সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাসান নাসরুল্লাহ হত্যাকাণ্ড: হিজবুল্লাহর অস্তিত্ব বিপন্ন হবে না, তবে শক্তি কমবে? — আল–জাজিরার বিশ্লেষন

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৬:৪৬:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  • / ২৩৩ Time View

HASSAN NASRULLAH

হিজবুল্লাহর প্রধান হাসান নাসরুল্লাহ

লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহর প্রধান হাসান নাসরুল্লাহকে ইসরায়েল গত শুক্রবার সকালে বৈরুতে বিমান হামলা চালিয়ে হত্যা করেছে। এই হামলায় হিজবুল্লাহর দক্ষিণাঞ্চলীয় ফ্রন্টের কমান্ডার আলী কারকিসহ আরও কয়েকজন কমান্ডার নিহত হয়েছেন। তবে এ ঘটনার প্রভাব নিয়ে বিশ্বব্যাপী আলোচনার ঝড় উঠেছে। বিশেষ করে হিজবুল্লাহর দীর্ঘমেয়াদি শক্তি ও ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের প্রেক্ষাপটে, বিষয়টি আরো জটিল হয়ে উঠেছে।

 হিজবুল্লাহর ওপর সম্ভাব্য প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে, হাসান নাসরুল্লাহর মৃত্যু নিঃসন্দেহে হিজবুল্লাহর জন্য একটি তাৎক্ষণিক এবং গুরুত্বপূর্ণ আঘাত। একজন ক্যারিশমাটিক নেতা হিসেবে নাসরুল্লাহ শুধু হিজবুল্লাহর সামরিক বাহিনীই নয়, বরং পুরো সংগঠনের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনার প্রতীক ছিলেন। তার মৃত্যুতে সংগঠনটির মধ্যে নেতৃত্বের শূন্যতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও, হিজবুল্লাহর অতীত থেকে দেখা যায় যে, এ ধরনের শূন্যতা পূরণে তারা খুবই দক্ষ। এটি একটি সংগঠন হিসেবে তাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি।

হিজবুল্লাহর দীর্ঘ ইতিহাসে দেখা গেছে, তারা এক নেতার স্থানে দ্রুত নতুন নেতৃত্ব গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে। ১৯৯২ সালে ইসরায়েলের আক্রমণে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা নেতা আব্বাস আল-মুসাভি নিহত হওয়ার পর নাসরুল্লাহ নেতৃত্বে আসেন এবং সেই শূন্যতা পূরণ করেন। তেমনি এবারও সংগঠনটি নতুন নেতৃত্ব খুঁজে বের করে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার সম্ভাবনা প্রবল। হিজবুল্লাহর কাঠামো এমনভাবে গড়ে তোলা হয়েছে যে, এটি ব্যক্তির চেয়ে দলীয় কর্মকাণ্ডকে বেশি গুরুত্ব দেয়।

বিশ্লেষক মোহাম্মদ মারান্ডি এই প্রসঙ্গে বলেন, “নাসরুল্লাহর মৃত্যু হিজবুল্লাহর জন্য অবশ্যই একটি বড় আঘাত, তবে তাদের সামরিক এবং রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করার জন্য এটি যথেষ্ট নয়। ইসরায়েলের জন্য হিজবুল্লাহর শক্তি শুধুমাত্র একজন নেতার ওপর নির্ভর করে না।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “ইরানের সরাসরি সমর্থন এবং দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সহায়তার মাধ্যমে হিজবুল্লাহ নিজেদের সামরিক অবস্থান বজায় রেখেছে এবং তা আগামীতে অব্যাহত থাকবে।”

হিজবুল্লাহর শক্তির অন্যতম একটি প্রধান দিক হলো তাদের অস্ত্রভাণ্ডার। ইরানের সামরিক সহায়তায় তারা শক্তিশালী অস্ত্র সংগ্রহ করেছে, যার মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র এবং অন্যান্য অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জাম রয়েছে। এর ফলে, সামরিক শক্তির দিক থেকে ইসরায়েল বা অন্য কোনো শক্তি হিজবুল্লাহকে পরাজিত করতে পারবে না। তাদের আঞ্চলিক ক্ষমতা এবং সামরিক উপস্থিতি এতটাই সুসংহত যে, শুধুমাত্র একজন নেতার মৃত্যুতে তাদের শক্তি পুরোপুরি বিলীন হওয়ার সম্ভাবনা কম।

