সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংকটের সামনে নীরব দর্শক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়: সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৮:৫০:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  • / ২১০ Time View

SAUDI FOREIGN MINISTER 1

সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ

 

সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ বলেছেন, বিশ্বব্যাপী সংকট বাড়ছে, এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এ সংকটগুলোর কার্যকর সমাধান খুঁজে পেতে ব্যর্থ হচ্ছে, ফলে তারা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ফাঁকে এক উচ্চ পর্যায়ের আলোচনায় ২৮ সেপ্টেম্বর তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সমস্ত দেশকে রাজনৈতিক বিভাজন পরিহার করে সংলাপ ও পারস্পরিক সহযোগিতায় জড়িত হওয়া উচিত। তিনি উল্লেখ করেন যে, সৌদি আরব এ অঞ্চলে শান্তি ও উন্নয়নের প্রচেষ্টায় একটি সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।

ফয়সাল বিন ফারহান ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে ইসরাইল কর্তৃক সংঘটিত অপরাধের নিন্দা করে বলেন, “গাজায় সাম্প্রতিক যুদ্ধ ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগের একটি নতুন অধ্যায়।” তিনি জানান, সৌদি আরব গত বছর আরব ও মুসলিম জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা প্রকাশে একটি যৌথ আরব-ইসরাইল সম্মেলন আয়োজন করেছে। এর উদ্দেশ্য ছিল রক্তপাত বন্ধ করা, মানবিক সহায়তা প্রদান এবং ফিলিস্তিনিদের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়ন, বিশেষ করে স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য প্রচেষ্টা চালানো

মন্ত্রী আরো উল্লেখ করেন, সৌদি আরব জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে উপস্থাপিত প্রস্তাবটিকে সমর্থন করেছে, যেখানে ফিলিস্তিনের পূর্ণ সদস্য হওয়ার শর্তাবলি পূরণ করার কথা বলা হয়েছে। সৌদি আরব এ পর্যন্ত গাজা যুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের জন্য ৫ বিলিয়ন ডলার সহায়তা প্রদান করেছে এবং ১০৬ বিলিয়ন ডলারের সাহায্য প্রকল্পে জাতিসংঘের সাহায্য সংস্থার সঙ্গে কাজ করছে।

ফয়সাল বিন ফারহান বলেন, “ফিলিস্তিনি সংকটের একটি ন্যায্য সমাধান প্রয়োজন, কারণ আইনি বাধ্যবাধকতা থেকে বিচ্যুতি ইসরাইলকে উত্তেজনা অব্যাহত রাখতে সহায়তা করছে।” তিনি জানান, সৌদি আরব ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনে পদক্ষেপ নিয়েছে, যা আশা করা হচ্ছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সহযোগিতার একটি নতুন দ্বার উন্মোচন করবে।

এছাড়া, সৌদি আরব ইয়েমেন ও লোহিত সাগরের সংকট সমাধানে সাহায্য করছে, যেখানে হুথি হামলা আন্তর্জাতিক শিপিংকে হুমকির মুখে ফেলেছে। তিনি সুদানে শান্তি ও স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারের জন্য সৌদি আরবের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন এবং জেদ্দায় যুদ্ধরত পক্ষগুলোর মধ্যে তৃতীয় দফার আলোচনা আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, আফগানিস্তানকে এই অঞ্চলে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দয়ার ওপর একা ছেড়ে দেওয়া যাবে না, যার জন্য দেশের মানবিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি করা অত্যন্ত জরুরি।

মন্ত্রী বলেছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত রাশিয়া-ইউক্রেন সংকট সমাধানের চেষ্টা করা, এবং সৌদি যুবরাজ এ ব্যাপারে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবেন। ফয়সাল বিন ফারহান বলেন, “আমরা বন্দীদের মুক্তির জন্য বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করছি এবং বিরোধের পক্ষগুলোর মধ্যে মধ্যস্থতার জন্য আমাদের প্রচেষ্টা বাড়াতে প্রস্তুত।”

সার্বিকভাবে, সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মন্তব্যগুলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সচেতনতা ও সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছে, যাতে সংকটের সময়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করা হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সংকটের সামনে নীরব দর্শক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়: সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী

Update Time : ০৮:৫০:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪
সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ

 

সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ বলেছেন, বিশ্বব্যাপী সংকট বাড়ছে, এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এ সংকটগুলোর কার্যকর সমাধান খুঁজে পেতে ব্যর্থ হচ্ছে, ফলে তারা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ফাঁকে এক উচ্চ পর্যায়ের আলোচনায় ২৮ সেপ্টেম্বর তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সমস্ত দেশকে রাজনৈতিক বিভাজন পরিহার করে সংলাপ ও পারস্পরিক সহযোগিতায় জড়িত হওয়া উচিত। তিনি উল্লেখ করেন যে, সৌদি আরব এ অঞ্চলে শান্তি ও উন্নয়নের প্রচেষ্টায় একটি সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।

ফয়সাল বিন ফারহান ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে ইসরাইল কর্তৃক সংঘটিত অপরাধের নিন্দা করে বলেন, “গাজায় সাম্প্রতিক যুদ্ধ ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগের একটি নতুন অধ্যায়।” তিনি জানান, সৌদি আরব গত বছর আরব ও মুসলিম জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা প্রকাশে একটি যৌথ আরব-ইসরাইল সম্মেলন আয়োজন করেছে। এর উদ্দেশ্য ছিল রক্তপাত বন্ধ করা, মানবিক সহায়তা প্রদান এবং ফিলিস্তিনিদের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়ন, বিশেষ করে স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য প্রচেষ্টা চালানো

মন্ত্রী আরো উল্লেখ করেন, সৌদি আরব জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে উপস্থাপিত প্রস্তাবটিকে সমর্থন করেছে, যেখানে ফিলিস্তিনের পূর্ণ সদস্য হওয়ার শর্তাবলি পূরণ করার কথা বলা হয়েছে। সৌদি আরব এ পর্যন্ত গাজা যুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের জন্য ৫ বিলিয়ন ডলার সহায়তা প্রদান করেছে এবং ১০৬ বিলিয়ন ডলারের সাহায্য প্রকল্পে জাতিসংঘের সাহায্য সংস্থার সঙ্গে কাজ করছে।

ফয়সাল বিন ফারহান বলেন, “ফিলিস্তিনি সংকটের একটি ন্যায্য সমাধান প্রয়োজন, কারণ আইনি বাধ্যবাধকতা থেকে বিচ্যুতি ইসরাইলকে উত্তেজনা অব্যাহত রাখতে সহায়তা করছে।” তিনি জানান, সৌদি আরব ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনে পদক্ষেপ নিয়েছে, যা আশা করা হচ্ছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সহযোগিতার একটি নতুন দ্বার উন্মোচন করবে।

এছাড়া, সৌদি আরব ইয়েমেন ও লোহিত সাগরের সংকট সমাধানে সাহায্য করছে, যেখানে হুথি হামলা আন্তর্জাতিক শিপিংকে হুমকির মুখে ফেলেছে। তিনি সুদানে শান্তি ও স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারের জন্য সৌদি আরবের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন এবং জেদ্দায় যুদ্ধরত পক্ষগুলোর মধ্যে তৃতীয় দফার আলোচনা আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, আফগানিস্তানকে এই অঞ্চলে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দয়ার ওপর একা ছেড়ে দেওয়া যাবে না, যার জন্য দেশের মানবিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি করা অত্যন্ত জরুরি।

মন্ত্রী বলেছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত রাশিয়া-ইউক্রেন সংকট সমাধানের চেষ্টা করা, এবং সৌদি যুবরাজ এ ব্যাপারে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবেন। ফয়সাল বিন ফারহান বলেন, “আমরা বন্দীদের মুক্তির জন্য বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করছি এবং বিরোধের পক্ষগুলোর মধ্যে মধ্যস্থতার জন্য আমাদের প্রচেষ্টা বাড়াতে প্রস্তুত।”

সার্বিকভাবে, সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মন্তব্যগুলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সচেতনতা ও সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছে, যাতে সংকটের সময়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করা হয়।