সময়: রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর এক সাথে দুটি ‘চাঁদ’ পেতে যাচ্ছে পৃথিবী

নাবিল বিন বিল্লাল
  • Update Time : ০৯:৫৯:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  • / ২২৭ Time View

চাঁদ

আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর এক সাথে দুটি ‘চাঁদ’ পেতে যাচ্ছে পৃথিবী

আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর পৃথিবী বিরল এক মহাকাশীয় ঘটনার সাক্ষী হতে চলেছে। স্বল্প সময়ের জন্য, পৃথিবী পেতে যাচ্ছে দ্বিতীয় একটি ‘চাঁদ’! মহাকাশের অতল থেকে পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তির টানে ছুটে আসছে এই নতুন উপগ্রহ, যাকে বিজ্ঞানীরা নাম দিয়েছেন ‘মিনি মুন’।

প্রশ্ন উঠতে পারে, এই দ্বিতীয় ‘চাঁদ’ কি পৃথিবীর জন্য কল্যাণকর হবে? যখন এটি মহাকাশে দৃশ্যমান হবে, তখন কি পৃথিবী কোনো ক্ষতির সম্মুখীন হবে?

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ‘মিনি মুন’ আকাশের পরিচিত চাঁদের মতো সুন্দর হবে না। এটি আসলে একটি ছোট আকারের গ্রহাণু, যার নাম দেওয়া হয়েছে ২০২৪ পিটি৫। কিছু বিজ্ঞানী একে কোয়াসি মুন বা অর্ধেক চাঁদ বলেও অভিহিত করেছেন।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত এই গ্রহাণুটি পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করবে। আমেরিকান অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির গবেষণায় উঠে এসেছে এই গ্রহাণুর গঠন ও এর ভ্রমণপথ। গবেষণায় বলা হয়েছে, পৃথিবী প্রদক্ষিণ শেষে এটি সূর্যের চারপাশে নিজ কক্ষপথে ফিরে যাবে।

সৌরজগতে অনেক গ্রহ একাধিক চাঁদ নিয়ে ঘুরে বেড়ায়, কিন্তু পৃথিবীর রয়েছে মাত্র একটিই চাঁদ। এবার সেই একের সঙ্গে যুক্ত হতে চলেছে আরও একটি।

আমেরিকান অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির একটি গবেষণায় উঠে এসেছে, এই নতুন গ্রহাণুর গঠন, ভ্রমণপথ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। গবেষণায় বলা হয়েছে, পৃথিবী প্রদক্ষিণ শেষে এই গ্রহাণুটি সূর্যকেন্দ্রিক কক্ষপথে ফিরে যাবে।

সৌরজগতে বিভিন্ন গ্রহের অনেকগুলো চাঁদ রয়েছে, কিন্তু পৃথিবীর রয়েছে মাত্র একটি চাঁদ। এবার পৃথিবী অস্থায়ীভাবে দ্বিতীয় একটি চাঁদ পেতে চলেছে, যা একটি বিরল জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা। বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, পৃথিবী শীঘ্রই আরও একটি চাঁদ পাবে, তবে এটি দীর্ঘস্থায়ী হবে না।

এই গ্রহাণুটির ব্যাস প্রায় ১০ মিটার বা ৩৩ ফুট, যা পৃথিবীর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ দ্বারা প্রভাবিত হবে। এটি দুই মাস ধরে পৃথিবীর চারপাশে ঘুরবে, অর্থাৎ ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত পৃথিবীর সাময়িক উপগ্রহ হিসেবে কাজ করবে। এরপর এটি পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ বল থেকে বেরিয়ে নিজের সূর্যকেন্দ্রিক কক্ষপথে ফিরে যাবে।

বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, এই গ্রহাণু শুধু পৃথিবীর উপগ্রহ হিসেবে কাজ করবে না, বরং এটি বিজ্ঞানীদের গবেষণায় নতুন তথ্যও প্রদান করবে। এর থেকে সৃষ্ট চৌম্বক ক্ষেত্রের বিশ্লেষণে মহাকাশ সম্পর্কে অনেক নতুন তথ্য জানা যাবে।

পৃথিবী আগেও এমন অস্থায়ী চাঁদের দেখা পেয়েছে। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে ‘২০২০ সিডি ৩’ নামের একটি গ্রহাণু কয়েক বছর ধরে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করেছিল, যা পরে বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছিলেন। পৃথিবীর দিকে ধাবিত হওয়া গ্রহাণুগুলো সাধারণত বায়ুমণ্ডলে ঢুকে পুড়ে যায়। কিন্তু পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করতে হলে একটি গ্রহাণুর নির্দিষ্ট গতি এবং দিক মেনে পৃথিবীর কক্ষপথে ঢুকতে হয়।

বিজ্ঞানী মার্কোস জানিয়েছেন, ‘মিনি মুন’-এ পরিণত হতে চলা গ্রহাণুকে ঘণ্টায় ২,২৩৭ মাইল গতিতে পৃথিবীর ২৮ লাখ মাইলের মধ্যে প্রবেশ করতে হবে।