এছাড়া, হিজবুল্লাহর আঞ্চলিক প্রভাবও ইরানের ভূ-রাজনৈতিক কৌশলের সাথে নিবিড়ভাবে সংযুক্ত। ইরান হিজবুল্লাহকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্সি বাহিনী হিসেবে ব্যবহার করে আসছে, যা লেবাননের ভেতর এবং বাইরে তাদের সামরিক এবং রাজনৈতিক ভূমিকা মজবুত করতে সহায়ক হয়েছে। নাসরুল্লাহর মৃত্যু ইরান-হিজবুল্লাহ সম্পর্ককে দুর্বল করবে না, বরং নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে এই সম্পর্ক আরও দৃঢ় হতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন।

নাসরুল্লাহর মৃত্যু ইসরায়েলের জন্য একটি কৌশলগত বিজয় হতে পারে, তবে হিজবুল্লাহর অস্তিত্বের ওপর এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব খুব সীমিত হবে বলে মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক।

 হিজবুল্লাহর নেতৃত্ব শূন্যতা কৌশল

হিজবুল্লাহর ইতিহাসে নেতৃত্বের শূন্যতা তৈরি হওয়া কোনো নতুন ঘটনা নয়। ১৯৯২ সালে তাদের প্রতিষ্ঠাতা নেতা আব্বাস আল-মুসাভি ইসরায়েলের হামলায় নিহত হওয়ার পরও সংগঠনটি দ্রুততার সাথে নিজেদের পুনর্গঠন করেছিল। তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন হাসান নাসরুল্লাহ, যিনি সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করে তোলেন। একইভাবে, নাসরুল্লাহর মৃত্যুর পরও হিজবুল্লাহর মধ্যে নেতৃত্বের এই শূন্যতা পূরণ করার জন্য সংগঠনটি দক্ষতার প্রমাণ দেবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

কার্নেগি মিডল ইস্ট প্রোগ্রামের জ্যেষ্ঠ ফেলো ইয়েজিদ সেইগের মতে, “হিজবুল্লাহ নিঃশেষ হওয়ার পথে নেই, বরং তারা কৌশলগত ধৈর্যের দিকে ঝুঁকবে।” তার মতে, হিজবুল্লাহ একটি সংগঠন হিসেবে তাদের আদর্শিক ভিত্তি ও কাঠামো এতটাই সুসংহত যে, এক বা একাধিক নেতার মৃত্যুতে তাদের কৌশলগত লক্ষ্যগুলো পরিবর্তিত হবে না। বরং তারা এমনভাবে সংগঠিত হয়েছে যে, প্রতিটি স্তরে নেতৃত্বের বিকল্প প্রস্তুত থাকে। এই কৌশলের মাধ্যমে তারা শত্রুর আঘাত মোকাবিলা করেও টিকে থাকতে এবং পুনরায় সংগঠিত হতে সক্ষম।

তবে হিজবুল্লাহর ইরানের সাথে সম্পর্ক এবং তাদের প্রক্সি ভূমিকা নিয়ে কিছু বিশেষজ্ঞের মধ্যে সমালোচনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞ সুলতান বারাকাতের মতে, হিজবুল্লাহর একটি বড় ভুল হলো ইরানের প্রক্সি বাহিনী হিসেবে অতিরিক্তভাবে ব্যবহৃত হওয়া। একসময় তারা লেবাননের অভ্যন্তরীণ ভূখণ্ড রক্ষার জন্য সক্রিয় থাকলেও, ইরানের স্বার্থ রক্ষায় সংগঠনটির জড়িয়ে পড়া তাদের স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা কিছুটা হ্রাস করেছে। এই প্রসঙ্গে বারাকাত বলেন, “হিজবুল্লাহ একসময় নিজস্ব জাতীয়তাবাদী আদর্শে সমৃদ্ধ ছিল, কিন্তু ইরানের অতিরিক্ত প্রভাব তাদেরকে একটি বিশেষ সংকটে ফেলেছে।” ইরান তাদেরকে সিরিয়া, ইরাক, এবং ইয়েমেনের মতো অঞ্চলে তাদের স্বার্থে ব্যবহার করেছে, যা মূলত লেবাননের ভূখণ্ডকেন্দ্রিক হিজবুল্লাহর মূল মিশন থেকে দূরে সরিয়ে নিয়েছে।

