সময়: রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ নির্বাচন প্রসঙ্গ: সময় নিয়ে সরকারের কাছ থেকে রোডম্যাপ চায় দলগুলো

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০১:০০:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  • / ১৯৩ Time View

বাংলাদেশ নির্বাচন প্রসঙ্গ

 

 বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়সূচি এবং সংস্কার নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ-জামান ১৮ মাসের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, তা নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামী, গণতন্ত্র মঞ্চসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচন এবং এর আগে প্রয়োজনীয় সংস্কারের বিষয়ে সরকারের কাছ থেকে একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপের দাবি তুলেছে।

বিএনপি: দ্রুত নির্বাচনের পক্ষে অবস্থান

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দীর্ঘদিন ধরেই নির্বাচনের দাবিতে সোচ্চার রয়েছে। তাদের দাবি, সরকার আন্তরিক হলে, আগামী ১৮ মাসের মধ্যেই প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষ করে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব। বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন এ প্রসঙ্গে বলেন, “আমরা সরকারের প্রস্তাবিত সংস্কারকে সমর্থন করছি, তবে আমাদের প্রধান দাবি হলো নির্বাচন। জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হলে দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করা অত্যন্ত জরুরি।” তিনি আরও বলেন, “সরকার যদি আন্তরিক হয়, তাহলে ১৮ মাসের মধ্যেই নির্বাচনের আয়োজন করা সম্ভব হবে, যা দেশ ও জনগণের জন্য মঙ্গলজনক হবে।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও একাধিকবার সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, দ্রুততম সময়ে প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ শেষ করে নির্বাচন আয়োজনের জন্য। তাঁর মতে, যত বেশি নির্বাচন বিলম্বিত করা হবে, ততই দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিএনপি মনে করে, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন ছাড়া দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয় এবং জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে দ্রুত নির্বাচন প্রয়োজন।

জামায়াতে ইসলামী: এখনো সময় বেঁধে দিতে নারাজ

জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনের বিষয়ে এখনই কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিতে প্রস্তুত নয়। দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এ বিষয়ে বলেন, “সেনাপ্রধান তার মতামত ব্যক্ত করেছেন, তবে আমরা এখনই কোনো প্রতিক্রিয়া জানাতে চাই না। আমাদের মনে হয়, আগে প্রয়োজনীয় সংস্কার হওয়া দরকার, তারপর নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করা যেতে পারে।

জামায়াতের অবস্থান হলো, আগে নির্বাচনের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে হবে, এবং তার জন্য কিছু সংস্কার দরকার। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “নির্বাচন নিয়ে এখনই নির্দিষ্ট সময়-সীমা বেঁধে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি আসেনি। আগে প্রয়োজনীয় সংস্কার করে জনগণকে বোঝাতে হবে যে, নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।” জামায়াত মনে করে, অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত হবে যৌক্তিক সময়ের মধ্যে সংস্কার শেষ করে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা।

জাতীয় পার্টি: সংস্কার শেষ করেই নির্বাচন

জাতীয় পার্টির (জাপা) অবস্থান খানিকটা ভিন্ন। দলটি মনে করে, রাষ্ট্রের কিছু ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষ করা ছাড়া নির্বাচন আয়োজন করা উচিত হবে না। জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক বলেন, “রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাতে সংস্কার শেষ করতে হবে, তা না হলে নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে না। সেনাপ্রধানের বক্তব্য তাঁর ব্যক্তিগত মতামত হতে পারে, তবে আমরা মনে করি, সংস্কার ছাড়া নির্বাচন দেশের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে না।”

জাতীয় পার্টি এ বিষয়ে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, তারা একটি সুসংহত এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ভিত্তিতে নির্বাচন আয়োজনের পক্ষে। মুজিবুল হকের মতে, সংস্কারের মাধ্যমে রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে, যা একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গণতন্ত্র মঞ্চ ও গণসংহতি আন্দোলন: রোডম্যাপের প্রত্যাশা

গণতন্ত্র মঞ্চের অন্যতম নেতা এবং গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি সেনাপ্রধানের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় জানান, নির্বাচন এবং সংস্কার প্রশ্নে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে অন্তর্বর্তী সরকার একটি রোডম্যাপ প্রকাশ করবে বলে তারা আশা করছেন। তিনি বলেন, “নির্বাচনের আগে সময় ও সংস্কার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রয়োজন। আমরা মনে করি, অন্তর্বর্তী সরকার এ বিষয়ে একটি স্পষ্ট রোডম্যাপ প্রকাশ করবে এবং সে অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করবে।”

গণতন্ত্র মঞ্চ মনে করে, নির্বাচন নিয়ে সেনাপ্রধানের বক্তব্য একটি ইঙ্গিত দিয়েছে, তবে এখন প্রয়োজন সরকারের পক্ষ থেকে একটি স্পষ্ট রোডম্যাপ। দলটির মতে, রাজনৈতিক দলগুলো এবং জনগণের সঙ্গে আলোচনা করে এই রোডম্যাপ তৈরি করা উচিত, যাতে সবাই নির্বাচনের সুষ্ঠু এবং অবাধ পরিবেশ সম্পর্কে আশ্বস্ত হতে পারে।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির অবস্থান: রোডম্যাপ চাই

