ভোটমুখী কাশ্মীরে সেনা-জঙ্গি সংঘর্ষ, নিহত ২ জওয়ান ও ৩ জঙ্গি
- Update Time : ০২:১১:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪
- / ১৮৫ Time View

জম্মু-কাশ্মীরে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে, আর সেই সাথেই বেড়েছে জঙ্গি তৎপরতা। শনিবার সেনাবাহিনীর অভিযানে নিহত হয়েছে তিন জঙ্গি, তবে এর আগের দিন, শুক্রবার, দুই সেনা জওয়ান প্রাণ হারান জঙ্গিদের অতর্কিত হামলায়। আহত হয়েছেন আরও দুজন জওয়ান। কাশ্মীরের কিশতোয়ার জেলার জঙ্গলে এ সংঘর্ষ ঘটে। এদিকে, জম্মু-কাশ্মীর বিধানসভার আসন্ন নির্বাচনের প্রচারে আজ জম্মুর ডোডা জেলায় যাচ্ছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, যা পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে।
কিশতোয়ারে সংঘর্ষ:
গতকাল রাতে কিশতোয়ারের দুর্গম জঙ্গলে অভিযান চালায় ভারতীয় সেনাবাহিনী। খবর ছিল যে কিছু সশস্ত্র জঙ্গি সেখানে লুকিয়ে রয়েছে। সেনাবাহিনী তিন দিক থেকে জঙ্গিদের ঘিরে ফেলে তল্লাশি শুরু করলে জঙ্গিরা গুলি ছুড়তে শুরু করে। এতে চার সেনা সদস্য গুলিবিদ্ধ হন। ঘটনাস্থলেই মারা যান দুই জওয়ান—জুনিয়র কমিশনড অফিসার নায়েব সুবেদার বিপন কুমার এবং সেপাই অরবিন্দ সিং। অপর দুই আহত জওয়ানকে সেনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষের পর জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে তিন জনকে হত্যা করা হয়েছে।
বারামুল্লাতেও অভিযান:
কিশতোয়ারের মতো একই সময়, কাশ্মীরের বারামুল্লা জেলাতেও পুলিশের নেতৃত্বে যৌথ বাহিনী অভিযান চালায়। সেখানে তিন জঙ্গি নিহত হয় বলে আজ সরকারিভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। গতকাল রাতেও এই এলাকায় পুলিশের সঙ্গে জঙ্গিদের গুলি বিনিময় হয়েছিল। দুই মাস ধরে জম্মুর পাহাড়ি এলাকায় জঙ্গি তৎপরতা বেড়েছে এবং বেশ কয়েকটি নাশকতামূলক ঘটনার জন্য দায়ী তারা।
নির্বাচন বানচালের উদ্দেশ্য:
ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, জম্মু-কাশ্মীরের বিধানসভা নির্বাচন বানচাল করাই জঙ্গিদের এই কর্মকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্য। সেনাবাহিনীও এই উদ্দেশ্য ভেস্তে দিতে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। ডোডা, কাঠুয়া, কিশতোয়ার, বারামুল্লা এবং অনন্তনাগসহ বিভিন্ন অঞ্চলে চিরুনি তল্লাশি চলছে।
বিধানসভা নির্বাচন ও মোদির প্রচার:
দীর্ঘ ১০ বছর পর জম্মু-কাশ্মীর বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে, যা তিন ধাপে সম্পন্ন হবে। প্রথম পর্যায়ের ভোটগ্রহণ শুরু হবে ১৮ সেপ্টেম্বর। এই প্রেক্ষাপটে আজ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ডোডা জেলায় জনসভা করবেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও সেনাবাহিনী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। মোদির জনসভায় সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনের ঠিক আগে এমন সংঘর্ষ এবং জঙ্গি তৎপরতার বৃদ্ধি নতুন করে কাশ্মীরের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে।











