মূল্যস্ফীতির লাগাম টানতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি সুদহার বৃদ্ধি
- Update Time : ১০:২১:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪
- / ২১৪ Time View

উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংক নীতি সুদহার বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ব্যাংকের প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ব্যাংকগুলো যখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়, তখন সেই ঋণের সুদহার রেপোর মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। আর ব্যাংকগুলো যখন উদ্বৃত্ত অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রাখে, তা রিভার্স রেপোর মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক দীর্ঘমেয়াদি ঋণের ক্ষেত্রে যে সুদহারে অর্থ দেয়, সেটি ব্যাংক রেট নামে পরিচিত। রেপো রেট বৃদ্ধির ফলে ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে অর্থ ধার করার খরচ বাড়বে। এ সিদ্ধান্তের ফলে ব্যাংকঋণের সুদহার এবং আমানতের উপর প্রদত্ত সুদও বেড়ে যাবে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নীতি সুদহার বা রেপো রেট ০.৫০ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়িয়ে ৯ শতাংশ থেকে ৯.৫০ শতাংশ করা হয়েছে। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলো ঋণ নিলে তাদের সুদহার বৃদ্ধি পাবে। এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির দিকে যাচ্ছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নীতি সুদহার করিডোরের সর্বোচ্চ সীমা স্ট্যান্ডিং ল্যান্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) সুদহার ১০.৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১১ শতাংশ করা হয়েছে এবং সর্বনিম্ন সীমা স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) সুদহার ৭.৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৮ শতাংশ করা হয়েছে।
এ সিদ্ধান্ত আগামীকাল বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হবে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মনিটারি পলিসি কমিটির পঞ্চম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর গতকাল জানান, চলমান মূল্যস্ফীতি, বিশেষত খাদ্যপণ্যের উচ্চমূল্য নিয়ন্ত্রণে নীতি সুদহার পুনরায় বাড়ানো হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত চলতি সপ্তাহে কার্যকর হবে এবং আগামী মাসে আরও বৃদ্ধি করা হতে পারে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যমতে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১২ মাসের গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৯.৭৩ শতাংশ। এছাড়া চলতি বছরের জুলাই মাসে ভোক্তা মূল্যস্ফীতি বেড়ে ১১.৬৬ শতাংশে পৌঁছেছে, যা গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। গত অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশের মধ্যে রাখার লক্ষ্য থাকলেও তা অনেক বেশি ছিল।
২০২২ সালের মে মাস থেকে পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক সংকোচনমূলক নীতি গ্রহণ করে এবং পলিসি রেট কয়েকবার বাড়িয়েছে। এই নীতি অনুসরণ করার ফলে ব্যাংকঋণের সুদ বাড়ছে এবং ঋণ গ্রহণের খরচও বেড়েছে।











