজিবির হাতে ধরিয়ে দিচ্ছেন। এই ঘটনা বাংলাদেশে রাজনৈতিক সংকটের নতুন অধ্যায়কে ফুটিয়ে তুলছে, যেখানে অস্থিরতা এবং ভয়ভীতি মানুষের জীবনযাত্রায় গভীর প্রভাব ফেলছে।
এখন প্রশ্ন উঠছে, ভবিষ্যতে বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সরকারের পক্ষ থেকে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য কী ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।