এই প্রক্সি ভূমিকা হিজবুল্লাহর সামরিক শক্তিকে মজবুত করলেও, একইসাথে তাদের রাজনৈতিক স্বকীয়তাকে কিছুটা দুর্বল করেছে বলে অনেক বিশ্লেষকের মত। ইরানের ওপর নির্ভরশীলতা তাদের আঞ্চলিক কৌশলগুলোতে সীমাবদ্ধতা তৈরি করেছে, যা ভবিষ্যতে হিজবুল্লাহর কৌশলগত অবস্থান দুর্বল করতে পারে।

তবে এটাও বলা হচ্ছে যে, নাসরুল্লাহর মৃত্যু হিজবুল্লাহকে একটি সুযোগ দিতে পারে নিজেদের নতুন কৌশল নির্ধারণের। ইরানের প্রভাব থেকে কিছুটা সরে এসে হিজবুল্লাহ যদি লেবাননের ভূখণ্ড এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নিজেদের ভূমিকা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে চায়, তবে এটি তাদের দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত অবস্থানকে মজবুত করতে পারে। ইসরায়েলের দৃষ্টিকোণ থেকে বিজয়

ইসরায়েল নাসরুল্লাহ হত্যাকাণ্ডকে একটি বড় বিজয় হিসেবে দেখছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, “আমরা জিততে চলেছি।” নিরাপত্তা বিশ্লেষক আলী রিজকের মতে, ইসরায়েল এই ঘটনার পর হিজবুল্লাহর নেতৃত্বহীনতার সুযোগ নিতে চেষ্টা করবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইসরায়েলের এই সাফল্য প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর পক্ষে জনমত বাড়াতে পারে। যদিও গাজায় হামাসকে নির্মূল করতে ব্যর্থ হওয়া এবং ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্ত করতে না পারা নেতানিয়াহুর প্রতি বিরোধিতা সৃষ্টি করেছিল, এই হামলার পর সমর্থন বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ইরানের প্রতিক্রিয়া

হিজবুল্লাহর প্রধান হাসান নাসরুল্লাহর হত্যাকাণ্ডে ইরানের প্রতিক্রিয়া বিশ্বব্যাপী ব্যাপকভাবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। ইরান হিজবুল্লাহর সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং সামরিক ও আর্থিক সহযোগিতার মাধ্যমে সংগঠনটির ওপর বিশাল প্রভাব বিস্তার করে আসছে। এই হত্যাকাণ্ডে ইরান কোনো সরাসরি যুদ্ধের পথে না গিয়ে বিকল্প পথ বেছে নিতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়াতে চাইবে না, কারণ এটি আঞ্চলিকভাবে আরও জটিল পরিস্থিতি তৈরি করবে। বরং ইরান ইরাক, সিরিয়া এবং ইয়েমেনের মতো দেশগুলোতে তাদের নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন প্রক্সি বাহিনীর মাধ্যমে প্রতিশোধ নেওয়ার পথ বেছে নিতে পারে। বিশেষজ্ঞ আলী রিজকের মতে, “ইরান সম্পূর্ণ উত্তেজনা ছড়িয়ে দেওয়ার পরিবর্তে আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নিতে পারে।” এর ফলে ইসরায়েলের ওপর নির্ভরশীলতা এবং নিরাপত্তা হুমকি আরও বৃদ্ধি পাবে।

এ ঘটনার পর ইরানের নতুন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এক বিবৃতিতে বলেন, “হাসান নাসরুল্লাহর হত্যাকাণ্ড শুধু হিজবুল্লাহ নয়, বরং সমগ্র প্রতিরোধ আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করবে।” তার এই বক্তব্যে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের প্রতিরোধশক্তির বার্তা স্পষ্ট। ইরান নাসরুল্লাহর মৃত্যুকে একটি প্রতীকী ঘটনা হিসেবে ব্যবহার করতে পারে এবং প্রতিরোধ আন্দোলনকে শক্তিশালী করে তুলতে পারে।

