সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাকিস্তানে বিপুল খাজানার সন্ধান: বদলে যেতে পারে গোটা দেশের অর্থনীতি

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১১:৫৮:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  • / ৪১০ Time View

Pakistani Flag

পাকিস্তানে বিপুল খাজানার সন্ধান: বদলে যেতে পারে গোটা দেশের অর্থনীতি

 

পাকিস্তানের মাটিতে এক বিপুল গুপ্তধনের সন্ধান পাওয়া গেছে, যা দেশের অর্থনীতির ভবিষ্যত বদলে দিতে পারে। দেশের আঞ্চলিক জলসীমায় বিশাল পরিমাণ পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ আবিষ্কৃত হয়েছে, যার সম্ভাব্যতা এমন যে এটি পাকিস্তানের অর্থনৈতিক দুরবস্থা থেকে মুক্তি এনে দিতে পারে। পাকিস্তানের শীর্ষ এক নিরাপত্তা কর্মকর্তার বরাতে ডন নিউজ টিভি এই তথ্য জানিয়েছে

ওই কর্মকর্তা জানান, প্রায় তিন বছরের জরিপের মাধ্যমে, একটি মিত্র দেশের সহযোগিতায় এই প্রাকৃতিক সম্পদ আবিষ্কার করা হয়েছে। দেশটির সামুদ্রিক অঞ্চলে পাওয়া এই মজুদ থেকে বিপুল পরিমাণ আয় হতে পারে, যা পাকিস্তানের অর্থনীতির ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। এই আয়কে ‘ব্লু ওয়াটার ইকোনমি’ হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা সামুদ্রিক সম্পদের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে নির্দেশ করে।

পাকিস্তানের সরকার ইতিমধ্যেই এই মজুদ উত্তোলনের জন্য আন্তর্জাতিক নিলামের ডাক দিয়েছে। খুব শীঘ্রই এই মজুদগুলোর বিস্তারিত সমীক্ষা শুরু হবে। তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কূপ খনন ও তেল উত্তোলনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বেশ কয়েক বছর লেগে যেতে পারে। দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে এই মজুদ যথেষ্ট হবে কিনা, সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ওই কর্মকর্তা জানান, এটি সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে মজুদের উৎপাদন ক্ষমতা এবং পুনরুদ্ধারের হারের ওপর।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, “যদি এটি গ্যাসের মজুদ হয়, তবে তা পাকিস্তানের এলএনজি আমদানি প্রতিস্থাপন করতে পারে। আর যদি এটি তেলের মজুদ হয়, তবে আমদানি করা তেলের চাহিদা অনেকাংশে কমে যাবে।” তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, শুধুমাত্র অনুসন্ধানের প্রক্রিয়াতেই প্রায় ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে এবং সম্পূর্ণ রিজার্ভ উত্তোলন করতে চার থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে।

বিশ্বের অন্যান্য দেশ যেমন ভেনেজুয়েলা, সৌদি আরব, ইরান, কানাডা, এবং ইরাক, বিশাল তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদের জন্য পরিচিত। তবে পাকিস্তানের এই আবিষ্কার ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের মজুদ থেকে লাভজনক ফলাফল পেতে আরও বিশাল বিনিয়োগ প্রয়োজন। কূপ খনন ও অবকাঠামো গড়ে তুলতে যে ব্যয় এবং সময় প্রয়োজন হবে, তা এই অর্থনৈতিক পরিবর্তনের পথকে দীর্ঘায়িত করতে পারে।

পাকিস্তানের প্রাক্তন তেল ও গ্যাস নিয়ন্ত্রক সংস্থার (OGRA) সদস্য মোহাম্মদ আরিফ ডন নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমরা এই আবিষ্কার নিয়ে আশাবাদী হলেও, শতভাগ নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব নয় যে এ থেকে বিপুল তেল বা গ্যাস উত্তোলন করা যাবে।” তবুও, বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পাকিস্তানের জন্য এটি একটি উল্লেখযোগ্য সুযোগ, যা দেশের শক্তি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবনের সম্ভাবনাকে নতুন মাত্রা দিতে পারে।

 