গবেষণাপত্রে বিজ্ঞানীরা উল্লেখ করেছেন যে, পৃথিবীর কাছাকাছি বস্তুগুলো সাধারণত একটি ঘোড়ার নালের মতো পথ অনুসরণ করে। যখন এসব বস্তু গ্রহের কাছে আসে, তাদের গতিবেগ খুব বেশি হয় না। কিছু সময় ঘুরে, সেগুলো আবার নিজেদের কক্ষপথে ফিরে যায় অথবা শক্তি হারিয়ে ধ্বংস হয়ে যায়।

তবে, ২০২৪ পিটি৫ ধ্বংস হবে না। এটি পৃথিবীর চারপাশে ঘুরে, পরে সূর্যের চারপাশে চলে যাবে। তবে যতদিন এটি পৃথিবীর চারপাশে ঘুরবে, এটি খালি চোখে দেখা যাবে না; মহাকাশের দৃশ্য পর্যবেক্ষণের জন্য বিশেষ সরঞ্জাম ছাড়া ২০২৪ পিটি৫ অদৃশ্যই থাকবে।

১৯৮১ ও ২০২২ সালে এমন ঘটনা ঘটেছিল, যখন মাধ্যাকর্ষণশক্তির টানে দুটি গ্রহাণু পৃথিবীর কক্ষপথে প্রবেশ করেছিল। কিছুদিন থাকার পর, তারা মহাকর্ষের প্রভাব কাটিয়ে বেরিয়ে গিয়েছে। ফলে, যদিও চাঁদ নতুন সঙ্গী পাচ্ছে, এই ‘মিনি মুন’ কে দেখা যাবে কেবল উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টেলিস্কোপের মাধ্যমে। ফলে, পৃথিবীবাসী খালি চোখে ছোট চাঁদটির দর্শন লাভ করতে পারবে না।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

নাবিল বিন বিল্লাল

নবিল বিন বিল্লাল একজন বিশিষ্ট আইটি বিশেষজ্ঞ এবং বিডিবো নিউজে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ে নিবন্ধ লেখক হিসেবে খ্যাতিমান। তিনি তার প্রযুক্তিগত দক্ষতাকে একটি বৃহৎ পাঠকগোষ্ঠীর জন্য জটিল প্রযুক্তিগত ধারণাগুলি সহজভাবে উপস্থাপন করার আগ্রহের সাথে নিপুণভাবে মিশিয়ে দেন। তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে বিস্তৃত অভিজ্ঞতা থাকার ফলে, তিনি টেক কমিউনিটিতে একটি প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন, উদীয়মান প্রবণতাগুলি নিয়ে গভীর বিশ্লেষণ ও অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করেন। বিডিবো নিউজে তার নিবন্ধগুলি তার তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে গভীর জ্ঞানের পরিচয় দেয় এবং জটিল বিষয়গুলিকে সহজবোধ্যভাবে প্রকাশ করার ক্ষমতা প্রতিফলিত করে। প্রযুক্তি এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করার জন্য তার অঙ্গীকার তাকে শিল্পের একজন চিন্তাশীল নেতা হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করেছে। নবিল বিন বিল্লাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান জগতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন, যা তাকে সর্বশেষ উন্নয়ন সম্পর্কে সচেতন থাকার জন্য একটি চাহিদাসম্পন্ন কণ্ঠস্বর করে তুলেছে।

আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর এক সাথে দুটি ‘চাঁদ’ পেতে যাচ্ছে পৃথিবী

Update Time : ০৯:৫৯:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪
আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর এক সাথে দুটি ‘চাঁদ’ পেতে যাচ্ছে পৃথিবী

আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর পৃথিবী বিরল এক মহাকাশীয় ঘটনার সাক্ষী হতে চলেছে। স্বল্প সময়ের জন্য, পৃথিবী পেতে যাচ্ছে দ্বিতীয় একটি ‘চাঁদ’! মহাকাশের অতল থেকে পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তির টানে ছুটে আসছে এই নতুন উপগ্রহ, যাকে বিজ্ঞানীরা নাম দিয়েছেন ‘মিনি মুন’।

প্রশ্ন উঠতে পারে, এই দ্বিতীয় ‘চাঁদ’ কি পৃথিবীর জন্য কল্যাণকর হবে? যখন এটি মহাকাশে দৃশ্যমান হবে, তখন কি পৃথিবী কোনো ক্ষতির সম্মুখীন হবে?