ইরান ইতোমধ্যেই বিভিন্ন অঞ্চলে তাদের প্রক্সি বাহিনীকে সক্রিয় করেছে এবং ভবিষ্যতে আরও উত্তেজনা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইরাক ও ইয়েমেনে শিয়া মিলিশিয়াদের মাধ্যমে ইরান তার সামরিক প্রভাব বিস্তার করতে পারে, যা ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়াতে সহায়তা করবে। সিরিয়াতেও ইরানের উপস্থিতি শক্তিশালী, যেখানে হিজবুল্লাহ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ভূমিকা পালন করে আসছে। এই অঞ্চলে ইরান এবং তাদের মিত্রদের মাধ্যমে প্রতিশোধমূলক আঘাত আসার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

তবে ইরান সরাসরি ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতে যাওয়ার ঝুঁকি কমিয়ে আনার চেষ্টা করতে পারে, কারণ এ ধরনের একটি সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর যুদ্ধের সূচনা করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান এই পরিস্থিতিকে দীর্ঘমেয়াদী কৌশল হিসেবে ব্যবহার করে আঞ্চলিক প্রভাব বৃদ্ধির চেষ্টা করবে।

ইরানের প্রতিক্রিয়া আঞ্চলিক রাজনীতি এবং সামরিক কৌশলে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে পারে। ইরান ইসরায়েলের ওপর সরাসরি আঘাত হানতে না গিয়ে তাদের আঞ্চলিক প্রক্সি বাহিনীকে দিয়ে উত্তেজনা বৃদ্ধি করতে পারে, যা ইসরায়েলের নিরাপত্তাকে আরও দুর্বল করবে।

সমাপনী মন্তব্য

হাসান নাসরুল্লাহর মৃত্যু নিঃসন্দেহে হিজবুল্লাহর জন্য একটি বড় আঘাত, তবে এটি সংগঠনের অস্তিত্বের সমাপ্তি ঘটাবে না। হিজবুল্লাহর দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত ধৈর্য ও অভ্যন্তরীণ শক্তি তাদের এই সংকট মোকাবিলা করতে সহায়তা করবে। অতীতে নেতাদের মৃত্যু সত্ত্বেও, সংগঠনটি নিজেকে পুনর্গঠন এবং নতুন নেতৃত্ব তৈরির সক্ষমতা প্রমাণ করেছে। এই ঘটনাও তার ব্যতিক্রম নয়।

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা অবশ্যই বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে এর গতি এবং পরিণতি এখনও অজানা। ইরান তার প্রক্সি বাহিনীগুলোর মাধ্যমে আঞ্চলিক প্রতিশোধ নিতে পারে, যা মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ও রাজনৈতিক ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। তবুও, ইরান সরাসরি সংঘাত এড়িয়ে কৌশলগত পদক্ষেপ নিতে পারে, বিশেষ করে সিরিয়া, ইয়েমেন, ও ইরাকের মতো জায়গাগুলোতে।

অন্যদিকে, ইসরায়েলের জন্য নাসরুল্লাহর মৃত্যুকে বিজয় হিসেবে দেখা যেতে পারে, বিশেষ করে জনমতকে তাদের পক্ষে টানতে এটি একটি কার্যকর পদক্ষেপ। তবে এই বিজয় আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় গভীর সংকটও ডেকে আনতে পারে, কারণ লেবানন ও পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে নতুন উত্তেজনার সম্ভাবনা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আল-জাজিরার বিশ্লেষণ বলছে, নাসরুল্লাহ হত্যাকাণ্ড শুধুমাত্র হিজবুল্লাহ নয়, সমগ্র অঞ্চলের রাজনৈতিক ও সামরিক ভারসাম্যকে প্রভাবিত করতে পারে। ইরান, ইসরায়েল, এবং লেবাননের ভূ-রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত এবং সময়ই বলবে এই উত্তেজনা কোন পথে গতি পাবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

