সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অর্থ লোপাটে মহারেকর্ড বাপ-বেটার

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১১:৫৪:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  • / ২৩৮ Time View

বাপ বেটার

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল অর্থ লোপাটে মহারেকর্ড বাপ-বেটা ছিলেন ‘মাফিয়াদের গডফাদার’।

 

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং তার পুত্রের বিরুদ্ধে অর্থ লোপাটের মহা-অভিযোগ উঠেছে। তারা দুজনই ‘মাফিয়াদের গডফাদার’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়, আসাদুজ্জামান খান কামাল কেবল দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েননি, বরং বিভিন্ন দপ্তরে নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ ঘুষ হিসেবে আদায় করেছেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে নিয়োগ বাণিজ্যে তার প্রভাব ছিল অত্যন্ত গভীর। এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতি প্রার্থী থেকে ২০-২৫ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়া হতো, আর ঘুষ না দিলে ভাইভায় ফেল করিয়ে দেওয়া হতো। এভাবে তিনি হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে তার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ভূমিকা রাখার জন্য হত্যার অভিযোগসহ কয়েকটি মামলা ইতোমধ্যে দায়ের করা হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন তার বিরুদ্ধে সব ধরনের তথ্য অনুসন্ধান শুরু করেছে।

পুলিশ সদর দপ্তর ও অপরাধ তদন্ত বিভাগও (সিআইডি) তার দুর্নীতির বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষে একটি বড় দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। সিন্ডিকেটটি তার নিয়ন্ত্রণে থেকে বিভিন্ন জেলা ও গুরুত্বপূর্ণ পদে পুলিশ কর্মকর্তাদের পদায়নে ঘুষ হিসেবে কোটি কোটি টাকা আদায় করেছে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এ সিন্ডিকেট পুলিশের এসআই ও সার্জেন্ট পদে নিয়োগের মাধ্যমে শতকোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। একটি গোপন প্রতিবেদনে পাঁচ সদস্যের একটি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অন্তত ২০০ কোটি টাকার মানি লন্ডারিংয়ের প্রমাণও পাওয়া গেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

অর্থ লোপাটে মহারেকর্ড বাপ-বেটার

Update Time : ১১:৫৪:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪
সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল অর্থ লোপাটে মহারেকর্ড বাপ-বেটা ছিলেন ‘মাফিয়াদের গডফাদার’।

 

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং তার পুত্রের বিরুদ্ধে অর্থ লোপাটের মহা-অভিযোগ উঠেছে। তারা দুজনই ‘মাফিয়াদের গডফাদার’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়, আসাদুজ্জামান খান কামাল কেবল দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েননি, বরং বিভিন্ন দপ্তরে নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ ঘুষ হিসেবে আদায় করেছেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে নিয়োগ বাণিজ্যে তার প্রভাব ছিল অত্যন্ত গভীর। এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতি প্রার্থী থেকে ২০-২৫ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়া হতো, আর ঘুষ না দিলে ভাইভায় ফেল করিয়ে দেওয়া হতো। এভাবে তিনি হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে তার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ভূমিকা রাখার জন্য হত্যার অভিযোগসহ কয়েকটি মামলা ইতোমধ্যে দায়ের করা হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন তার বিরুদ্ধে সব ধরনের তথ্য অনুসন্ধান শুরু করেছে।

পুলিশ সদর দপ্তর ও অপরাধ তদন্ত বিভাগও (সিআইডি) তার দুর্নীতির বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষে একটি বড় দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। সিন্ডিকেটটি তার নিয়ন্ত্রণে থেকে বিভিন্ন জেলা ও গুরুত্বপূর্ণ পদে পুলিশ কর্মকর্তাদের পদায়নে ঘুষ হিসেবে কোটি কোটি টাকা আদায় করেছে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এ সিন্ডিকেট পুলিশের এসআই ও সার্জেন্ট পদে নিয়োগের মাধ্যমে শতকোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। একটি গোপন প্রতিবেদনে পাঁচ সদস্যের একটি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অন্তত ২০০ কোটি টাকার মানি লন্ডারিংয়ের প্রমাণও পাওয়া গেছে।