সূত্র: ডন নিউজ

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

পাকিস্তানে বিপুল খাজানার সন্ধান: বদলে যেতে পারে গোটা দেশের অর্থনীতি

Update Time : ১১:৫৮:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪
পাকিস্তানে বিপুল খাজানার সন্ধান: বদলে যেতে পারে গোটা দেশের অর্থনীতি

 

পাকিস্তানের মাটিতে এক বিপুল গুপ্তধনের সন্ধান পাওয়া গেছে, যা দেশের অর্থনীতির ভবিষ্যত বদলে দিতে পারে। দেশের আঞ্চলিক জলসীমায় বিশাল পরিমাণ পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ আবিষ্কৃত হয়েছে, যার সম্ভাব্যতা এমন যে এটি পাকিস্তানের অর্থনৈতিক দুরবস্থা থেকে মুক্তি এনে দিতে পারে। পাকিস্তানের শীর্ষ এক নিরাপত্তা কর্মকর্তার বরাতে ডন নিউজ টিভি এই তথ্য জানিয়েছে

ওই কর্মকর্তা জানান, প্রায় তিন বছরের জরিপের মাধ্যমে, একটি মিত্র দেশের সহযোগিতায় এই প্রাকৃতিক সম্পদ আবিষ্কার করা হয়েছে। দেশটির সামুদ্রিক অঞ্চলে পাওয়া এই মজুদ থেকে বিপুল পরিমাণ আয় হতে পারে, যা পাকিস্তানের অর্থনীতির ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। এই আয়কে ‘ব্লু ওয়াটার ইকোনমি’ হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা সামুদ্রিক সম্পদের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে নির্দেশ করে।

পাকিস্তানের সরকার ইতিমধ্যেই এই মজুদ উত্তোলনের জন্য আন্তর্জাতিক নিলামের ডাক দিয়েছে। খুব শীঘ্রই এই মজুদগুলোর বিস্তারিত সমীক্ষা শুরু হবে। তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কূপ খনন ও তেল উত্তোলনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বেশ কয়েক বছর লেগে যেতে পারে। দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে এই মজুদ যথেষ্ট হবে কিনা, সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ওই কর্মকর্তা জানান, এটি সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে মজুদের উৎপাদন ক্ষমতা এবং পুনরুদ্ধারের হারের ওপর।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, “যদি এটি গ্যাসের মজুদ হয়, তবে তা পাকিস্তানের এলএনজি আমদানি প্রতিস্থাপন করতে পারে। আর যদি এটি তেলের মজুদ হয়, তবে আমদানি করা তেলের চাহিদা অনেকাংশে কমে যাবে।” তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, শুধুমাত্র অনুসন্ধানের প্রক্রিয়াতেই প্রায় ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে এবং সম্পূর্ণ রিজার্ভ উত্তোলন করতে চার থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে।

বিশ্বের অন্যান্য দেশ যেমন ভেনেজুয়েলা, সৌদি আরব, ইরান, কানাডা, এবং ইরাক, বিশাল তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদের জন্য পরিচিত। তবে পাকিস্তানের এই আবিষ্কার ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের মজুদ থেকে লাভজনক ফলাফল পেতে আরও বিশাল বিনিয়োগ প্রয়োজন। কূপ খনন ও অবকাঠামো গড়ে তুলতে যে ব্যয় এবং সময় প্রয়োজন হবে, তা এই অর্থনৈতিক পরিবর্তনের পথকে দীর্ঘায়িত করতে পারে।

পাকিস্তানের প্রাক্তন তেল ও গ্যাস নিয়ন্ত্রক সংস্থার (OGRA) সদস্য মোহাম্মদ আরিফ ডন নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমরা এই আবিষ্কার নিয়ে আশাবাদী হলেও, শতভাগ নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব নয় যে এ থেকে বিপুল তেল বা গ্যাস উত্তোলন করা যাবে।” তবুও, বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পাকিস্তানের জন্য এটি একটি উল্লেখযোগ্য সুযোগ, যা দেশের শক্তি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবনের সম্ভাবনাকে নতুন মাত্রা দিতে পারে।

 

সূত্র: ডন নিউজ