হাসান নাসরুল্লাহ হত্যাকাণ্ড: হিজবুল্লাহর অস্তিত্ব বিপন্ন হবে না, তবে শক্তি কমবে? — আল–জাজিরার বিশ্লেষন

Update Time : ০৬:৪৬:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪
হিজবুল্লাহর প্রধান হাসান নাসরুল্লাহ

লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহর প্রধান হাসান নাসরুল্লাহকে ইসরায়েল গত শুক্রবার সকালে বৈরুতে বিমান হামলা চালিয়ে হত্যা করেছে। এই হামলায় হিজবুল্লাহর দক্ষিণাঞ্চলীয় ফ্রন্টের কমান্ডার আলী কারকিসহ আরও কয়েকজন কমান্ডার নিহত হয়েছেন। তবে এ ঘটনার প্রভাব নিয়ে বিশ্বব্যাপী আলোচনার ঝড় উঠেছে। বিশেষ করে হিজবুল্লাহর দীর্ঘমেয়াদি শক্তি ও ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের প্রেক্ষাপটে, বিষয়টি আরো জটিল হয়ে উঠেছে।

 হিজবুল্লাহর ওপর সম্ভাব্য প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে, হাসান নাসরুল্লাহর মৃত্যু নিঃসন্দেহে হিজবুল্লাহর জন্য একটি তাৎক্ষণিক এবং গুরুত্বপূর্ণ আঘাত। একজন ক্যারিশমাটিক নেতা হিসেবে নাসরুল্লাহ শুধু হিজবুল্লাহর সামরিক বাহিনীই নয়, বরং পুরো সংগঠনের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনার প্রতীক ছিলেন। তার মৃত্যুতে সংগঠনটির মধ্যে নেতৃত্বের শূন্যতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও, হিজবুল্লাহর অতীত থেকে দেখা যায় যে, এ ধরনের শূন্যতা পূরণে তারা খুবই দক্ষ। এটি একটি সংগঠন হিসেবে তাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি।

হিজবুল্লাহর দীর্ঘ ইতিহাসে দেখা গেছে, তারা এক নেতার স্থানে দ্রুত নতুন নেতৃত্ব গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে। ১৯৯২ সালে ইসরায়েলের আক্রমণে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা নেতা আব্বাস আল-মুসাভি নিহত হওয়ার পর নাসরুল্লাহ নেতৃত্বে আসেন এবং সেই শূন্যতা পূরণ করেন। তেমনি এবারও সংগঠনটি নতুন নেতৃত্ব খুঁজে বের করে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার সম্ভাবনা প্রবল। হিজবুল্লাহর কাঠামো এমনভাবে গড়ে তোলা হয়েছে যে, এটি ব্যক্তির চেয়ে দলীয় কর্মকাণ্ডকে বেশি গুরুত্ব দেয়।

বিশ্লেষক মোহাম্মদ মারান্ডি এই প্রসঙ্গে বলেন, “নাসরুল্লাহর মৃত্যু হিজবুল্লাহর জন্য অবশ্যই একটি বড় আঘাত, তবে তাদের সামরিক এবং রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করার জন্য এটি যথেষ্ট নয়। ইসরায়েলের জন্য হিজবুল্লাহর শক্তি শুধুমাত্র একজন নেতার ওপর নির্ভর করে না।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “ইরানের সরাসরি সমর্থন এবং দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সহায়তার মাধ্যমে হিজবুল্লাহ নিজেদের সামরিক অবস্থান বজায় রেখেছে এবং তা আগামীতে অব্যাহত থাকবে।”

হিজবুল্লাহর শক্তির অন্যতম একটি প্রধান দিক হলো তাদের অস্ত্রভাণ্ডার। ইরানের সামরিক সহায়তায় তারা শক্তিশালী অস্ত্র সংগ্রহ করেছে, যার মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র এবং অন্যান্য অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জাম রয়েছে। এর ফলে, সামরিক শক্তির দিক থেকে ইসরায়েল বা অন্য কোনো শক্তি হিজবুল্লাহকে পরাজিত করতে পারবে না। তাদের আঞ্চলিক ক্ষমতা এবং সামরিক উপস্থিতি এতটাই সুসংহত যে, শুধুমাত্র একজন নেতার মৃত্যুতে তাদের শক্তি পুরোপুরি বিলীন হওয়ার সম্ভাবনা কম।

