সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মোবাইল থেকে সরিয়ে শিশুদের মাঠে ফেরাতে চায় অস্ট্রেলিয়াঃসামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বয়সসীমা বেঁধে দিচ্ছে দেশটি

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৫:৫৮:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  • / ২২২ Time View

AUSTRALIAN CHILDREN

দ্য ফুকেট নিউজ

অস্ট্রেলিয়া শিশুদের মোবাইল ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস থেকে দূরে রেখে খেলার মাঠে ফিরিয়ে আনতে নতুন পদক্ষেপ নিচ্ছে। দেশটি শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ন্যূনতম বয়সসীমা নির্ধারণের পরিকল্পনা করছে, যা তাদের মানসিক এবং শারীরিক বিকাশে সহায়তা করবে।

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর শিশুদের আসক্তি এবং এর ক্ষতিকর প্রভাব রোধে দেশটি একটি নতুন আইন প্রণয়ন করতে যাচ্ছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো শিশুদের অনলাইন জগত থেকে বের করে বাস্তবিক খেলার অভিজ্ঞতার দিকে নিয়ে যাওয়া। আলবানিজ বলেন, “আমি চাই শিশুদের খেলার মাঠে, সুইমিং পুলে, এবং টেনিস কোর্টে দেখা যাক, যেখানে তারা সত্যিকারের মানুষের সঙ্গে সময় কাটাবে এবং জীবনের মূল্যবান অভিজ্ঞতা অর্জন করবে।”

 সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আসক্তি: একটি ‘অভিশাপ’

প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ শিশুদের উপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবকে ‘অভিশাপ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, অল্প বয়সে এই মাধ্যমগুলো ব্যবহারের ফলে তারা শারীরিক ও মানসিক বিকাশের ক্ষেত্রে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি মনে করেন, শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে রাখার জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এ বিষয়ে একটি আইন প্রণয়ন করার জন্য তার সরকার কাজ করছে, যা চলতি বছরেই কার্যকর হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 বয়সসীমার নির্ধারণ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে ন্যূনতম বয়সসীমা ১৪ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে রাখার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে এখনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। মূল লক্ষ্য হলো শিশুদের ক্ষতিকর অনলাইন অভিজ্ঞতা থেকে সুরক্ষা এবং তাদেরকে বাইরে খেলাধুলা এবং অন্যান্য সামাজিক কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করা।

 সামাজিক অভিজ্ঞতা অর্জনের গুরুত্ব

প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ বলেন, “আমরা চাই তারা (শিশুরা) ডিভাইসের বদলে বাস্তবিক জগতের সঙ্গে পরিচিত হোক, এবং সেখান থেকে শিক্ষাগ্রহণ করুক।” তার মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শিশুদের সামাজিক জীবনের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, কারণ এটি তাদের বাস্তব জীবনের সম্পর্ক এবং অভিজ্ঞতা থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখছে।

 বিরোধী দলের সমর্থন

অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণশীল বিরোধী দলীয় নেতা পিটার ডাটনও এই উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি মনে করেন, শিশুদের সুরক্ষার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের বয়সসীমা নির্ধারণ করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি সরকারের এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেছেন, “এই আইন শিশুরা যাতে আরও নিরাপদ এবং সুস্থ জীবনযাপন করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।”

 ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ

অস্ট্রেলিয়ার এই উদ্যোগকে সমাজের বিভিন্ন স্তর থেকে সমর্থন জানানো হয়েছে, বিশেষত অভিভাবক ও শিক্ষাবিদরা এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তারা মনে করেন, শিশুদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য রক্ষায় এই উদ্যোগ অত্যন্ত কার্যকর হবে এবং তাদের ডিভাইস নির্ভরতা কমিয়ে আরও সামাজিক ও শারীরিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় করে তুলবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

মোবাইল থেকে সরিয়ে শিশুদের মাঠে ফেরাতে চায় অস্ট্রেলিয়াঃসামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বয়সসীমা বেঁধে দিচ্ছে দেশটি

Update Time : ০৫:৫৮:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৪
দ্য ফুকেট নিউজ

অস্ট্রেলিয়া শিশুদের মোবাইল ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস থেকে দূরে রেখে খেলার মাঠে ফিরিয়ে আনতে নতুন পদক্ষেপ নিচ্ছে। দেশটি শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ন্যূনতম বয়সসীমা নির্ধারণের পরিকল্পনা করছে, যা তাদের মানসিক এবং শারীরিক বিকাশে সহায়তা করবে।

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর শিশুদের আসক্তি এবং এর ক্ষতিকর প্রভাব রোধে দেশটি একটি নতুন আইন প্রণয়ন করতে যাচ্ছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো শিশুদের অনলাইন জগত থেকে বের করে বাস্তবিক খেলার অভিজ্ঞতার দিকে নিয়ে যাওয়া। আলবানিজ বলেন, “আমি চাই শিশুদের খেলার মাঠে, সুইমিং পুলে, এবং টেনিস কোর্টে দেখা যাক, যেখানে তারা সত্যিকারের মানুষের সঙ্গে সময় কাটাবে এবং জীবনের মূল্যবান অভিজ্ঞতা অর্জন করবে।”

 সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আসক্তি: একটি ‘অভিশাপ’

প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ শিশুদের উপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবকে ‘অভিশাপ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, অল্প বয়সে এই মাধ্যমগুলো ব্যবহারের ফলে তারা শারীরিক ও মানসিক বিকাশের ক্ষেত্রে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি মনে করেন, শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে রাখার জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এ বিষয়ে একটি আইন প্রণয়ন করার জন্য তার সরকার কাজ করছে, যা চলতি বছরেই কার্যকর হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 বয়সসীমার নির্ধারণ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে ন্যূনতম বয়সসীমা ১৪ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে রাখার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে এখনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। মূল লক্ষ্য হলো শিশুদের ক্ষতিকর অনলাইন অভিজ্ঞতা থেকে সুরক্ষা এবং তাদেরকে বাইরে খেলাধুলা এবং অন্যান্য সামাজিক কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করা।

 সামাজিক অভিজ্ঞতা অর্জনের গুরুত্ব

প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ বলেন, “আমরা চাই তারা (শিশুরা) ডিভাইসের বদলে বাস্তবিক জগতের সঙ্গে পরিচিত হোক, এবং সেখান থেকে শিক্ষাগ্রহণ করুক।” তার মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শিশুদের সামাজিক জীবনের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, কারণ এটি তাদের বাস্তব জীবনের সম্পর্ক এবং অভিজ্ঞতা থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখছে।

 বিরোধী দলের সমর্থন

অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণশীল বিরোধী দলীয় নেতা পিটার ডাটনও এই উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি মনে করেন, শিশুদের সুরক্ষার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের বয়সসীমা নির্ধারণ করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি সরকারের এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেছেন, “এই আইন শিশুরা যাতে আরও নিরাপদ এবং সুস্থ জীবনযাপন করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।”

 ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ

অস্ট্রেলিয়ার এই উদ্যোগকে সমাজের বিভিন্ন স্তর থেকে সমর্থন জানানো হয়েছে, বিশেষত অভিভাবক ও শিক্ষাবিদরা এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তারা মনে করেন, শিশুদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য রক্ষায় এই উদ্যোগ অত্যন্ত কার্যকর হবে এবং তাদের ডিভাইস নির্ভরতা কমিয়ে আরও সামাজিক ও শারীরিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় করে তুলবে।