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন (প্রিন্স) মনে করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ দেওয়া প্রয়োজন ছিল। তিনি বলেন, “নির্বাচনের সময় ও সংস্কার নিয়ে সরকারের একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা থাকা দরকার। আমরা সরকারের রোডম্যাপের অপেক্ষায় আছি।” তিনি আরও যোগ করেন, “সেনাপ্রধানের বক্তব্য সেনাবাহিনীর অবস্থান স্পষ্ট করেছে, এজন্য তাকে ধন্যবাদ জানাই।”

কমিউনিস্ট পার্টি মনে করে, দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারকে দ্রুত একটি রোডম্যাপ দিতে হবে। তারা বিশ্বাস করে, একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের আগে যথাযথ সংস্কার প্রয়োজন, যা দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য সহায়ক হবে।

 

সেনাপ্রধানের বক্তব্য: রাজনৈতিক মহলে প্রতিক্রিয়া

সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ-জামান গত সোমবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, “ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারকে আমরা সমর্থন করব এবং ১৮ মাসের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলো সম্পন্ন করার জন্য সরকারকে সহায়তা করব।” সেনাপ্রধানের এ বক্তব্যের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল মনে করছে, সেনাবাহিনী তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে, যা রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার জন্য ইতিবাচক।

সেনাপ্রধানের বক্তব্য নিয়ে অনেক দলই আশাবাদী যে, এটি নির্বাচনের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট সময়সীমার ইঙ্গিত বহন করে। তবে, এখনো সরকারের পক্ষ থেকে নির্বাচনের রোডম্যাপ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

 

বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো বর্তমানে নির্বাচনের সময়সীমা এবং সংস্কার নিয়ে অপেক্ষায় রয়েছে। তারা চায়, সরকার দ্রুত একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ প্রকাশ করুক, যা নির্বাচন এবং সংস্কার সম্পর্কিত তাদের পরিকল্পনা স্পষ্ট করবে। বিএনপি এবং অন্যান্য বিরোধী দল দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্বাচন চায়, অন্যদিকে জাতীয় পার্টি এবং জামায়াতে ইসলামী সময় নিয়ে প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে নির্বাচন আয়োজনের পক্ষে মতামত দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, সরকার কীভাবে এই দাবি মোকাবিলা করবে এবং কবে নাগাদ নির্বাচনের রোডম্যাপ প্রকাশ করবে, যা দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে নতুন করে গতি দেবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বাংলাদেশ নির্বাচন প্রসঙ্গ: সময় নিয়ে সরকারের কাছ থেকে রোডম্যাপ চায় দলগুলো

Update Time : ০১:০০:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪

 

 বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়সূচি এবং সংস্কার নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ-জামান ১৮ মাসের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, তা নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামী, গণতন্ত্র মঞ্চসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচন এবং এর আগে প্রয়োজনীয় সংস্কারের বিষয়ে সরকারের কাছ থেকে একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপের দাবি তুলেছে।

বিএনপি: দ্রুত নির্বাচনের পক্ষে অবস্থান

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দীর্ঘদিন ধরেই নির্বাচনের দাবিতে সোচ্চার রয়েছে। তাদের দাবি, সরকার আন্তরিক হলে, আগামী ১৮ মাসের মধ্যেই প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষ করে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব। বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন এ প্রসঙ্গে বলেন, “আমরা সরকারের প্রস্তাবিত সংস্কারকে সমর্থন করছি, তবে আমাদের প্রধান দাবি হলো নির্বাচন। জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হলে দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করা অত্যন্ত জরুরি।” তিনি আরও বলেন, “সরকার যদি আন্তরিক হয়, তাহলে ১৮ মাসের মধ্যেই নির্বাচনের আয়োজন করা সম্ভব হবে, যা দেশ ও জনগণের জন্য মঙ্গলজনক হবে।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও একাধিকবার সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, দ্রুততম সময়ে প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ শেষ করে নির্বাচন আয়োজনের জন্য। তাঁর মতে, যত বেশি নির্বাচন বিলম্বিত করা হবে, ততই দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিএনপি মনে করে, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন ছাড়া দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয় এবং জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে দ্রুত নির্বাচন প্রয়োজন।

জামায়াতে ইসলামী: এখনো সময় বেঁধে দিতে নারাজ

জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনের বিষয়ে এখনই কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিতে প্রস্তুত নয়। দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এ বিষয়ে বলেন, “সেনাপ্রধান তার মতামত ব্যক্ত করেছেন, তবে আমরা এখনই কোনো প্রতিক্রিয়া জানাতে চাই না। আমাদের মনে হয়, আগে প্রয়োজনীয় সংস্কার হওয়া দরকার, তারপর নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করা যেতে পারে।