এছাড়া, হিজবুল্লাহর আঞ্চলিক প্রভাবও ইরানের ভূ-রাজনৈতিক কৌশলের সাথে নিবিড়ভাবে সংযুক্ত। ইরান হিজবুল্লাহকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্সি বাহিনী হিসেবে ব্যবহার করে আসছে, যা লেবাননের ভেতর এবং বাইরে তাদের সামরিক এবং রাজনৈতিক ভূমিকা মজবুত করতে সহায়ক হয়েছে। নাসরুল্লাহর মৃত্যু ইরান-হিজবুল্লাহ সম্পর্ককে দুর্বল করবে না, বরং নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে এই সম্পর্ক আরও দৃঢ় হতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন।

নাসরুল্লাহর মৃত্যু ইসরায়েলের জন্য একটি কৌশলগত বিজয় হতে পারে, তবে হিজবুল্লাহর অস্তিত্বের ওপর এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব খুব সীমিত হবে বলে মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক।

 হিজবুল্লাহর নেতৃত্ব শূন্যতা কৌশল

হিজবুল্লাহর ইতিহাসে নেতৃত্বের শূন্যতা তৈরি হওয়া কোনো নতুন ঘটনা নয়। ১৯৯২ সালে তাদের প্রতিষ্ঠাতা নেতা আব্বাস আল-মুসাভি ইসরায়েলের হামলায় নিহত হওয়ার পরও সংগঠনটি দ্রুততার সাথে নিজেদের পুনর্গঠন করেছিল। তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন হাসান নাসরুল্লাহ, যিনি সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করে তোলেন। একইভাবে, নাসরুল্লাহর মৃত্যুর পরও হিজবুল্লাহর মধ্যে নেতৃত্বের এই শূন্যতা পূরণ করার জন্য সংগঠনটি দক্ষতার প্রমাণ দেবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

কার্নেগি মিডল ইস্ট প্রোগ্রামের জ্যেষ্ঠ ফেলো ইয়েজিদ সেইগের মতে, “হিজবুল্লাহ নিঃশেষ হওয়ার পথে নেই, বরং তারা কৌশলগত ধৈর্যের দিকে ঝুঁকবে।” তার মতে, হিজবুল্লাহ একটি সংগঠন হিসেবে তাদের আদর্শিক ভিত্তি ও কাঠামো এতটাই সুসংহত যে, এক বা একাধিক নেতার মৃত্যুতে তাদের কৌশলগত লক্ষ্যগুলো পরিবর্তিত হবে না। বরং তারা এমনভাবে সংগঠিত হয়েছে যে, প্রতিটি স্তরে নেতৃত্বের বিকল্প প্রস্তুত থাকে। এই কৌশলের মাধ্যমে তারা শত্রুর আঘাত মোকাবিলা করেও টিকে থাকতে এবং পুনরায় সংগঠিত হতে সক্ষম।

তবে হিজবুল্লাহর ইরানের সাথে সম্পর্ক এবং তাদের প্রক্সি ভূমিকা নিয়ে কিছু বিশেষজ্ঞের মধ্যে সমালোচনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞ সুলতান বারাকাতের মতে, হিজবুল্লাহর একটি বড় ভুল হলো ইরানের প্রক্সি বাহিনী হিসেবে অতিরিক্তভাবে ব্যবহৃত হওয়া। একসময় তারা লেবাননের অভ্যন্তরীণ ভূখণ্ড রক্ষার জন্য সক্রিয় থাকলেও, ইরানের স্বার্থ রক্ষায় সংগঠনটির জড়িয়ে পড়া তাদের স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা কিছুটা হ্রাস করেছে। এই প্রসঙ্গে বারাকাত বলেন, “হিজবুল্লাহ একসময় নিজস্ব জাতীয়তাবাদী আদর্শে সমৃদ্ধ ছিল, কিন্তু ইরানের অতিরিক্ত প্রভাব তাদেরকে একটি বিশেষ সংকটে ফেলেছে।” ইরান তাদেরকে সিরিয়া, ইরাক, এবং ইয়েমেনের মতো অঞ্চলে তাদের স্বার্থে ব্যবহার করেছে, যা মূলত লেবাননের ভূখণ্ডকেন্দ্রিক হিজবুল্লাহর মূল মিশন থেকে দূরে সরিয়ে নিয়েছে।

