সত্যিই কি বাড়ছে বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের রাজনৈতিক দূরত্ব?
- Update Time : ১২:৩৮:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৪
- / ২০৯ Time View

প্রায় ২৫ বছর ধরে বিএনপি (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল) এবং জামায়াতে ইসলামী রাজনৈতিক মিত্র হিসেবে একসঙ্গে পথ চলেছে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনার সরকার পতনের প্রেক্ষাপটে গড়ে ওঠা এই সম্পর্কটি এখন নানা কারণে টানাপোড়েনের মুখে। সাম্প্রতিক সময়ে দল দুটির মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক এবং কৌশলগত বিষয়ে মতবিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে, যা তাদের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।
মতবিরোধের সূচনা: অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ইস্যু
গত অগাস্টের মাঝামাঝি সময়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচন আয়োজন নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে পার্থক্য প্রকটভাবে প্রকাশ পায়। জামায়াতের পক্ষ থেকে দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান ঘোষণা করেন যে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ গ্রহণ করা হবে না, বরং ক্ষমার নীতিতে চলা হবে। এই বক্তব্যের পর বিএনপির মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিএনপি মনে করে, প্রতিশোধ না নেওয়ার কথা বলা মানে আওয়ামী লীগ সরকারের অপরাধগুলোকে উপেক্ষা করা, যা তাদের রাজনৈতিক কৌশলের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ।
জামায়াতের অবস্থান: বন্ধুত্বের আহ্বান
জামায়াতে ইসলামী রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনের উপর জোর দিচ্ছে। দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান ২৮ অগাস্ট ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “প্রতিবেশী দেশ পরিবর্তন করা যায় না, তাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকা প্রয়োজন।” এ ধরনের মন্তব্য বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে অসন্তোষের কারণ হয়েছে। তারা মনে করে, জামায়াতের এই ধরনের বক্তব্য বিএনপির দীর্ঘদিনের অবস্থানের বিপরীতে যাচ্ছে এবং বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বিষয়ে নতুন করে বিভ্রান্তি তৈরি করছে।
রাজনৈতিক নেতৃত্বের অসঙ্গতি
জামায়াত আমিরের বক্তব্যের বিপরীতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সরাসরি জামায়াতের নাম না নিয়েও ইঙ্গিতপূর্ণভাবে বলেন যে কিছু রাজনৈতিক দল প্রতিবেশী দেশের প্রভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তারেক রহমান নেতাকর্মীদের এ ধরনের বিভ্রান্তি থেকে সতর্ক থাকতে আহ্বান জানান। এদিকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীও এই ইস্যুতে কঠোর বক্তব্য দেন, যা দল দুটির মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়েছে।
প্রশাসনিক পদায়ন নিয়ে বিতর্ক
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে নতুন প্রশাসনিক নিয়োগ নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে নীরব মনোমালিন্যও সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে বিএনপি-সমর্থিত একজনকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে প্রচলিত গুঞ্জনকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। যদিও পরবর্তীতে অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খানকে উপাচার্য পদে নিয়োগ দেওয়া হয়, এই ইস্যু দল দুটির মধ্যে সম্পর্কের আরও অবনতির ইঙ্গিত দেয়।
ভবিষ্যৎ সম্পর্কের গতিপ্রকৃতি
বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘদিনের মিত্র হলেও বর্তমান পরিস্থিতি তাদের রাজনৈতিক কৌশলের মধ্যে ফাটল ধরিয়েছে। দুই দলের মধ্যে মতপার্থক্যগুলো শুধু রাজনৈতিকই নয়, বরং কৌশলগত দিক থেকেও ভিন্নমুখী হয়ে উঠছে। সামনের দিনে এই মতবিরোধ আরো গভীর হলে, তা তাদের দীর্ঘদিনের জোটকে ভাঙনের পথে নিয়ে যেতে পারে।
অতএব, জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির মধ্যে এই দূরত্ব শুধুমাত্র সাময়িক কৌশলগত বিভাজন নাকি দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতার সূচনা, তা সময়ই বলে দেবে।
সূত্র: বিবিসি বাংলা