জামায়াতের অবস্থান হলো, আগে নির্বাচনের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে হবে, এবং তার জন্য কিছু সংস্কার দরকার। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “নির্বাচন নিয়ে এখনই নির্দিষ্ট সময়-সীমা বেঁধে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি আসেনি। আগে প্রয়োজনীয় সংস্কার করে জনগণকে বোঝাতে হবে যে, নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।” জামায়াত মনে করে, অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত হবে যৌক্তিক সময়ের মধ্যে সংস্কার শেষ করে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা।

জাতীয় পার্টি: সংস্কার শেষ করেই নির্বাচন

জাতীয় পার্টির (জাপা) অবস্থান খানিকটা ভিন্ন। দলটি মনে করে, রাষ্ট্রের কিছু ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষ করা ছাড়া নির্বাচন আয়োজন করা উচিত হবে না। জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক বলেন, “রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাতে সংস্কার শেষ করতে হবে, তা না হলে নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে না। সেনাপ্রধানের বক্তব্য তাঁর ব্যক্তিগত মতামত হতে পারে, তবে আমরা মনে করি, সংস্কার ছাড়া নির্বাচন দেশের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে না।”

জাতীয় পার্টি এ বিষয়ে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, তারা একটি সুসংহত এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ভিত্তিতে নির্বাচন আয়োজনের পক্ষে। মুজিবুল হকের মতে, সংস্কারের মাধ্যমে রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে, যা একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গণতন্ত্র মঞ্চ ও গণসংহতি আন্দোলন: রোডম্যাপের প্রত্যাশা

গণতন্ত্র মঞ্চের অন্যতম নেতা এবং গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি সেনাপ্রধানের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় জানান, নির্বাচন এবং সংস্কার প্রশ্নে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে অন্তর্বর্তী সরকার একটি রোডম্যাপ প্রকাশ করবে বলে তারা আশা করছেন। তিনি বলেন, “নির্বাচনের আগে সময় ও সংস্কার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রয়োজন। আমরা মনে করি, অন্তর্বর্তী সরকার এ বিষয়ে একটি স্পষ্ট রোডম্যাপ প্রকাশ করবে এবং সে অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করবে।”

গণতন্ত্র মঞ্চ মনে করে, নির্বাচন নিয়ে সেনাপ্রধানের বক্তব্য একটি ইঙ্গিত দিয়েছে, তবে এখন প্রয়োজন সরকারের পক্ষ থেকে একটি স্পষ্ট রোডম্যাপ। দলটির মতে, রাজনৈতিক দলগুলো এবং জনগণের সঙ্গে আলোচনা করে এই রোডম্যাপ তৈরি করা উচিত, যাতে সবাই নির্বাচনের সুষ্ঠু এবং অবাধ পরিবেশ সম্পর্কে আশ্বস্ত হতে পারে।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির অবস্থান: রোডম্যাপ চাই

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন (প্রিন্স) মনে করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ দেওয়া প্রয়োজন ছিল। তিনি বলেন, “নির্বাচনের সময় ও সংস্কার নিয়ে সরকারের একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা থাকা দরকার। আমরা সরকারের রোডম্যাপের অপেক্ষায় আছি।” তিনি আরও যোগ করেন, “সেনাপ্রধানের বক্তব্য সেনাবাহিনীর অবস্থান স্পষ্ট করেছে, এজন্য তাকে ধন্যবাদ জানাই।”

কমিউনিস্ট পার্টি মনে করে, দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারকে দ্রুত একটি রোডম্যাপ দিতে হবে। তারা বিশ্বাস করে, একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের আগে যথাযথ সংস্কার প্রয়োজন, যা দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য সহায়ক হবে।

 

সেনাপ্রধানের বক্তব্য: রাজনৈতিক মহলে প্রতিক্রিয়া

সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ-জামান গত সোমবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, “ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারকে আমরা সমর্থন করব এবং ১৮ মাসের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলো সম্পন্ন করার জন্য সরকারকে সহায়তা করব।” সেনাপ্রধানের এ বক্তব্যের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল মনে করছে, সেনাবাহিনী তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে, যা রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার জন্য ইতিবাচক।

সেনাপ্রধানের বক্তব্য নিয়ে অনেক দলই আশাবাদী যে, এটি নির্বাচনের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট সময়সীমার ইঙ্গিত বহন করে। তবে, এখনো সরকারের পক্ষ থেকে নির্বাচনের রোডম্যাপ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

 

বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো বর্তমানে নির্বাচনের সময়সীমা এবং সংস্কার নিয়ে অপেক্ষায় রয়েছে। তারা চায়, সরকার দ্রুত একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ প্রকাশ করুক, যা নির্বাচন এবং সংস্কার সম্পর্কিত তাদের পরিকল্পনা স্পষ্ট করবে। বিএনপি এবং অন্যান্য বিরোধী দল দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্বাচন চায়, অন্যদিকে জাতীয় পার্টি এবং জামায়াতে ইসলামী সময় নিয়ে প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে নির্বাচন আয়োজনের পক্ষে মতামত দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, সরকার কীভাবে এই দাবি মোকাবিলা করবে এবং কবে নাগাদ নির্বাচনের রোডম্যাপ প্রকাশ করবে, যা দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে নতুন করে গতি দেবে।