এই প্রক্সি ভূমিকা হিজবুল্লাহর সামরিক শক্তিকে মজবুত করলেও, একইসাথে তাদের রাজনৈতিক স্বকীয়তাকে কিছুটা দুর্বল করেছে বলে অনেক বিশ্লেষকের মত। ইরানের ওপর নির্ভরশীলতা তাদের আঞ্চলিক কৌশলগুলোতে সীমাবদ্ধতা তৈরি করেছে, যা ভবিষ্যতে হিজবুল্লাহর কৌশলগত অবস্থান দুর্বল করতে পারে।

তবে এটাও বলা হচ্ছে যে, নাসরুল্লাহর মৃত্যু হিজবুল্লাহকে একটি সুযোগ দিতে পারে নিজেদের নতুন কৌশল নির্ধারণের। ইরানের প্রভাব থেকে কিছুটা সরে এসে হিজবুল্লাহ যদি লেবাননের ভূখণ্ড এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নিজেদের ভূমিকা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে চায়, তবে এটি তাদের দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত অবস্থানকে মজবুত করতে পারে। ইসরায়েলের দৃষ্টিকোণ থেকে বিজয়

ইসরায়েল নাসরুল্লাহ হত্যাকাণ্ডকে একটি বড় বিজয় হিসেবে দেখছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, “আমরা জিততে চলেছি।” নিরাপত্তা বিশ্লেষক আলী রিজকের মতে, ইসরায়েল এই ঘটনার পর হিজবুল্লাহর নেতৃত্বহীনতার সুযোগ নিতে চেষ্টা করবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইসরায়েলের এই সাফল্য প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর পক্ষে জনমত বাড়াতে পারে। যদিও গাজায় হামাসকে নির্মূল করতে ব্যর্থ হওয়া এবং ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্ত করতে না পারা নেতানিয়াহুর প্রতি বিরোধিতা সৃষ্টি করেছিল, এই হামলার পর সমর্থন বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ইরানের প্রতিক্রিয়া

হিজবুল্লাহর প্রধান হাসান নাসরুল্লাহর হত্যাকাণ্ডে ইরানের প্রতিক্রিয়া বিশ্বব্যাপী ব্যাপকভাবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। ইরান হিজবুল্লাহর সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং সামরিক ও আর্থিক সহযোগিতার মাধ্যমে সংগঠনটির ওপর বিশাল প্রভাব বিস্তার করে আসছে। এই হত্যাকাণ্ডে ইরান কোনো সরাসরি যুদ্ধের পথে না গিয়ে বিকল্প পথ বেছে নিতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়াতে চাইবে না, কারণ এটি আঞ্চলিকভাবে আরও জটিল পরিস্থিতি তৈরি করবে। বরং ইরান ইরাক, সিরিয়া এবং ইয়েমেনের মতো দেশগুলোতে তাদের নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন প্রক্সি বাহিনীর মাধ্যমে প্রতিশোধ নেওয়ার পথ বেছে নিতে পারে। বিশেষজ্ঞ আলী রিজকের মতে, “ইরান সম্পূর্ণ উত্তেজনা ছড়িয়ে দেওয়ার পরিবর্তে আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নিতে পারে।” এর ফলে ইসরায়েলের ওপর নির্ভরশীলতা এবং নিরাপত্তা হুমকি আরও বৃদ্ধি পাবে।

এ ঘটনার পর ইরানের নতুন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এক বিবৃতিতে বলেন, “হাসান নাসরুল্লাহর হত্যাকাণ্ড শুধু হিজবুল্লাহ নয়, বরং সমগ্র প্রতিরোধ আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করবে।” তার এই বক্তব্যে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের প্রতিরোধশক্তির বার্তা স্পষ্ট। ইরান নাসরুল্লাহর মৃত্যুকে একটি প্রতীকী ঘটনা হিসেবে ব্যবহার করতে পারে এবং প্রতিরোধ আন্দোলনকে শক্তিশালী করে তুলতে পারে।

