সালমানের সুপারিশে গ্লোব জনকণ্ঠকে ২২৫ কোটি টাকা অর্থনীতি, এখন পুরোটাই খেলাপি
- Update Time : ১১:০১:৫১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৪
- / ২৩৫ Time View

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারানো সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের সুপারিশে গ্লোব জনকণ্ঠ শিল্প পরিবারকে ২২৫ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছিল রাষ্ট্রমালিকানাধীন জনতা ব্যাংক, যা এখন পুরোপুরি খেলাপি হয়ে পড়েছে।
বর্তমানে গ্লোব জনকণ্ঠ শিল্প পরিবারের কাছে জনতা ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৮০০ কোটি টাকারও বেশি। ২০২০ সালের আগস্টে সালমান এফ রহমান জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়ে গ্লোব জনকণ্ঠকে ঋণ দেওয়ার বিশেষ অনুরোধ জানান। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেছিলেন, প্রতিষ্ঠানটি বিএনপি-জামায়াত সরকারের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ভিত্তিতে ২০২১ সালে গ্লোব জনকণ্ঠকে ঋণ অনুমোদন করে জনতা ব্যাংক।
নথি অনুযায়ী, ঋণ পাওয়ার শর্তগুলো পূরণ করতে পারছিল না গ্লোব জনকণ্ঠ। জনতা ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকেও মতামত দেওয়া হয়েছিল যে, ঋণটি পুনরায় খেলাপি হয়ে পড়তে পারে। সরকারের বাণিজ্যিক অডিট অধিদপ্তর জানিয়েছিল, নতুন ঋণ দেওয়ার ফলে ব্যাংকের ক্ষতির পরিমাণ ৩৯৩ কোটি টাকা হবে। এর আগে সোনালী ও জনতা ব্যাংক মিলে গ্লোব জনকণ্ঠের ২৬৭ কোটি টাকা সুদ মওকুফ করেছিল। তবুও সালমান এফ রহমানের চিঠির কারণে নতুন ঋণ অনুমোদন করা হয়।
গ্লোব জনকণ্ঠ শিল্প পরিবারের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আতিকউল্লাহ খান মাসুদ ২০২১ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি জনকণ্ঠ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন। জনতা ব্যাংকের এমডি আবদুল জব্বার জানান, গ্রুপটির সব ঋণ খেলাপি হয়ে পড়েছে এবং তা আদায়ের চেষ্টা চলছে।
গ্লোব জনকণ্ঠ গ্রুপ মূলত সোনালী ব্যাংক থেকে অর্থায়ন পেয়ে আসছিল, কিন্তু ২০১২ সালে হল-মার্ক কেলেঙ্কারির পর তারা জনতা ব্যাংকের দিকে নজর দেয়। ২০১৩ সালে জনতা ব্যাংক তাদের ২৩৭ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন করে এবং দুই দফায় পুনঃতফসিল করে
২০২০ সালের ডিসেম্বরে নতুন ঋণের কিস্তি শুরু হওয়ার আগে খেলাপি আরও ঋণ পেতে তদবির করে। সালমান এফ রহমানের সুপারিশেই ঋণটি পুনঃতফসিল করা হয়, যদিও ব্যাংকের কর্মকর্তারা এর বিপক্ষে মত দেন। এখন গ্লোব জনকণ্ঠের খেলাপি ঋণ ব্যাংকের জন্য বিশাল বোঝা হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ মোস্তফা কে মুজেরী বলেন, ঋণ আদায়ের প্রধান শর্ত হচ্ছে ব্যবসার স্থিতিশীলতা। সুপারিশের ভিত্তিতে ঋণ প্রদান না করে ব্যবসার অবস্থা যাচাই করা উচিত ছিল।











