সময়: রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুনামির প্রভাবে ৯ দিন কেঁপেছে পৃথিবী: বিজ্ঞানীদের বক্তব্য

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১০:১৫:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  • / ১৮৭ Time View

সুনামির প্রভাবে ৯ দিন কেঁপেছে পৃথিবী

সুনামির প্রভাবে ৯ দিন কেঁপেছে পৃথিবী

 

গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে উত্তর আমেরিকার গ্রিনল্যান্ডে এক বিশাল ভূমিধসের ঘটনা ঘটে, যার ফলে সৃষ্ট সুনামি (সমুদ্রের ঢেউ) পৃথিবীকে টানা ৯ দিন ধরে কম্পিত করে। নতুন এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে, যা স্কাই নিউজে প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষকদের মতে, সেই মাসে গ্রিনল্যান্ডের ১.২ কিলোমিটার (০.৭ মাইল) উঁচু একটি পর্বতচূড়া ধসে পড়ে, যার ফলে একটি গভীর খাঁড়িতে বিশাল ঢেউ সৃষ্টি হয়। এ ঢেউয়ের কারণে পৃথিবীর ভূত্বকে দীর্ঘস্থায়ী কম্পন তৈরি হয়। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের (ইউসিএল) বিজ্ঞানীদের মতে, বরফের স্তর পাতলা হয়ে যাওয়ার কারণে এই ভূমিধস ঘটে, এবং এর মূল কারণ হিসেবে বিজ্ঞানীরা জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করছেন।

গবেষণার সহ-লেখক স্টিফেন হিকস বলেন, গ্রিনল্যান্ডের পূর্বাঞ্চলের ডিকসন নামক একটি খাঁড়িতে এই ঘটনা ঘটে, যা বিজ্ঞানীদের অবাক করেছে। তিনি আরও বলেন, প্রথমবারের মতো পানির প্রবাহ পৃথিবীর ভূত্বকের মধ্য দিয়ে চলমান কম্পন হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। এই কম্পন পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে এবং টানা কয়েকদিন ধরে চলতে থাকে।

স্টিফেন হিকস আরও ব্যাখ্যা করেন, সাধারণত পৃথিবীর পৃষ্ঠের নানা ঘটনাকে সিসমোমিটার দ্বারা রেকর্ড করা সম্ভব হয়। তবে এই ঘটনা এত দীর্ঘ সময় ধরে সারা পৃথিবী জুড়ে চলা ভূমিকম্পের তরঙ্গ হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে, যা আগে কখনও ঘটেনি। ভূমিধসের ফলে প্রতি ৯০ সেকেন্ডে পানি সামনে-পেছনে আছড়ে পড়ছিল, যা ভূত্বকের মধ্য দিয়ে কম্পন ছড়িয়ে দেয়। গবেষণায় ধারণা করা হয়েছে, এটি সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বৃহৎ সুনামি সৃষ্টি করেছে, যার ঢেউ ১০ কিলোমিটার (৭.৪ মাইল) জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং এর উচ্চতা ছিল ১১০ মিটার, যদিও কয়েক মিনিটের মধ্যে তা ৭ মিটারে নেমে আসে।

এই ঘটনা বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব সম্পর্কে নতুন করে মানুষকে সচেতন করেছে, কারণ জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অনেক স্থিতিশীল অঞ্চলেও ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ছে। গবেষণাপত্রটি সায়েন্স সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সুনামির প্রভাবে ৯ দিন কেঁপেছে পৃথিবী: বিজ্ঞানীদের বক্তব্য

Update Time : ১০:১৫:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪
সুনামির প্রভাবে ৯ দিন কেঁপেছে পৃথিবী

 

গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে উত্তর আমেরিকার গ্রিনল্যান্ডে এক বিশাল ভূমিধসের ঘটনা ঘটে, যার ফলে সৃষ্ট সুনামি (সমুদ্রের ঢেউ) পৃথিবীকে টানা ৯ দিন ধরে কম্পিত করে। নতুন এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে, যা স্কাই নিউজে প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষকদের মতে, সেই মাসে গ্রিনল্যান্ডের ১.২ কিলোমিটার (০.৭ মাইল) উঁচু একটি পর্বতচূড়া ধসে পড়ে, যার ফলে একটি গভীর খাঁড়িতে বিশাল ঢেউ সৃষ্টি হয়। এ ঢেউয়ের কারণে পৃথিবীর ভূত্বকে দীর্ঘস্থায়ী কম্পন তৈরি হয়। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের (ইউসিএল) বিজ্ঞানীদের মতে, বরফের স্তর পাতলা হয়ে যাওয়ার কারণে এই ভূমিধস ঘটে, এবং এর মূল কারণ হিসেবে বিজ্ঞানীরা জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করছেন।

গবেষণার সহ-লেখক স্টিফেন হিকস বলেন, গ্রিনল্যান্ডের পূর্বাঞ্চলের ডিকসন নামক একটি খাঁড়িতে এই ঘটনা ঘটে, যা বিজ্ঞানীদের অবাক করেছে। তিনি আরও বলেন, প্রথমবারের মতো পানির প্রবাহ পৃথিবীর ভূত্বকের মধ্য দিয়ে চলমান কম্পন হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। এই কম্পন পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে এবং টানা কয়েকদিন ধরে চলতে থাকে।

স্টিফেন হিকস আরও ব্যাখ্যা করেন, সাধারণত পৃথিবীর পৃষ্ঠের নানা ঘটনাকে সিসমোমিটার দ্বারা রেকর্ড করা সম্ভব হয়। তবে এই ঘটনা এত দীর্ঘ সময় ধরে সারা পৃথিবী জুড়ে চলা ভূমিকম্পের তরঙ্গ হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে, যা আগে কখনও ঘটেনি। ভূমিধসের ফলে প্রতি ৯০ সেকেন্ডে পানি সামনে-পেছনে আছড়ে পড়ছিল, যা ভূত্বকের মধ্য দিয়ে কম্পন ছড়িয়ে দেয়। গবেষণায় ধারণা করা হয়েছে, এটি সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বৃহৎ সুনামি সৃষ্টি করেছে, যার ঢেউ ১০ কিলোমিটার (৭.৪ মাইল) জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং এর উচ্চতা ছিল ১১০ মিটার, যদিও কয়েক মিনিটের মধ্যে তা ৭ মিটারে নেমে আসে।

এই ঘটনা বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব সম্পর্কে নতুন করে মানুষকে সচেতন করেছে, কারণ জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অনেক স্থিতিশীল অঞ্চলেও ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ছে। গবেষণাপত্রটি সায়েন্স সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।