ইরান ইতোমধ্যেই বিভিন্ন অঞ্চলে তাদের প্রক্সি বাহিনীকে সক্রিয় করেছে এবং ভবিষ্যতে আরও উত্তেজনা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইরাক ও ইয়েমেনে শিয়া মিলিশিয়াদের মাধ্যমে ইরান তার সামরিক প্রভাব বিস্তার করতে পারে, যা ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়াতে সহায়তা করবে। সিরিয়াতেও ইরানের উপস্থিতি শক্তিশালী, যেখানে হিজবুল্লাহ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ভূমিকা পালন করে আসছে। এই অঞ্চলে ইরান এবং তাদের মিত্রদের মাধ্যমে প্রতিশোধমূলক আঘাত আসার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

তবে ইরান সরাসরি ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতে যাওয়ার ঝুঁকি কমিয়ে আনার চেষ্টা করতে পারে, কারণ এ ধরনের একটি সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর যুদ্ধের সূচনা করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান এই পরিস্থিতিকে দীর্ঘমেয়াদী কৌশল হিসেবে ব্যবহার করে আঞ্চলিক প্রভাব বৃদ্ধির চেষ্টা করবে।

ইরানের প্রতিক্রিয়া আঞ্চলিক রাজনীতি এবং সামরিক কৌশলে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে পারে। ইরান ইসরায়েলের ওপর সরাসরি আঘাত হানতে না গিয়ে তাদের আঞ্চলিক প্রক্সি বাহিনীকে দিয়ে উত্তেজনা বৃদ্ধি করতে পারে, যা ইসরায়েলের নিরাপত্তাকে আরও দুর্বল করবে।

সমাপনী মন্তব্য

হাসান নাসরুল্লাহর মৃত্যু নিঃসন্দেহে হিজবুল্লাহর জন্য একটি বড় আঘাত, তবে এটি সংগঠনের অস্তিত্বের সমাপ্তি ঘটাবে না। হিজবুল্লাহর দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত ধৈর্য ও অভ্যন্তরীণ শক্তি তাদের এই সংকট মোকাবিলা করতে সহায়তা করবে। অতীতে নেতাদের মৃত্যু সত্ত্বেও, সংগঠনটি নিজেকে পুনর্গঠন এবং নতুন নেতৃত্ব তৈরির সক্ষমতা প্রমাণ করেছে। এই ঘটনাও তার ব্যতিক্রম নয়।

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা অবশ্যই বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে এর গতি এবং পরিণতি এখনও অজানা। ইরান তার প্রক্সি বাহিনীগুলোর মাধ্যমে আঞ্চলিক প্রতিশোধ নিতে পারে, যা মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ও রাজনৈতিক ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। তবুও, ইরান সরাসরি সংঘাত এড়িয়ে কৌশলগত পদক্ষেপ নিতে পারে, বিশেষ করে সিরিয়া, ইয়েমেন, ও ইরাকের মতো জায়গাগুলোতে।

অন্যদিকে, ইসরায়েলের জন্য নাসরুল্লাহর মৃত্যুকে বিজয় হিসেবে দেখা যেতে পারে, বিশেষ করে জনমতকে তাদের পক্ষে টানতে এটি একটি কার্যকর পদক্ষেপ। তবে এই বিজয় আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় গভীর সংকটও ডেকে আনতে পারে, কারণ লেবানন ও পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে নতুন উত্তেজনার সম্ভাবনা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আল-জাজিরার বিশ্লেষণ বলছে, নাসরুল্লাহ হত্যাকাণ্ড শুধুমাত্র হিজবুল্লাহ নয়, সমগ্র অঞ্চলের রাজনৈতিক ও সামরিক ভারসাম্যকে প্রভাবিত করতে পারে। ইরান, ইসরায়েল, এবং লেবাননের ভূ-রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত এবং সময়ই বলবে এই উত্তেজনা কোন পথে গতি পাবে।