ভারতের বিদ্যুৎ করিডোর চুক্তিতে স্বাক্ষরকারীই হলেন দুর্নীতির শ্বেতপত্রের ফোকাল কর্মকর্তা
- Update Time : ১১:৫২:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৪
- / ২২৩ Time View

দেশের স্বার্থকে উপেক্ষা করে ভারতকে একতরফাভাবে বিদ্যুৎ করিডোর দিতে সম্মতি দিয়েছিলেন বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সৈয়দ মাসুম আহমেদ চৌধুরী। শেখ হাসিনা সরকারের শেষ সময়ে, গত ১৮ থেকে ২১ জুলাই ভারতে অনুষ্ঠিত যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির সভায় তিনি এই বিষয়ে এককভাবে সম্মতি দিয়েছিলেন। যদি এই চুক্তি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে বাংলাদেশের ক্ষতি হবে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। আশ্চর্যজনকভাবে, সৈয়দ মাসুম আহমেদ চৌধুরীকেই বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশের ফোকাল কর্মকর্তা হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, যেখানে তাকে দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দেয়ার জন্য তিরস্কার করা উচিত ছিল, সেখানে তাকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ আসলে কাদের নিয়ন্ত্রণে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন দেশপ্রেমিক কর্মকর্তারা।
বিদ্যুৎ বিভাগের একটি দায়িত্বশীল সূত্র থেকে জানা গেছে, ভারতের প্রয়োজনে বরনগর থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পারবর্তীপূর হয়ে ভারতের কাতিহার পর্যন্ত ৭৬৫ কেভি সঞ্চালন লাইন স্থাপনের উদ্যোগ নেয় নয়াদিল্লি। ২০১৬ সালে এই পরিকল্পনা শুরু হয়। তবে কারিগরি ও আর্থিক বিবেচনায় এই সঞ্চালন লাইনের বাংলাদেশের কোনো প্রয়োজন ছিল না, কারণ আদানি থেকে আমদানি করা বিদ্যুৎ এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য আলাদা সঞ্চালন ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই স্থাপন করা হয়েছে।
প্রথমে সিদ্ধান্ত ছিল ভারত এই সঞ্চালন লাইনের কাজ এককভাবে করবে, কিন্তু পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত হয় যে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ কোম্পানি গঠনের মাধ্যমে এই লাইন নির্মাণ করা হবে। ২০২৩ সালের মে মাসে যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির খুলনা সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এই লাইন বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজন ছিল না। বিদ্যুৎ বিভাগের কিছু কর্মকর্তা, বিশেষত সৈয়দ মাসুম আহমেদ চৌধুরী, ভারতের স্বার্থ রক্ষায় সর্বদা তৎপর ছিলেন।
পিজিসিবির এক সমীক্ষা অনুযায়ী, ৭৬৫ কেভি সঞ্চালন লাইন স্থাপনে প্রতি কিলোমিটারের জন্য ব্যয় হবে প্রায় ৩ মিলিয়ন ডলার, এবং ৩০০ কিলোমিটার লাইন স্থাপনের জন্য মোট ব্যয় হবে ৯০০ মিলিয়ন বা ৯০ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশের পক্ষে এই ব্যয় অযৌক্তিক হলেও সৈয়দ মাসুম আহমেদ চৌধুরী নিজেই এই চুক্তিতে সম্মতি দেন এবং ভারতকে সুবিধা পাইয়ে দেন।
সুত্রঃ নয়া দিগন্ত