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ‘মিনি মুন’ আকাশের পরিচিত চাঁদের মতো সুন্দর হবে না। এটি আসলে একটি ছোট আকারের গ্রহাণু, যার নাম দেওয়া হয়েছে ২০২৪ পিটি৫। কিছু বিজ্ঞানী একে কোয়াসি মুন বা অর্ধেক চাঁদ বলেও অভিহিত করেছেন।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত এই গ্রহাণুটি পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করবে। আমেরিকান অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির গবেষণায় উঠে এসেছে এই গ্রহাণুর গঠন ও এর ভ্রমণপথ। গবেষণায় বলা হয়েছে, পৃথিবী প্রদক্ষিণ শেষে এটি সূর্যের চারপাশে নিজ কক্ষপথে ফিরে যাবে।

সৌরজগতে অনেক গ্রহ একাধিক চাঁদ নিয়ে ঘুরে বেড়ায়, কিন্তু পৃথিবীর রয়েছে মাত্র একটিই চাঁদ। এবার সেই একের সঙ্গে যুক্ত হতে চলেছে আরও একটি।

আমেরিকান অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির একটি গবেষণায় উঠে এসেছে, এই নতুন গ্রহাণুর গঠন, ভ্রমণপথ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। গবেষণায় বলা হয়েছে, পৃথিবী প্রদক্ষিণ শেষে এই গ্রহাণুটি সূর্যকেন্দ্রিক কক্ষপথে ফিরে যাবে।

সৌরজগতে বিভিন্ন গ্রহের অনেকগুলো চাঁদ রয়েছে, কিন্তু পৃথিবীর রয়েছে মাত্র একটি চাঁদ। এবার পৃথিবী অস্থায়ীভাবে দ্বিতীয় একটি চাঁদ পেতে চলেছে, যা একটি বিরল জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা। বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, পৃথিবী শীঘ্রই আরও একটি চাঁদ পাবে, তবে এটি দীর্ঘস্থায়ী হবে না।

এই গ্রহাণুটির ব্যাস প্রায় ১০ মিটার বা ৩৩ ফুট, যা পৃথিবীর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ দ্বারা প্রভাবিত হবে। এটি দুই মাস ধরে পৃথিবীর চারপাশে ঘুরবে, অর্থাৎ ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত পৃথিবীর সাময়িক উপগ্রহ হিসেবে কাজ করবে। এরপর এটি পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ বল থেকে বেরিয়ে নিজের সূর্যকেন্দ্রিক কক্ষপথে ফিরে যাবে।

বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, এই গ্রহাণু শুধু পৃথিবীর উপগ্রহ হিসেবে কাজ করবে না, বরং এটি বিজ্ঞানীদের গবেষণায় নতুন তথ্যও প্রদান করবে। এর থেকে সৃষ্ট চৌম্বক ক্ষেত্রের বিশ্লেষণে মহাকাশ সম্পর্কে অনেক নতুন তথ্য জানা যাবে।

পৃথিবী আগেও এমন অস্থায়ী চাঁদের দেখা পেয়েছে। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে ‘২০২০ সিডি ৩’ নামের একটি গ্রহাণু কয়েক বছর ধরে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করেছিল, যা পরে বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছিলেন। পৃথিবীর দিকে ধাবিত হওয়া গ্রহাণুগুলো সাধারণত বায়ুমণ্ডলে ঢুকে পুড়ে যায়। কিন্তু পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করতে হলে একটি গ্রহাণুর নির্দিষ্ট গতি এবং দিক মেনে পৃথিবীর কক্ষপথে ঢুকতে হয়।

বিজ্ঞানী মার্কোস জানিয়েছেন, ‘মিনি মুন’-এ পরিণত হতে চলা গ্রহাণুকে ঘণ্টায় ২,২৩৭ মাইল গতিতে পৃথিবীর ২৮ লাখ মাইলের মধ্যে প্রবেশ করতে হবে।

গবেষণাপত্রে বিজ্ঞানীরা উল্লেখ করেছেন যে, পৃথিবীর কাছাকাছি বস্তুগুলো সাধারণত একটি ঘোড়ার নালের মতো পথ অনুসরণ করে। যখন এসব বস্তু গ্রহের কাছে আসে, তাদের গতিবেগ খুব বেশি হয় না। কিছু সময় ঘুরে, সেগুলো আবার নিজেদের কক্ষপথে ফিরে যায় অথবা শক্তি হারিয়ে ধ্বংস হয়ে যায়।

তবে, ২০২৪ পিটি৫ ধ্বংস হবে না। এটি পৃথিবীর চারপাশে ঘুরে, পরে সূর্যের চারপাশে চলে যাবে। তবে যতদিন এটি পৃথিবীর চারপাশে ঘুরবে, এটি খালি চোখে দেখা যাবে না; মহাকাশের দৃশ্য পর্যবেক্ষণের জন্য বিশেষ সরঞ্জাম ছাড়া ২০২৪ পিটি৫ অদৃশ্যই থাকবে।

১৯৮১ ও ২০২২ সালে এমন ঘটনা ঘটেছিল, যখন মাধ্যাকর্ষণশক্তির টানে দুটি গ্রহাণু পৃথিবীর কক্ষপথে প্রবেশ করেছিল। কিছুদিন থাকার পর, তারা মহাকর্ষের প্রভাব কাটিয়ে বেরিয়ে গিয়েছে। ফলে, যদিও চাঁদ নতুন সঙ্গী পাচ্ছে, এই ‘মিনি মুন’ কে দেখা যাবে কেবল উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টেলিস্কোপের মাধ্যমে। ফলে, পৃথিবীবাসী খালি চোখে ছোট চাঁদটির দর্শন লাভ করতে পারবে না।